শুরুতেই এমন একটা তথ্য, যা এই দেশটি নিয়ে অনলাইনে লেখা বেশিরভাগ কথা বাতিল করে দেয়: Botswana স্টাডি পারমিট বলে কিছু দেয়ই না। দেশটির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এক লাইনে লিখে রেখেছে — আপনার রেসিডেন্স পারমিটই আপনার স্টাডি পারমিট। কেউ যদি আপনাকে "Botswana স্টাডি পারমিট সার্ভিস" বেচতে চান, তিনি এমন একটা কাগজ বেচছেন যার অস্তিত্ব নেই। ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশ থেকে Botswana স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে খোঁজ করলে প্রথমে এটাই পরিষ্কার করে নিন। আর দ্বিতীয় কথা — Botswana আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্থানীয় হারের ঠিক দ্বিগুণ নেয়, অথচ স্নাতকোত্তরে বাড়তি নেয় তার প্রায় অর্ধেক।
Botswana কোনো স্টাডি পারমিট দেয় না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রওনা হওয়ার আগে এন্ট্রি ভিসার আবেদন করেন — ইমিগ্রেশন সাপোর্ট Form D আর BWP ৫০০ ফি দিয়ে; এরপর ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের পরে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করেন, ইমিগ্রেশনকে দেন P১,৫০০। University of Botswana-তে non-resident স্নাতক শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বছরে দেন P৭৪,৭০০ — স্থানীয় হারের দ্বিগুণ।
স্টাডি পারমিট না থাকলে আবেদনটা কিসের জন্য করব?
আলাদা দুটি জিনিসের জন্য, এই ক্রমে।
প্রথমে এন্ট্রি ভিসা, রওনা হওয়ার আগে। University of Botswana পরামর্শ দেয়, নিজের দেশে Botswana-র মিশনে খোঁজ নিয়ে জেনে নিন আদৌ ভিসা লাগবে কি না; এরপর তারা শর্তগুলো দেয় — পুরোপুরি পূরণ করা ইমিগ্রেশন সাপোর্ট Form D, পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ও মেয়াদ দেখানো পাতার সত্যায়িত কপি, দুই কপি একই রকম পাসপোর্ট ছবি, হোস্টের কভারিং লেটার, এয়ারলাইন ইটিনারারির কপি, ভর্তির চিঠি, স্পনসরশিপ লেটার, আর জনপ্রতি BWP ৫০০ আবেদন ফি।
এরপর রেসিডেন্স পারমিট, যেটির জোরে আপনি থাকতে ও পড়তে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা স্পষ্ট: আবেদন "প্রক্রিয়া করা হবে কেবল University of Botswana-তে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণ পাওয়ার পরে।"
আপনি এন্ট্রি ভিসায় Botswana-তে পৌঁছান, বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করেন, তারপর আপনার থাকার অনুমতির কাগজ জমা পড়ে। Namibia আর Mauritius-এর ক্ষেত্রেও আমরা ঠিক এই ক্রমটাই নথিভুক্ত করেছি — ইমিগ্রেশনের ধাপটা চালায় গন্তব্য দেশের প্রতিষ্ঠান, ঢাকার কোনো এজেন্ট নয়। UB পরিষ্কার লিখেছে, "রেজিস্ট্রেশনের পরে ইন্টারন্যাশনাল অফিস সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদনে সহায়তা করবে।" বাংলাদেশে বসে কেউ এটি জমা দিতে পারবেন না, কারণ রেজিস্ট্রেশনের আগে জমা দেওয়াই যায় না।
রেসিডেন্স পারমিটের ফাইলে কী থাকে?
- ভর্তির চিঠির কপি
- স্পনসরশিপ লেটারের কপি
- দুই কপি পাসপোর্ট ছবি
- পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ও মেয়াদ দেখানো পাতার সত্যায়িত কপি
- জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি
- ইমিগ্রেশন সেবার জন্য P১,৫০০ পরিশোধ
- International Education and Partnerships অফিসের চিঠি
এই তালিকার সঙ্গে তিনটি সতর্কতা জুড়ে আছে, সবই UB-র নিজের ভাষায়। জরুরি ভ্রমণ দলিল গ্রহণ করা হবে না — কেবল বৈধ পাসপোর্ট। সত্যায়িত কপি সঙ্গে নিয়ে যান, যাতে Gaborone-এ গিয়ে দেরি আর সত্যায়নের খরচ এড়ানো যায়। আর পুরো সময়জুড়ে পারমিটের মেয়াদ ঠিক রাখার দায়িত্ব শিক্ষার্থীর; মেয়াদ ফুরানোর সময় কেউ মনে করিয়ে দেবে না।
ক্রম অনুযায়ী সাজালে পুরো প্রক্রিয়াটা চলে এভাবে:

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে University of Botswana কত নেয়?
Botswana শিক্ষার্থীদের ভাগ করে প্রতিবেশীদের চেয়ে আলাদাভাবে। Namibia ব্যবহার করে SADC জোট; Botswana-র ভাগ "Resident and African Students" বনাম "Non-Resident Students" — আঞ্চলিক নয়, মহাদেশীয় সীমারেখা। বাংলাদেশ পড়ে non-resident ধাপে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫/২৬ Schedule of Fees অনুযায়ী:
| প্রোগ্রাম | Resident / African | Non-Resident | গুণক |
|---|---|---|---|
| স্নাতক — সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং | ৩৭,২০০ | ৭৪,৭০০ | ২.০× |
| স্নাতক — School of Medicine | ৪১,৪০০ | ৮২,৫০০ | ২.০× |
| স্নাতক — অন্যান্য অনুষদ | ২৮,২০০ | ৫৬,১০০ | ২.০× |
| স্নাতকোত্তর — অন্যান্য অনুষদ | ২৬,১৬০ | ৩৯,৩৬০ | ১.৫× |
| স্নাতকোত্তর — সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং | ৩৩,১২০ | ৪৯,৬৮০ | ১.৫× |
| MBA | ৩৭,৯২০ | ৫৭,১২০ | ১.৫× |
| স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা | ৩০,৩০০ | ৪৫,৬০০ | ১.৫× |
ডান দিকের কলামটা পড়লেই এমন একটা ছক ধরা পড়ে, যা নিয়ে কেউ লেখে বলে মনে হয় না: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বাড়তি হার স্নাতকে ২ গুণ থেকে নেমে স্নাতকোত্তরে দাঁড়ায় প্রায় ১.৫ গুণে। কোথায় মাস্টার্স করা সাধ্যের মধ্যে, সেটা যাঁরা হিসাব করছেন, তাঁদের জন্য এটা সত্যিকারের তথ্য — Botswana-তে বাড়তি চাপ সবচেয়ে কম ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে বেশিরভাগ বাংলাদেশি আবেদনকারী তাকিয়ে আছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় বড় হরফে যে শর্তটি ছেপেছে, সেটি জরুরি: UB-র টিউশন নির্ধারিত হয় আপনি কত ক্রেডিট নিচ্ছেন তার ভিত্তিতে, আর ওপরের বার্ষিক অঙ্কগুলো স্নাতকে ৩০ ও স্নাতকোত্তরে ২৪ ক্রেডিটের সর্বনিম্ন লোড ধরে করা আনুমানিক হিসাব। বেশি লোড নিলে খরচ বাড়বে। non-resident প্রতি ক্রেডিট হার: সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে P২,৪৯০, মেডিসিনে P২,৭৫০, অন্যান্য অনুষদে P১,৮৭০। তালিকায় আরও সতর্ক করা আছে, কিছু কোর্সে "স্বাভাবিক টিউশনের বাইরে" আলাদা এক্সকারশন ফি বসে। এগুলো ২০২৫/২৬-এর অঙ্ক — ২০২৬/২৭-এর তালিকা এলে বদলে যাবে।
বিলে আর কী কী যোগ হয়?
ছোট ফিগুলোতেই Botswana একটু আলাদা আচরণ করে। আবেদন ফি সবার জন্যই P২৫০, resident হোন বা non-resident — বিদেশিদের জন্য বাড়তি না নেওয়া হাতে গোনা কয়েকটি খাতের একটি। কিন্তু দেরিতে আবেদন করলে ভাগ হয়ে যায়: resident-দের P৫২০, non-resident-দের P১,০৩০। স্নাতকের আবাসন বছরে P৭,৭৪০; স্নাতকোত্তর হোস্টেল P১৩,০৮০, ছুটিসহ P১৮,৭২০। লন্ড্রি বছরে P৮৩০, স্টুডেন্ট লাইফ ফি P১৩০, পরিচয়পত্র P৭০, ট্রান্সক্রিপ্ট P৫০ আর সমাবর্তন P২২০। দেরিতে রেজিস্ট্রেশনে নতুন শিক্ষার্থীর দিনে P১২০, পুরোনোদের P২১০ — সর্বোচ্চ চৌদ্দ দিন।
দেরিতে আবেদন করলে non-resident-দের খরচ resident-দের তুলনায় প্রায় চার গুণ, আর তারপর দেরিতে রেজিস্ট্রেশনের হিসাব চলে দিন ধরে। UB আরও লিখেছে, "সময়মতো আবেদন পেলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সবসময়ই পাওয়া যায়" — একটি বিশ্ববিদ্যালয় যতটা ভদ্রভাবে বলতে পারে, দেরি করলে উল্টোটা ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় সময়সীমা মেনে চলাই সবচেয়ে সস্তা কাজ, আর না মানাই সবচেয়ে দামি ভুল।
ক্যাম্পাসে পৌঁছাব কীভাবে, কেউ কি নিতে আসবে?
উনিশ বছরের একজন তরুণ যখন একা অন্য মহাদেশে নামেন, তখন এই ছোট ব্যাপারটাই বড় হয়ে ওঠে। UB-র ইন্টারন্যাশনাল অফিস বিমানবন্দর বা বাস টার্মিনাল থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসে, শর্ত হলো — এয়ারলাইন, ফ্লাইট নম্বর আর পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ-সময় অন্তত তিন সপ্তাহ আগে ইমেইল করতে হবে, আর পৌঁছাতে হবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে। এর বাইরে পৌঁছালে বা আগে না জানালে নিজেকেই ব্যবস্থা করতে হয় — বিমানবন্দর থেকে প্রাইভেট ট্যাক্সিতে বিশ মিনিটের পথে খরচ প্রায় ১৫ থেকে ২০ ডলার।
আবেদন কোথা থেকে করব, আর Apostille কি চলে?
Botswana ১৯৬১ সালের Apostille Convention-এর পক্ষ — ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে কার্যকর, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ HCCH-এর স্ট্যাটাস টেবিল থেকে মিলিয়ে দেখা — আর বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি জানানো বারোটি দেশের মধ্যে নেই। তাই বাংলাদেশ থেকে নেওয়া apostille-ই আপনার সনদের সঠিক পথ হওয়ার কথা। খেয়াল রাখুন, UB আলাদাভাবে সত্যায়িত কপিও চায় — সত্যায়ন আর apostille আলাদা ধাপ, আর সম্ভবত দুটোই লাগবে।
অনিশ্চিত, তবে গুরুত্বপূর্ণ: বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ফাইল Botswana-র কোন মিশন দেখে, সেটি আমরা যাচাই করতে পারিনি। New Delhi-তে Botswana-র হাইকমিশন আছে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোর ছক দেখে বাংলাদেশের জন্য সমান্তরাল দায়িত্ব থাকা অসম্ভব নয় — কিন্তু Botswana সরকারের কোনো পাতায় আমরা তা নিশ্চিত হইনি, তাই দাবিও করছি না। এখানে UB-র নিজের পরামর্শই ঠিক নির্দেশ: অন্য কিছু করার আগে নিজের দেশে Botswana-র মিশনে খোঁজ নিন। ভিসা-অ্যাগ্রিগেটর ওয়েবসাইটে দেওয়া কোনো ঠিকানায় যাচাই না করে যাবেন না; বাংলাদেশে এমন দূতাবাসের ঠিকানা ছাপা হওয়ার তিনটি আলাদা ঘটনা আমরা নথিভুক্ত করেছি, যেগুলোর পক্ষে কোনো সরকারি সূত্র নেই।
Botswana কি বাস্তবসম্মত বিকল্প?
Botswana যেসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে — খনি ও ভূতত্ত্ব, ভেটেরিনারি সায়েন্স, জনস্বাস্থ্য, ব্যবসা — সেসব বিষয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর জন্য বাংলাদেশি কনসালটেন্সি ওয়েবসাইটে দেশটির অনুপস্থিতি যতটা ইঙ্গিত দেয়, বাস্তবতা তার চেয়ে ভালো। ইংরেজি মাধ্যম, স্থিতিশীল, ফি প্রকাশিত, আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে বিমানবন্দরে নিতে আসে। স্নাতকের ক্ষেত্রে অবশ্য দ্বিগুণ হার আর দূরত্ব মিলে সিদ্ধান্তটা কঠিন হয়ে যায় — যদি না বিষয়টা সত্যিই মিলে যায়।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি: যেসব দেশ নিয়ে কেউ প্রচার করে না, সেখানেই প্রায়ই একটা আবেদন আলাদা করে চোখে পড়ে, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা দশ হাজার একরকম ফাইল ঘাঁটতে হয় না। তবে এর উল্টো দিকও আছে — প্রতিযোগিতা কম, কিন্তু পৌঁছে গিয়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো লোকও কম, আর প্রতিষ্ঠিত কোনো বাংলাদেশি কমিউনিটি নেই যারা আপনাকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবে। এই বিনিময়টা আপনার জন্য ঠিক কি না, সেটা নম্বরের মতোই স্বভাবেরও প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Namibia স্টুডেন্ট ভিসা — পাশের দেশ, একই দ্বিগুণ-হারের যুক্তি, তবে পারমিটের ক্রম আলাদা · বিদেশের ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় চেনার উপায়
দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে মাস্টার্সের কথা ভাবছেন?
Botswana-র স্নাতকোত্তরের অঙ্ক বেশিরভাগ পরিবারের ধারণার চেয়ে ভালো, আবার ক্রেডিট আর এক্সকারশন ফি যোগ করলে অ্যাগ্রিগেটর সাইটের দাবির চেয়ে খারাপ। ট্রান্সক্রিপ্ট, পছন্দের বিষয় আর সত্যিকারের বাজেট নিয়ে আসুন; আমরা হিসাব করে দেব পুরো এক বছরে আপনার আসলে কত লাগবে, আপনার ফাইল কোন মিশন দেখবে, আর সত্যায়নের শর্ত আপনার কাগজ টিকবে কি না। অন্য কোনো দেশ বেশি মানানসই হলে সেটাও বলব।
ফ্রি পরামর্শ নিন →দ্রষ্টব্য: এটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা, Eduvisa এখন Botswana-র আবেদন প্রক্রিয়া করে — এমন ঘোষণা নয়। ফি নেওয়া হয়েছে University of Botswana-র ২০২৫/২৬ Schedule of Fees ও তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাতা থেকে। ইমিগ্রেশনের নিয়ম ঠিক করে Botswana-র Department of Immigration, আর তা আগাম ঘোষণা ছাড়াই বদলায়। কাজ শুরুর আগে প্রতিটি তথ্য যাচাই করে নিন।