মূল অংশে যান
← ব্লগে ফিরে যান

চীনের CSC স্কলারশিপ: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ২০২৭-২৮ গাইড

২০২৭-২৮ সেশনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য Chinese Government Scholarship (CSC): কী কী দেয়, জানুয়ারির শেষ তারিখ, agency number-এর ফাঁদ, আর MBBS-এ BMDC-র শর্ত।

প্রকাশিত 28 Sep, 2026 China

Read in English →
চীনের CSC স্কলারশিপ: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ২০২৭-২৮ গাইড

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস নিজেদের সরকারি ওয়েবসাইটে ছোট্ট একটা নোটিশ দেয়। তাতে Chinese Government Scholarship-এর ঘোষণা ছিল, শেষ তারিখ লেখা ছিল — ১০ জানুয়ারি ২০২৬ — আর বলা ছিল আবেদন করতে হবে China Scholarship Council-এর পোর্টালে অনলাইনে। মোট তিন সপ্তাহ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর এই সময়টাই পান, আর জানালাটা খোলে তখন, যখন তাঁদের বেশিরভাগই পরের সেপ্টেম্বর নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন মাত্র। স্কলারশিপটা অবশ্য পৃথিবীর উদারতম কয়েকটির একটি — টিউশন, হলের সিট, মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, মাসিক ভাতা আর যাওয়া-আসার বিমান টিকিট।

CNY ২,৫০০–৩,৫০০স্তর অনুযায়ী মাসিক ভাতা
১০ জানুয়ারিঢাকার দূতাবাসের শেষ call-এর তারিখ
৭ নভেম্বর ২০২৩চীনে Apostille Convention কার্যকর হওয়ার তারিখ

Chinese Government Scholarship আসলে কী কী দেয়?

বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস নিজের ঘোষণায় পাঁচটি জিনিসের নাম লিখেছে: পুরো টিউশন ফি, ক্যাম্পাসের ভেতরে আবাসন, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, প্রোগ্রামের স্তর অনুযায়ী মাসে প্রায় CNY ২,৫০০–৩,৫০০ ভাতা, এবং আন্তর্জাতিক যাওয়া-আসার বিমানভাড়া।

শেষ জিনিসটার দিকে একটু থামা দরকার, কারণ এটা সাধারণত পাওয়া যায় না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা বেশিরভাগ full-funded স্কলারশিপে বিমানভাড়ার ভার পরিবারের ওপরই থাকে। চীনের প্যাকেজে যাওয়া-আসার টিকিট স্পষ্ট করে লেখা। জেলা শহরের যে পরিবার পাসপোর্ট, মেডিকেল আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের খরচ টানতেই হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য একটা ফ্লাইটের টাকা কমে যাওয়া হিসাবটাই বদলে দেয়।

দূতাবাসের নোটিশে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও PhD-র পাশাপাশি এক বছরের Chinese ভাষা প্রোগ্রামও আছে — আর এই পথটাই মানুষ খেয়াল করেন না। ভাষার বছরটা সান্ত্বনা পুরস্কার নয়; যিনি পরে Chinese ভাষায় ডিগ্রি করতে চান, তাঁর জন্য চীন আদৌ মানানসই কি না বুঝে নেওয়ার সবচেয়ে সস্তা উপায় এটাই।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কোন পথে আবেদন করেন?

ঢাকার ঘোষণা এই জায়গায় নির্দিষ্ট: সব আবেদনকারীকে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে China Scholarship Council-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.campuschina.org-এ, অনলাইনে। নোটিশের শিরোনামে লেখা CGS / CSC Type A — অর্থাৎ যে চ্যানেলটি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং দূতাবাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

ঘোষণায় দুটো জিনিস নেই, আর সেই দুটোতেই প্রতি বছর মানুষ হোঁচট খান:

দ্বিতীয় ফাঁকটা কাগজপত্রের। নোটিশ বলছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হবে, কিন্তু কাগজের তালিকা দেয় না। পোর্টাল দেয় — প্রোগ্রাম ধরে ধরে, আর স্তর অনুযায়ী তালিকা বদলায়। কোনো এজেন্সির সাধারণ তালিকা নয়, আপনার নিজের স্তরের জন্য পোর্টালের তালিকা দেখেই ফাইল গড়ুন।

যা নিশ্চিত নয়: মাসিক ভাতার স্তরভিত্তিক ভাগ। CNY ২,৫০০–৩,৫০০ সীমাটাই ঢাকার দূতাবাস প্রকাশ করে। অনলাইনে স্নাতকে ২,৫০০, স্নাতকোত্তরে ৩,০০০ আর PhD-তে ৩,৫০০ — এমন তিন স্তরের ভাগ ব্যাপকভাবে ঘোরে, কিন্তু ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ চীন সরকারের চলতি কোনো পাতায় আমরা সেটি যাচাই করতে পারিনি। তাই সীমাটাকেই হিসাব ধরুন, আর নিজের স্তরের অঙ্ক পোর্টালে মিলিয়ে নিন।

২০২৭-২৮ সেশনের শেষ তারিখ কত?

এখনো প্রকাশিত হয়নি। বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের সাইটে আমরা যে সাম্প্রতিকতম call দেখতে পাই, তা ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত, শেষ তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৬। ২০২৭-২৮ সেশনের কোনো ঘোষণা এখনো নেই — যা স্বাভাবিক, কারণ ছাঁদটা হলো ডিসেম্বরে নোটিশ আর জানুয়ারির প্রথমার্ধে শেষ তারিখ।

ধাপসময়নিশ্চিত?
দূতাবাসের নোটিশ প্রকাশ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫প্রকাশিত
আবেদনের শেষ দিন১০ জানুয়ারি ২০২৬প্রকাশিত
আবেদন শুরুর তারিখনোটিশে লেখা নেইনা
ফলাফলনোটিশে লেখা নেইনা
২০২৭-২৮ সেশনের তারিখঘোষণা হয়নিনা

তাই ব্যবহারিক পরামর্শটা নিজেই বেরিয়ে আসে: ২০২৭-২৮ সেশনে চীন লক্ষ্য করলে আপনার ফাইল নভেম্বর ২০২৬-এর শেষেই সম্পূর্ণ থাকতে হবে। শুরু করা নয় — সম্পূর্ণ। ডিসেম্বরের নোটিশ আর জানুয়ারির শেষ তারিখের মাঝে ট্রান্সক্রিপ্টের পেছনে ছোটার সময় থাকে না।

Chinese Government Scholarship-এর আবেদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র সাজাচ্ছেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
ডিসেম্বরের নোটিশ আর জানুয়ারির শেষ তারিখ পুরস্কার দেয় সেই ফাইলকে, যেটা আগেই তৈরি ছিল।

ভাতার অঙ্কটা টাকায় কত?

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ Wise-এর mid-market রেট ১ CNY = ১৮.৩৪ টাকা ধরে প্রকাশিত সীমাটা এভাবে দাঁড়ায়। টাকার অঙ্ক চীনের yuan-এর হিসাবের ওপর আমাদের গণনা — চীন নিজে টাকায় কিছু বলে না:

খাতYuanটাকা (প্রায়)
ভাতা, নিচের সীমাCNY ২,৫০০ / মাস৳৪৫,৯০০
ভাতা, ওপরের সীমাCNY ৩,৫০০ / মাস৳৬৪,২০০
১২ মাসে ভাতা, নিচের সীমাCNY ৩০,০০০৳৫,৫০,০০০
টিউশন, হল, ইনস্যুরেন্স, টিকিটস্কলারশিপে অন্তর্ভুক্ত৳০

থাকার ব্যবস্থা ক্যাম্পাসেই আর তার খরচও আগেই দেওয়া — তাই ভাতার প্রায় পুরোটাই হাতে থাকে। এই কারণেই চীনে CGS পাওয়া শিক্ষার্থী মাসের হিসাবে পশ্চিম ইউরোপের আংশিক ফান্ডিং পাওয়া শিক্ষার্থীর চেয়ে ভালো থাকতে পারেন — যেখানে বড় ভাতাটা বাসা ভাড়াতেই মিলিয়ে যায়।

এই স্কলারশিপে কি চীনে MBBS পড়া যায়?

বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্যগুলোর একটি চীন, তাই সরাসরি উত্তরটা দরকার: আপনার ফান্ডিং যা-ই হোক, বিদেশে MBBS শুরু করার আগে বাংলাদেশের একটা দরজা পার হতে হবে, আর দেশে ফিরে আরেকটা।

আমরা কথাটা সোজাভাবে বলি, কারণ না জানার দাম হলো এমন একটা ডিগ্রি যা দিয়ে আপনি রেজিস্ট্রেশনই করতে পারবেন না। চীনে মেডিকেলই যদি পরিকল্পনা হয়, তবে আগে বাংলাদেশে BMDC-র দিকটা মিটিয়ে নিন, স্কলারশিপ তার পরে।

বাংলাদেশি apostille এখন চীনে চলে কি?

হ্যাঁ — আর এটা এমন একটা সাম্প্রতিক পরিবর্তন, যা অনেক গাইড এখনো ধরতে পারেনি। ১৯৬১ সালের Hague Apostille Convention গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জন্য কার্যকর হয়েছে ৭ নভেম্বর ২০২৩ থেকে। বাংলাদেশের যোগদান কার্যকর ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে, আর তাতে আপত্তি জানানো বারোটি দেশের মধ্যে চীন নেই।

অর্থাৎ চীনের বিশ্ববিদ্যালয় বা CSC পোর্টালের জন্য বাংলাদেশি একাডেমিক কাগজে বাংলাদেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের একটি apostille-ই স্বীকৃত পথ — চীনা দূতাবাসের কনস্যুলার কাউন্টারে শেষ হওয়া পুরনো শিকলটার বদলে। একটি ধাপ, একটি ফি, আর ঠিক সেই ডিসেম্বরে কয়েক সপ্তাহ বাঁচে, যখন এক দিনও নষ্ট করার উপায় নেই।

কার্যকর হওয়ার তারিখগুলো HCCH-এর Apostille status table থেকে পড়া হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ; আপত্তির তালিকা HCCH notifications register থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ। বিশ্ববিদ্যালয় কখনো নিজের মতো নির্দিষ্ট ফরম্যাট চায়, তাই টাকা দেওয়ার আগে ভর্তি-দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

ফর্ম খোলার আগে ফাইলে কী কী থাকা দরকার?

১
দূতাবাসের শিক্ষা শাখা থেকে agency number আর চলতি call নিশ্চিত করুন। বাকি সবকিছু এটা ঠিক হওয়ার ওপর নির্ভর করে।
২
আপনার স্তরে CGS শিক্ষার্থী নেয় এমন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম বাছাই করুন। সব প্রতিষ্ঠান সব চ্যানেল নেয় না, আর চ্যানেলের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো আবেদনও বৃথা যায়।
৩
সার্টিফিকেট আর ট্রান্সক্রিপ্টে apostille করান। অক্টোবর-নভেম্বরে, ডিসেম্বরে নয়।
৪
মেডিকেল পরীক্ষার ফর্ম আর ভাষার প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন। Chinese ভাষার প্রোগ্রামে HSK, নইলে প্রতিষ্ঠানের নিজের English শর্ত।
৫
দু'টি একাডেমিক রেফারেন্স চিঠি ঠিকভাবে লেখান। যে শিক্ষক আপনাকে ভালো চেনেন না, তাঁর তাড়াহুড়ো করে লেখা চিঠি দূর থেকেই ধরা পড়ে।
  • যথেষ্ট মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট
  • Apostille করা সর্বোচ্চ ডিগ্রির সার্টিফিকেট ও পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট
  • Foreigner Physical Examination Form, পূরণ ও সিলমোহর করা
  • প্রোগ্রাম অনুযায়ী ভাষার প্রমাণ (HSK বা English)
  • দু'টি একাডেমিক রেফারেন্স চিঠি
  • Study plan বা research proposal — নির্দিষ্ট বিভাগকে মনে রেখে লেখা
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স / non-criminal record সার্টিফিকেট
  • আপনার স্তরের জন্য পোর্টালে চাওয়া প্রোগ্রাম-নির্দিষ্ট বাড়তি কাগজ

স্কলারশিপ কী কী দেয় না?

বাংলাদেশে পাসপোর্ট আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের খরচ। Apostille-এর ফি। স্টুডেন্ট ভিসা নিজেই — স্কলারশিপ পাওয়া একাডেমিক সিদ্ধান্ত, আর X1 বা X2 ভিসা আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া, নিজের কাগজ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে। চীনে পৌঁছে যে residence permit নিতে হয়, সেটাও। চীনের ভেতরে যাতায়াতের খরচ। আর ভাতা আসতে শুরু করার আগের কয়েকটা সপ্তাহ।

Eduvisa-তে আমরা যা দেখি

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর চীনের স্কলারশিপ হাতছাড়া হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ দুর্বল ট্রান্সক্রিপ্ট নয়। কারণটা ডিসেম্বরের হুড়োহুড়ি: নোটিশ আসে, পরিবার কাগজ জোগাড় শুরু করে, apostille-এ সবার ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগে, আর ১০ জানুয়ারির সময়সীমা অসম্পূর্ণ ফাইল নিয়েই পার হয়ে যায়। যাঁরা পান, তাঁরা নভেম্বরকেই শেষ তারিখ ধরেন। এই আলোচনাটা আমরা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নয়, সেপ্টেম্বরেই শিক্ষার্থীর সঙ্গে করতে চাই।

এই গাইডের অফিশিয়াল সূত্র: বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের Chinese Government Scholarship ঘোষণা (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫), এবং HCCH Apostille Convention status table।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে চীনের স্টুডেন্ট ভিসা · বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য Stipendium Hungaricum

এই লেখাটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ-গবেষণা। Eduvisa এই মুহূর্তে চীনের আবেদন প্রসেস করে — এমন কোনো প্রতিশ্রুতি এটি নয়। জিজ্ঞেস করলে আমরা স্পষ্ট করেই বলব কোনটা আমরা করি আর কোনটা করি না।

২০২৭-২৮ সেশনে চীন ভাবছেন? শুরু করুন অক্টোবরে, ডিসেম্বরে নয়।

ট্রান্সক্রিপ্ট নিয়ে আসুন — জানুয়ারির শেষ তারিখ থেকে পিছিয়ে আমরা আসল সময়সূচিটা এঁকে দেব: কোন কাগজে apostille লাগবে, কোন স্তরে আপনি প্রতিযোগিতায় টিকবেন, আর মেডিকেল হলে BMDC-র শর্ত আপনার ক্ষেত্রে কীভাবে পড়ে।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন