প্রতি বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি বাংলাদেশে একটা নীরব দৌড় শুরু হয়, যেটা বেশিরভাগ মানুষের চোখেই পড়ে না। হাজার হাজার শিক্ষার্থী Hungary সরকারের একটা বৃত্তির জন্য অনলাইন ফরম পূরণ করেন। তারপর তাঁদের মধ্যে অল্প কয়েকজন সেই ফরমেরই একটা প্রিন্ট কপি নিয়ে ঢাকার সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটের পাশের অভ্যর্থনা কক্ষে রাখা একটা বাক্সে জমা দিয়ে আসেন — নির্ধারিত দিনে বিকেল ৫টার আগে। বাক্সটা মিস করলে অনলাইন ফরমের কোনো দাম থাকে না।
Hungary-কে এক ছবিতে বোঝাতে হলে এটাই সেই ছবি — ইউরোপের সত্যিকারের সাশ্রয়ী একটা ডিগ্রি, কিন্তু মোড়কটা ছোট ছোট নির্মম নিয়মে ভরা। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে Hungary স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ নিয়ে খোঁজ করে থাকেন, এই গাইডে পাবেন Hungary কর্তৃপক্ষ আসলে কী চায়, খরচ কত, আর যা সাধারণত কেউ বলে না সেটাও।
বাংলাদেশ থেকে Hungary-তে পড়তে গেলে আপনি আসলে "স্টুডেন্ট ভিসা" নয়, পড়াশোনার উদ্দেশ্যে রেসিডেন্স পারমিট-এর আবেদন করেন। আবেদন জমা হয় New Delhi-র Hungary দূতাবাসের ঢাকা অফিসে, গুলশান অ্যাভিনিউয়ের VFS কেন্দ্রে। প্রসেসিং ফি EUR ১১০, সিদ্ধান্ত আসে ৬০ দিনের মধ্যে, আর পারমিটের মেয়াদ ১ থেকে ৩ বছর।
বাংলাদেশে Hungary-র দূতাবাস আছে কি, আবেদন করবেন কোথায়?
বাংলাদেশে Hungary-র কোনো দূতাবাস নেই। অনেক কনসালট্যান্সির ওয়েবসাইটে লেখা দেখবেন "ঢাকার Hungary দূতাবাসে আবেদন করুন" — সেই দূতাবাসটার অস্তিত্বই নেই। বাংলাদেশ পড়ে New Delhi-তে অবস্থিত Hungary দূতাবাসের আওতায়, আর সেই দূতাবাস VFS Global-এর মাধ্যমে ঢাকায় একটা অফিস চালায়।
বাস্তবে এটা সুখবর। ২০২৫ সালের শুরু থেকে আর ভারতে যেতে হয় না — ঢাকার VFS Global কেন্দ্রেই Hungary-র D ক্যাটাগরির দীর্ঘমেয়াদি আবেদন নেওয়া হয়, পড়াশোনা আর পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য। সেই কাউন্টারে ব্যবহৃত অফিসিয়াল চেকলিস্টের শিরোনামই হলো "Dhaka Office of the Embassy of Hungary in New Delhi — Hungarian Visa Application Centre of VFS Bangladesh"।
VFS Global-এর Hungary ভিসা আবেদন কেন্দ্র নাফি টাওয়ার, ৫ম তলা, ৫৩ গুলশান অ্যাভিনিউ, ঢাকা-য়। এখানে D ক্যাটাগরির পড়াশোনা ও পারিবারিক পুনর্মিলনের আবেদন জমা নেওয়া হয়, আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় VFS Bangladesh-এর Hungary পোর্টাল থেকে। রওনা দেওয়ার আগে ঠিকানা আর বুকিং লিংক মিলিয়ে নিন — ভিসা কেন্দ্র জায়গা বদলায়।
আপনি ভিসার আবেদন করছেন, নাকি রেসিডেন্স পারমিটের?
এখানেই বাংলাদেশি আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে ফেলেন, আর এই গুলিয়ে ফেলার দাম টাকায় দিতে হয়। UK বা Malaysia যেভাবে দীর্ঘমেয়াদি "স্টুডেন্ট ভিসা" দেয়, Hungary সেভাবে দেয় না। Hungary-র National Directorate-General for Aliens Policing (NDGAP) বলছে, আপনি একটাই আবেদন করেন — পড়াশোনার উদ্দেশ্যে রেসিডেন্স পারমিট — আর সেই আবেদনের ভেতরেই ভিসার আবেদনটা ধরা থাকে। আলাদা করে ভিসার ফাইল খুলতে হয় না।
পারমিট অনুমোদন হলে কনস্যুলেট আপনাকে "D" ধরনের একটা এন্ট্রি ভিসা দেয়। সেই ভিসা একবার প্রবেশের, সর্বোচ্চ ৩০ দিন থাকার সুযোগ দেয়, আর মেয়াদ ৩ মাস। এর একমাত্র কাজ আপনাকে Hungary-তে ঢোকানো, যাতে আপনি আসল রেসিডেন্স পারমিট কার্ডটা সংগ্রহ করতে পারেন — আর সেই কার্ড ডাকে যায় আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানায়, আপনার নিজের ঠিকানায় নয়।
অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে দুটো ঘড়ি চালু হয়, আর দুটোতেই মানুষ ধরা খায়। অনুমোদনের ৩ মাসের ভেতর Hungary-তে না ঢুকলে অনুমোদন এমনিতেই বাতিল হয়ে যায়। আর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আপিলের সময় মাত্র ৮ দিন — দেরিতে করা আপিল, কিংবা কারণ না লিখে করা আপিল, বিবেচনা ছাড়াই খারিজ হয়ে যায়।
| খাত | পরিমাণ | কোথায় |
|---|---|---|
| রেসিডেন্স পারমিট ও এন্ট্রি ভিসা | EUR ১১০ | মিশনে (ঢাকা/New Delhi) |
| প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল | EUR ১৬০ | মিশনে |
| Hungary-তে পারমিট নবায়ন | HUF ২৬,০০০ | Enter Hungary পোর্টাল |
| Hungary-তে সশরীরে আবেদন | HUF ৩৯,০০০ | NDGAP আঞ্চলিক অফিস |
| Stipendium Hungaricum প্রাপকরা | অব্যাহতি | পড়াশোনার পারমিটে ফি লাগে না |
২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে Hungary-তে পড়ার খরচ আসলে কত?
ইউরোপের মানদণ্ডে Hungary সাশ্রয়ী, তবে "সাশ্রয়ী" মানে "সস্তা" নয় — নিজ খরচে পড়তে চাইলে হিসাবটা সৎভাবে করা দরকার। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন তার একটি University of Debrecen, আর সেখানে নন-মেডিকেল স্নাতক প্রোগ্রামের প্রকাশিত টিউশন বছরে প্রায় USD ৬,০০০ থেকে USD ৭,৫০০। মেডিসিনের খরচ অনেক বেশি।

| প্রোগ্রাম | স্তর | বছরে টিউশন |
|---|---|---|
| Computer Science | BSc | USD ৭,০০০ |
| Business Administration | BSc | USD ৭,০০০ |
| Civil Engineering | BSc | USD ৭,৫০০ |
| Biology / Chemistry | BSc | USD ৬,৫০০ |
| Data Science | MSc | USD ৭,৫০০ |
| Pharmacy | PharmD | USD ৮,০০০ |
| Medicine | MD | USD ১৬,৯০০ |
| Dentistry | DMD | USD ১৭,৫০০ |
টিউশনের বাইরে আছে USD ১৫০ আবেদন ফি আর USD ৩৫০ ভর্তি পরীক্ষার ফি — দুটোর কোনোটাই ফেরতযোগ্য নয়। আর একটা নিয়ম আছে, যেটা কার্যত শুধু আপনার জন্যই লেখা।
University of Debrecen তাদের ওয়েবসাইটে "Special regulations for Bangladeshi citizens" নামে একটা আলাদা অংশ রেখেছে: যেসব প্রোগ্রামে টিউশন USD ১০,০০০-এর নিচে, সেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পুরো বছরের টিউশন আর একটা সাধারণ ডিপোজিট আগে জমা দিতে হবে, তারপর বিশ্ববিদ্যালয় ভিসার সহায়ক কাগজপত্র দেবে। অর্থাৎ পারমিটের সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই টাকাটা দেশ ছাড়ে। পারমিট প্রত্যাখ্যাত হলে টিউশন ফেরত পাওয়া যায় — কিন্তু আবেদন বাতিল করলে সিট রিজার্ভেশনের অংশটা ফেরত পাওয়া যায় না। পার্থক্যটা দুবার পড়ুন।
Stipendium Hungaricum কী, আর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে আবেদন করেন?
Stipendium Hungaricum হলো Hungary সরকারের বৃত্তি কর্মসূচি, আর বাংলাদেশের সার্চ ডেটায় Hungary-র নাম উঠে আসার সবচেয়ে বড় কারণও এটাই। বাংলাদেশ থেকে এই বৃত্তির নাম ধরে যত খোঁজা হয়, তা "UK student visa" খোঁজার প্রায় অর্ধেক — যে দেশটার অবস্থান বেশিরভাগ পরিবার মানচিত্রে দেখাতে পারবে না, তার জন্য এটা রীতিমতো অবাক করা।
অন্য বৃত্তি থেকে এটা আলাদা দুই পোর্টালের কাঠামোর কারণে। আপনি খোলা বিশ্ববাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না; আপনাকে মনোনয়ন দেয় নিজের দেশের Sending Partner। বাংলাদেশে সেই Sending Partner হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, যারা shed.gov.bd-তে নিজেদের আলাদা বিজ্ঞপ্তি দেয় — আলাদা সময়সীমা, আলাদা কাগজপত্র, আর ২০২৬/২৭ চক্রে সচিবালয়ে হার্ডকপি জমার বাক্স সহ।
পুরো টিউশন মওকুফ; স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও one-tier master's শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে HUF ৪৩,৭০০ (প্রায় EUR ১১০) ভাতা, বছরে ১২ মাসই; সিট থাকা সাপেক্ষে বিনামূল্যে ডরমিটরি, নয়তো ভাড়ার জন্য মাসে HUF ৪০,০০০; আর বছরে HUF ৬৫,০০০ পর্যন্ত সম্পূরক চিকিৎসা বিমা। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে, বড় শহরে — বিশেষ করে Budapest-এ — এই বাসস্থান ভাতায় পুরো ভাড়া উঠবে না।
সময়সীমা, সৎভাবে বললে। ২০২৬/২৭ চক্রের আবেদন শেষ হয়েছে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর ২টা CET-এ; মনোনয়ন ১৫ মার্চ, ফল জুনের শেষে। এই গাইড লেখার সময় ২০২৭/২৮ চক্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তাই ২০২৭ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়সীমাটিকে প্রকাশিত ২০২৬/২৭ ক্যালেন্ডারের ভিত্তিতে একটি অনুমান হিসেবেই ধরুন, নিশ্চিত তারিখ নয়। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে stipendiumhungaricum.hu আর shed.gov.bd-তে চোখ রাখুন, আর পরিকল্পনা সাজানোর আগে দুটো সময়সীমাই মিলিয়ে নিন।
ঢাকার কেন্দ্র আসলে কোন কোন কাগজ চায়?
পড়াশোনার আবেদনের জন্য দূতাবাসের নিজস্ব চেকলিস্ট অনলাইনে ঘুরতে থাকা সাধারণ তালিকাগুলোর চেয়ে লম্বা, আর তাতে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট দুটো শর্ত আছে যেগুলোতে মানুষ হোঁচট খায়: জন্মনিবন্ধন সনদ ও সাম্প্রতিকতম শিক্ষা সনদে MOFA সত্যায়ন।
- পূরণ ও স্বাক্ষর করা রেসিডেন্স পারমিট ফরম এবং পড়াশোনার পরিশিষ্ট
- গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যু করা বৈধ পাসপোর্ট, অন্তত দুটি খালি পাতাসহ, আর সব পুরোনো পাসপোর্ট
- Hungary-র প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির সনদ
- টিউশন ফি পরিশোধের প্রমাণ
- ইংরেজিতে জন্মনিবন্ধন সনদ, MOFA সত্যায়িত
- ইংরেজিতে শিক্ষা সনদ — সাম্প্রতিকতমগুলো MOFA সত্যায়িত
- ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সক্ষমতার ভাষা সনদ
- স্পনসরের গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আর্থিক সহায়তার ঘোষণাপত্র ও সম্পর্কের প্রমাণ
- Hungary-তে থাকার প্রমাণ — ডরমিটরি নিশ্চিতকরণ বা ভাড়ার চুক্তি
- পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যবিমা, ফি পরিশোধের প্রমাণসহ
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, ইংরেজিতে CV আর স্বাক্ষরিত motivation letter
- ফ্লাইট বুকিং, বৈধ ভ্রমণ বিমা, আর প্রত্যাখ্যাত হলে স্বেচ্ছায় ফিরে আসার স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা
দুটো বাস্তব সতর্কতা। এক, কাউন্টারে শুধু মূল কাগজ নেওয়া হয়, আর সঙ্গে সব কাগজের একটা বাড়তি ফটোকপি সেট নিতে বলা হয় — পাসপোর্টের পূর্ণ কপিসহ। দুই, চেকলিস্টে ফরমের লিংক হিসেবে এখনো bmbah.hu দেওয়া আছে, যা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পুরোনো ঠিকানা; এখন ফরম প্রকাশিত হয় oif.gov.hu-তে। মৃত লিংক নয়, বর্তমান সাইট থেকেই ফরম নামান।
Hungary-তে পড়ার পাশাপাশি কাজ করা যায়?
যায়, আর সুযোগটা বেশ উদার। Hungary-র আইনে পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিটধারীরা পড়ার সময়ে সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারেন, আর পড়ার সময়ের বাইরে বছরে ৯০ দিন পর্যন্ত পূর্ণকালীন। তুলনায় ইউরোপের বেশিরভাগ গন্তব্যে সীমা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা।
তবে এর ওপর বাজেট দাঁড় করাবেন না। Debrecen বা Pécs-এ মজুরি মাঝারি, শুধু ইংরেজিতে চলে এমন চাকরির প্রতিযোগিতা বেশি, আর পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের চাপ নিয়ে সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা কাজ করলে সাধারণত দুটোর কোনোটাই ভালো হয় না। কাজকে ভাবুন বাড়তি ভরসা হিসেবে, অর্থায়নের পরিকল্পনা হিসেবে নয় — আর মনে রাখুন, পড়ায় পিছিয়ে পড়ার সরাসরি ইমিগ্রেশন-পরিণতি আছে, যেটা নিচে আসছে।
পড়া শেষ হলে এরপর কী?
Hungary স্নাতকদের জন্য রেখেছে চাকরি খোঁজা বা ব্যবসা শুরুর উদ্দেশ্যে রেসিডেন্স পারমিট, যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরি বা ব্যবসা আপনার সদ্য শেষ করা পড়াশোনার স্তরের সঙ্গে মেলে। এর সীমাগুলো নিখুঁতভাবে জেনে রাখা দরকার:
- সর্বোচ্চ মেয়াদ ৯ মাস, আর এটি নবায়নযোগ্য নয়
- আবেদন করতে হয় Hungary-র ভেতর থেকে, Enter Hungary পোর্টালে, পড়াশোনার পারমিট শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে — মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে আর আবেদন করা যায় না
- এই ৯ মাসের মধ্যে Hungarian Card, EU Blue Card বা guest self-employment পারমিটে যাওয়া যায়
- জাতীয় কর্মসংস্থান সংস্থার নিবন্ধন সনদ, নয়তো ৩ মাসের মধ্যে চাকরি শুরুর নিশ্চয়তা দেওয়া Hungary-র কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষরিত চিঠি লাগবে
UK-র Graduate Route-এর তুলনায় ৯ মাস কম। তবু এটা একটা বাস্তব, আইনে লেখা পথ — আর এর সময়সীমার শৃঙ্খলা ঠিক সেই জিনিস যেটা একা সামলাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা ভুল করেন, অথচ সহায়তা পেলে সহজেই হয়ে যায়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কোন অসুবিধাগুলো জেনে রাখা দরকার?
বাংলাদেশে Hungary বেশ উৎসাহের সঙ্গে বিক্রি হয়, আর সেই উৎসাহে চারটে জরুরি জিনিস চাপা পড়ে যায়।
পরিবার নিয়ে যাওয়া যাবে না। NDGAP সরাসরি বলছে, পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিটধারী বা আবেদনকারীকে পারিবারিক পুনর্মিলনের রেসিডেন্স পারমিট দেওয়া হবে না। বিবাহিত শিক্ষার্থী এই পথে স্ত্রী বা স্বামীকে নিতে পারবেন না। ব্যতিক্রম কেবল পারমিটের মেয়াদকালে Hungary-তে জন্ম নেওয়া সন্তান।
পড়ার বছরগুলো স্থায়ী বসবাসের দিকে নিয়ে যায় না। পড়াশোনার পারমিটধারীরা national residence card পান না। অর্থাৎ পড়ার বছরগুলো PR-এর ঘড়ি নয় — আগে কাজভিত্তিক স্ট্যাটাসে যেতে হবে।
পড়ায় পিছিয়ে পড়া মানে ইমিগ্রেশন ঝুঁকি। প্রোগ্রামের নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের দেড় গুণ সময়ের মধ্যে ডিগ্রি শেষ না করলে NDGAP নবায়ন আটকে দিতে পারে, এমনকি পারমিট বাতিলও করতে পারে। অর্থাৎ ৩ বছরের স্নাতকে কার্যত সাড়ে ৪ বছরের ছাদ।
বৃত্তির ভাতা বেতন নয়, অনুদান। মাসে HUF ৪৩,৭০০ মানে প্রায় EUR ১১০। Hungary সরকারের বিজ্ঞপ্তিতেই লেখা আছে, এসব সুবিধা জীবনযাত্রার খরচে "কেবল একটি অবদান"।
Apostille না সত্যায়ন? বাংলাদেশ ১৯৬১ সালের Apostille Convention-এ যুক্ত হয়েছে ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে। তবে ইউরোপের পাঁচটি দেশ — প্রতিবেদন অনুযায়ী Austria, Belgium, Czech Republic, Finland ও Germany — বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি জানিয়েছে, ফলে গোটা ইউরোপে apostille সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা যেসব আপত্তির তালিকা পেয়েছি তাতে Hungary নেই, তবে HCCH-এর নিজস্ব আপত্তির পাতাটি খুলে সরাসরি মেলাতে পারিনি — তাই এটিকে অনিশ্চিত ধরুন। যাই হোক, দূতাবাসের বর্তমান বাংলাদেশ চেকলিস্টে চাওয়া হয়েছে MOFA সত্যায়ন — চেকলিস্ট মেনে চলুন, আর apostille দিয়ে বদলাতে চাইলে আগে মিশন থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন।
Hungary-র ফাইলে Eduvisa আসলে কী দেখে?
Eduvisa-তে আমরা সবচেয়ে বেশি যে ধরন দেখি, সেটা দুর্বল শিক্ষার্থীর নয় — ভালো শিক্ষার্থীর, যিনি দুই ট্র্যাকের প্রক্রিয়াটাকে এক ট্র্যাকের ভেবে ফেলেন। Tempus পোর্টালের আবেদনটা তিনি চমৎকারভাবে করেন, অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলাদা জমাটা পুরোপুরি বাদ পড়ে যায়। কিংবা ভর্তি নিশ্চিত করে, Debrecen-এর বাংলাদেশ-নির্দিষ্ট নিয়মে পুরো বছরের টিউশন আর ডিপোজিট পাঠিয়ে দেওয়ার পর বোঝা যায় যে স্পনসরের ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ গল্প বলছে না, কিংবা কোনো সনদ ভুল সত্যায়ন ডেস্কে চলে গেছে। এর কোনোটাই মেধার প্রশ্ন নয়। এটা ধারাবাহিকতার প্রশ্ন — আর ধারাবাহিকতাটা বাইরে থেকে কোনো পরিবারের পক্ষে বিচার করা কঠিন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Hungary-তে পড়াশোনা ২০২৭: খরচ ও বৃত্তি · বাংলাদেশ থেকে Lithuania স্টুডেন্ট ভিসা
এই গাইডে ব্যবহৃত সরকারি সূত্র: Hungary-র National Directorate-General for Aliens Policing-এর শিক্ষার্থী রেসিডেন্স সংক্রান্ত ফ্যাক্টশিট (সর্বশেষ হালনাগাদ ২ মার্চ ২০২৬) এবং Stipendium Hungaricum-এর call for applications।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই গাইডটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা, Eduvisa এখন Hungary-র আবেদন প্রক্রিয়া করে — এমন ঘোষণা নয়। ভিসার নিয়ম, ফি আর সময়সীমা বদলায়; কাজে লাগানোর আগে প্রতিটি তথ্য মিশন, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি পোর্টাল থেকে মিলিয়ে নিন।
Hungary আপনার ফাইলের সঙ্গে মানাবে কি না, নিশ্চিত নন?
এক ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে বসুন। আপনার নম্বর, স্পনসরের কাগজ আর সময়ের হিসাব আমরা সৎভাবে দেখব, আর স্পষ্ট করে বলব — Hungary, নাকি আমরা যেসব দেশ প্রসেস করি তার কোনোটি আপনাকে বেশি সুযোগ দেবে, আর ফি-তে এক টাকা খরচের আগে কী কী ঠিক করা দরকার।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →
