১৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস নিজেদের সরকারি ওয়েবসাইটে ছোট্ট একটা নোটিশ দেয়। তাতে Chinese Government Scholarship-এর ঘোষণা ছিল, শেষ তারিখ লেখা ছিল — ১০ জানুয়ারি ২০২৬ — আর বলা ছিল আবেদন করতে হবে China Scholarship Council-এর পোর্টালে অনলাইনে। মোট তিন সপ্তাহ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর এই সময়টাই পান, আর জানালাটা খোলে তখন, যখন তাঁদের বেশিরভাগই পরের সেপ্টেম্বর নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন মাত্র। স্কলারশিপটা অবশ্য পৃথিবীর উদারতম কয়েকটির একটি — টিউশন, হলের সিট, মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, মাসিক ভাতা আর যাওয়া-আসার বিমান টিকিট।
Chinese Government Scholarship (CGS, যাকে অনেকে CSC scholarship বলেন) দেয় পুরো টিউশন ফি, ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা, পূর্ণ মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, স্তর অনুযায়ী মাসে প্রায় CNY ২,৫০০–৩,৫০০ ভাতা, আর আন্তর্জাতিক যাওয়া-আসার টিকিট। বাংলাদেশি আবেদনকারীরা আবেদন করেন China Scholarship Council-এর পোর্টালে। ঢাকার দূতাবাসের সর্বশেষ প্রকাশিত শেষ তারিখ ছিল ১০ জানুয়ারি ২০২৬।
Chinese Government Scholarship আসলে কী কী দেয়?
বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস নিজের ঘোষণায় পাঁচটি জিনিসের নাম লিখেছে: পুরো টিউশন ফি, ক্যাম্পাসের ভেতরে আবাসন, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, প্রোগ্রামের স্তর অনুযায়ী মাসে প্রায় CNY ২,৫০০–৩,৫০০ ভাতা, এবং আন্তর্জাতিক যাওয়া-আসার বিমানভাড়া।
শেষ জিনিসটার দিকে একটু থামা দরকার, কারণ এটা সাধারণত পাওয়া যায় না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা বেশিরভাগ full-funded স্কলারশিপে বিমানভাড়ার ভার পরিবারের ওপরই থাকে। চীনের প্যাকেজে যাওয়া-আসার টিকিট স্পষ্ট করে লেখা। জেলা শহরের যে পরিবার পাসপোর্ট, মেডিকেল আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের খরচ টানতেই হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য একটা ফ্লাইটের টাকা কমে যাওয়া হিসাবটাই বদলে দেয়।
দূতাবাসের নোটিশে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও PhD-র পাশাপাশি এক বছরের Chinese ভাষা প্রোগ্রামও আছে — আর এই পথটাই মানুষ খেয়াল করেন না। ভাষার বছরটা সান্ত্বনা পুরস্কার নয়; যিনি পরে Chinese ভাষায় ডিগ্রি করতে চান, তাঁর জন্য চীন আদৌ মানানসই কি না বুঝে নেওয়ার সবচেয়ে সস্তা উপায় এটাই।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কোন পথে আবেদন করেন?
ঢাকার ঘোষণা এই জায়গায় নির্দিষ্ট: সব আবেদনকারীকে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে China Scholarship Council-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.campuschina.org-এ, অনলাইনে। নোটিশের শিরোনামে লেখা CGS / CSC Type A — অর্থাৎ যে চ্যানেলটি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং দূতাবাসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ঘোষণায় দুটো জিনিস নেই, আর সেই দুটোতেই প্রতি বছর মানুষ হোঁচট খান:
China Scholarship Council-এর পোর্টাল আবেদন নেওয়ার আগে একটি agency number চায়, আর সেই নম্বরই ঠিক করে আপনার ফাইল কোন চ্যানেলে যাবে। আমরা যে বাংলাদেশের ঘোষণাটি পড়েছি, তাতে কোনো নম্বর ছাপা নেই। ফর্ম পূরণ শুরু করার আগে দূতাবাসের শিক্ষা শাখা থেকে চলতি সেশনের সঠিক agency number জেনে নিন — ভুল agency-তে জমা দেওয়া আবেদন সংশোধনের ভুল নয়, পুরো একটা বছরের ক্ষতি।
দ্বিতীয় ফাঁকটা কাগজপত্রের। নোটিশ বলছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে হবে, কিন্তু কাগজের তালিকা দেয় না। পোর্টাল দেয় — প্রোগ্রাম ধরে ধরে, আর স্তর অনুযায়ী তালিকা বদলায়। কোনো এজেন্সির সাধারণ তালিকা নয়, আপনার নিজের স্তরের জন্য পোর্টালের তালিকা দেখেই ফাইল গড়ুন।
যা নিশ্চিত নয়: মাসিক ভাতার স্তরভিত্তিক ভাগ। CNY ২,৫০০–৩,৫০০ সীমাটাই ঢাকার দূতাবাস প্রকাশ করে। অনলাইনে স্নাতকে ২,৫০০, স্নাতকোত্তরে ৩,০০০ আর PhD-তে ৩,৫০০ — এমন তিন স্তরের ভাগ ব্যাপকভাবে ঘোরে, কিন্তু ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ চীন সরকারের চলতি কোনো পাতায় আমরা সেটি যাচাই করতে পারিনি। তাই সীমাটাকেই হিসাব ধরুন, আর নিজের স্তরের অঙ্ক পোর্টালে মিলিয়ে নিন।
২০২৭-২৮ সেশনের শেষ তারিখ কত?
এখনো প্রকাশিত হয়নি। বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের সাইটে আমরা যে সাম্প্রতিকতম call দেখতে পাই, তা ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশিত, শেষ তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৬। ২০২৭-২৮ সেশনের কোনো ঘোষণা এখনো নেই — যা স্বাভাবিক, কারণ ছাঁদটা হলো ডিসেম্বরে নোটিশ আর জানুয়ারির প্রথমার্ধে শেষ তারিখ।
| ধাপ | সময় | নিশ্চিত? |
|---|---|---|
| দূতাবাসের নোটিশ প্রকাশ | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রকাশিত |
| আবেদনের শেষ দিন | ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রকাশিত |
| আবেদন শুরুর তারিখ | নোটিশে লেখা নেই | না |
| ফলাফল | নোটিশে লেখা নেই | না |
| ২০২৭-২৮ সেশনের তারিখ | ঘোষণা হয়নি | না |
তাই ব্যবহারিক পরামর্শটা নিজেই বেরিয়ে আসে: ২০২৭-২৮ সেশনে চীন লক্ষ্য করলে আপনার ফাইল নভেম্বর ২০২৬-এর শেষেই সম্পূর্ণ থাকতে হবে। শুরু করা নয় — সম্পূর্ণ। ডিসেম্বরের নোটিশ আর জানুয়ারির শেষ তারিখের মাঝে ট্রান্সক্রিপ্টের পেছনে ছোটার সময় থাকে না।

ভাতার অঙ্কটা টাকায় কত?
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ Wise-এর mid-market রেট ১ CNY = ১৮.৩৪ টাকা ধরে প্রকাশিত সীমাটা এভাবে দাঁড়ায়। টাকার অঙ্ক চীনের yuan-এর হিসাবের ওপর আমাদের গণনা — চীন নিজে টাকায় কিছু বলে না:
| খাত | Yuan | টাকা (প্রায়) |
|---|---|---|
| ভাতা, নিচের সীমা | CNY ২,৫০০ / মাস | ৳৪৫,৯০০ |
| ভাতা, ওপরের সীমা | CNY ৩,৫০০ / মাস | ৳৬৪,২০০ |
| ১২ মাসে ভাতা, নিচের সীমা | CNY ৩০,০০০ | ৳৫,৫০,০০০ |
| টিউশন, হল, ইনস্যুরেন্স, টিকিট | স্কলারশিপে অন্তর্ভুক্ত | ৳০ |
থাকার ব্যবস্থা ক্যাম্পাসেই আর তার খরচও আগেই দেওয়া — তাই ভাতার প্রায় পুরোটাই হাতে থাকে। এই কারণেই চীনে CGS পাওয়া শিক্ষার্থী মাসের হিসাবে পশ্চিম ইউরোপের আংশিক ফান্ডিং পাওয়া শিক্ষার্থীর চেয়ে ভালো থাকতে পারেন — যেখানে বড় ভাতাটা বাসা ভাড়াতেই মিলিয়ে যায়।
এই স্কলারশিপে কি চীনে MBBS পড়া যায়?
বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় গন্তব্যগুলোর একটি চীন, তাই সরাসরি উত্তরটা দরকার: আপনার ফান্ডিং যা-ই হোক, বিদেশে MBBS শুরু করার আগে বাংলাদেশের একটা দরজা পার হতে হবে, আর দেশে ফিরে আরেকটা।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) বিদেশে MBBS শুরু করার আগেই Eligibility Certificate বাধ্যতামূলক করেছে। তাদের প্রকাশিত শর্তের তালিকায় আছে বাংলাদেশের MBBS/BDS ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং ফলাফলের কপি। যাঁরা কখনো ওই পরীক্ষা দেননি, বা ফলাফলের কাগজ দেখাতে পারেন না, তাঁরা সমস্যাটা টের পান কয়েক বছর পরে। আর দেশে ফিরে প্র্যাকটিস করতে চাইলে BMDC-র Registration Qualifying Examination পাস করতেই হবে। স্কলারশিপ এই দুটোর কোনোটাই বদলায় না।
আমরা কথাটা সোজাভাবে বলি, কারণ না জানার দাম হলো এমন একটা ডিগ্রি যা দিয়ে আপনি রেজিস্ট্রেশনই করতে পারবেন না। চীনে মেডিকেলই যদি পরিকল্পনা হয়, তবে আগে বাংলাদেশে BMDC-র দিকটা মিটিয়ে নিন, স্কলারশিপ তার পরে।
বাংলাদেশি apostille এখন চীনে চলে কি?
হ্যাঁ — আর এটা এমন একটা সাম্প্রতিক পরিবর্তন, যা অনেক গাইড এখনো ধরতে পারেনি। ১৯৬১ সালের Hague Apostille Convention গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জন্য কার্যকর হয়েছে ৭ নভেম্বর ২০২৩ থেকে। বাংলাদেশের যোগদান কার্যকর ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে, আর তাতে আপত্তি জানানো বারোটি দেশের মধ্যে চীন নেই।
অর্থাৎ চীনের বিশ্ববিদ্যালয় বা CSC পোর্টালের জন্য বাংলাদেশি একাডেমিক কাগজে বাংলাদেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের একটি apostille-ই স্বীকৃত পথ — চীনা দূতাবাসের কনস্যুলার কাউন্টারে শেষ হওয়া পুরনো শিকলটার বদলে। একটি ধাপ, একটি ফি, আর ঠিক সেই ডিসেম্বরে কয়েক সপ্তাহ বাঁচে, যখন এক দিনও নষ্ট করার উপায় নেই।
কার্যকর হওয়ার তারিখগুলো HCCH-এর Apostille status table থেকে পড়া হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ; আপত্তির তালিকা HCCH notifications register থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ। বিশ্ববিদ্যালয় কখনো নিজের মতো নির্দিষ্ট ফরম্যাট চায়, তাই টাকা দেওয়ার আগে ভর্তি-দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
ফর্ম খোলার আগে ফাইলে কী কী থাকা দরকার?
- যথেষ্ট মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট
- Apostille করা সর্বোচ্চ ডিগ্রির সার্টিফিকেট ও পূর্ণ ট্রান্সক্রিপ্ট
- Foreigner Physical Examination Form, পূরণ ও সিলমোহর করা
- প্রোগ্রাম অনুযায়ী ভাষার প্রমাণ (HSK বা English)
- দু'টি একাডেমিক রেফারেন্স চিঠি
- Study plan বা research proposal — নির্দিষ্ট বিভাগকে মনে রেখে লেখা
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স / non-criminal record সার্টিফিকেট
- আপনার স্তরের জন্য পোর্টালে চাওয়া প্রোগ্রাম-নির্দিষ্ট বাড়তি কাগজ
স্কলারশিপ কী কী দেয় না?
বাংলাদেশে পাসপোর্ট আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের খরচ। Apostille-এর ফি। স্টুডেন্ট ভিসা নিজেই — স্কলারশিপ পাওয়া একাডেমিক সিদ্ধান্ত, আর X1 বা X2 ভিসা আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া, নিজের কাগজ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে। চীনে পৌঁছে যে residence permit নিতে হয়, সেটাও। চীনের ভেতরে যাতায়াতের খরচ। আর ভাতা আসতে শুরু করার আগের কয়েকটা সপ্তাহ।
CSC পোর্টাল কোনো আবেদন ফি নেয় না। আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় নিজের আবেদন ফি নিতে পারে — সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু বাংলাদেশে কারও কাছ থেকেই স্কলারশিপের আবেদনে ঢোকার জন্য টাকা নেওয়ার কথা নয়। ফাইল যাচাই আর কাগজ পরীক্ষার জন্য পরামর্শকে টাকা দেওয়া একটা সেবা; ফর্মের জন্য টাকা দেওয়া নয়।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর চীনের স্কলারশিপ হাতছাড়া হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ দুর্বল ট্রান্সক্রিপ্ট নয়। কারণটা ডিসেম্বরের হুড়োহুড়ি: নোটিশ আসে, পরিবার কাগজ জোগাড় শুরু করে, apostille-এ সবার ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগে, আর ১০ জানুয়ারির সময়সীমা অসম্পূর্ণ ফাইল নিয়েই পার হয়ে যায়। যাঁরা পান, তাঁরা নভেম্বরকেই শেষ তারিখ ধরেন। এই আলোচনাটা আমরা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নয়, সেপ্টেম্বরেই শিক্ষার্থীর সঙ্গে করতে চাই।
এই গাইডের অফিশিয়াল সূত্র: বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের Chinese Government Scholarship ঘোষণা (১৯ ডিসেম্বর ২০২৫), এবং HCCH Apostille Convention status table।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে চীনের স্টুডেন্ট ভিসা · বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য Stipendium Hungaricum
এই লেখাটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ-গবেষণা। Eduvisa এই মুহূর্তে চীনের আবেদন প্রসেস করে — এমন কোনো প্রতিশ্রুতি এটি নয়। জিজ্ঞেস করলে আমরা স্পষ্ট করেই বলব কোনটা আমরা করি আর কোনটা করি না।
২০২৭-২৮ সেশনে চীন ভাবছেন? শুরু করুন অক্টোবরে, ডিসেম্বরে নয়।
ট্রান্সক্রিপ্ট নিয়ে আসুন — জানুয়ারির শেষ তারিখ থেকে পিছিয়ে আমরা আসল সময়সূচিটা এঁকে দেব: কোন কাগজে apostille লাগবে, কোন স্তরে আপনি প্রতিযোগিতায় টিকবেন, আর মেডিকেল হলে BMDC-র শর্ত আপনার ক্ষেত্রে কীভাবে পড়ে।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →
