মূল অংশে যান
← ব্লগে ফিরে যান

বাংলাদেশ থেকে আয়ারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: ফি, ফান্ড ও প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ থেকে আয়ারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: €৬০ স্টাডি ভিসা ফি, €১০,০০০ ফান্ডের নিয়ম, টিউশন পেমেন্ট, স্ট্যাম্প ২-এ কাজ, AVATS প্রক্রিয়া আর টাকায় খরচ।

প্রকাশিত 14 Oct, 2026 ireland

Read in English →
বাংলাদেশ থেকে আয়ারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: ফি, ফান্ড ও প্রক্রিয়া

ইংরেজিভাষী দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য, আর গুগল, মেটা ও ফাইজারের ইউরোপীয় অফিসের ঠিকানা — চুপচাপই বাংলাদেশি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের প্রিয় হয়ে উঠছে আয়ারল্যান্ড। "Ireland student visa from Bangladesh requirements" খোঁজা বাড়ছে, অথচ যুক্তরাজ্য বা কানাডার তুলনায় বাংলায় আয়ারল্যান্ড নিয়ে লেখা অনেক কম। সেই ফাঁকটা পূরণ করা দরকার, কারণ বাংলাদেশ থেকে আয়ারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম পরিষ্কার ও প্রকাশিত।

€৬০সিঙ্গেল এন্ট্রি স্টাডি ভিসা ফি
€১০,০০০বছরে থাকার খরচের ফান্ড
২০ ঘণ্টাসেমিস্টারে সাপ্তাহিক কাজ (স্ট্যাম্প ২)
ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের ক্যাম্পাস, আয়ারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান
ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন — শহরের কেন্দ্রে আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: Berthold Werner, Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0 (cropped).

আয়ারল্যান্ডের স্টাডি ভিসায় কত খরচ?

বড় ইংরেজিভাষী গন্তব্যগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ডের ভিসা ফি সবচেয়ে কমের দিকে। বড় অঙ্ক হলো টিউশন আর যে ফান্ড দেখাতে হয়।

খাতEUR৳ (আনুমানিক)
ডি স্টাডি ভিসা, সিঙ্গেল এন্ট্রি৬০≈৮,২০০
ডি স্টাডি ভিসা, মাল্টিপল এন্ট্রি১০০≈১৩,৭০০
থাকার খরচের ফান্ড (বছরে)১০,০০০≈১৩,৭০,০০০
টিউশন, স্নাতকোত্তর (সাধারণ)১২,০০০–২৫,০০০≈১৬–৩৪ লাখ
পৌঁছে IRP রেজিস্ট্রেশন৩০০≈৪১,০০০
প্রাইভেট মেডিকেল ইনস্যুরেন্স≈১৫০–৬০০≈২০,০০০–৮২,০০০

টাকার অঙ্কগুলো আনুমানিক, অক্টোবর ২০২৬-এ প্রতি € প্রায় ৳১৩৭ ধরে। IRP ফি ও ইনস্যুরেন্সের তথ্য শিক্ষা বিষয়ক সাইটের (শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটের তথ্য)।

ফান্ডের নিয়মটা কীভাবে কাজ করে?

আইরিশ ভিসা অফিস দেখতে চায় টাকা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারযোগ্য — জমিজমা বা ভবিষ্যতের বেতন নয়।

  • আট মাসের বেশি কোর্সে থাকার খরচের জন্য €১০,০০০, আপনার বা স্পনসরের অ্যাকাউন্টে।
  • টিউশন: €৬,০০০-এর কম হলে পুরোটা; বেশি হলে আবেদনের আগে অন্তত €৬,০০০।
  • পরের বছরগুলোর জন্য: €১০,০০০ আর প্রতি বছরের ফি জোগানোর সামর্থ্য দেখাতে হয়।
  • ছয় মাসের স্টেটমেন্ট: পরিষ্কার ইতিহাসসহ; বড় জমার ব্যাখ্যা দিন।
  • স্পনসরের চিঠি: আয়ের প্রমাণ আর সম্পর্কের প্রমাণসহ (যেমন জন্মনিবন্ধন)।

বাংলাদেশ থেকে আয়ারল্যান্ডের স্টাডি ভিসায় কীভাবে আবেদন করবেন?

1

ILEP কোর্সে অফার নিন

কোর্সটা ILEP-এ আছে কিনা দেখুন; এর ওপরই কাজের অধিকার নির্ভর করে।

2

টিউশন দিন

€৬,০০০-এর কম হলে পুরো, নইলে অন্তত €৬,০০০; রসিদের চিঠি নিন।

3

AVATS-এ আবেদন

অনলাইন ফর্ম পূরণ করে €৬০ বা €১০০ দিন।

4

কাগজ জমা

ভিসা অফিসের নির্দেশমতো সামারি শিট, পাসপোর্ট আর কাগজ পাঠান।

5

সিদ্ধান্ত ও যাত্রা

অনুমোদনের পরই ফ্লাইট কিনুন; পৌঁছে IRP-র জন্য রেজিস্টার করুন।

স্টুডেন্ট ভিসায় আয়ারল্যান্ডে কি কাজ করা যায়?

ইন্টেরিম লিস্ট অব এলিজিবল প্রোগ্রামস (ILEP)-এ থাকা কোর্সের শিক্ষার্থীরা স্ট্যাম্প ২ পান এবং সেমিস্টারে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা আর জুন–সেপ্টেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর–১৫ জানুয়ারি সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। যোগ্য ডিগ্রি শেষে থার্ড লেভেল গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে (স্ট্যাম্প ১জি) থেকে চাকরি খোঁজা যায় (শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটের তথ্য)।

আয়ারল্যান্ড স্টাডি ভিসার ফাইলে কী কী থাকবে?

  • সই করা AVATS সামারি শিট ও দুটি ছবি
  • ১২ মাস মেয়াদি পাসপোর্ট
  • আইরিশ প্রতিষ্ঠানের অ্যাকসেপ্ট্যান্স লেটার
  • টিউশন ফির রসিদ
  • €১০,০০০ ফান্ডের প্রমাণ ও ছয় মাসের স্টেটমেন্ট
  • ইংরেজি পরীক্ষার ফল (IELTS ইত্যাদি)
  • সনদপত্র, আর পড়ার বিরতি থাকলে তার ব্যাখ্যা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন কোর্স ও শহর ভালো?

বেশিরভাগ বাংলাদেশি আবেদনকারী ডেটা অ্যানালিটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স, বিজনেস অ্যানালিটিক্স, ফাইন্যান্স বা ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে এক বছরের স্নাতকোত্তর বেছে নেন। ডাবলিনে চাকরি বেশি, ভাড়াও সবচেয়ে বেশি; কর্ক, গলওয়ে ও লিমেরিক সস্তা। বিবেচনায় রাখতে পারেন Trinity College Dublin, University College Dublin, University of Galway, University College Cork, University of Limerick আর Dublin City University।

মনে রাখুন: বাংলাদেশের আবেদন দেখে নয়াদিল্লির আইরিশ ভিসা অফিস। ওদের চেকলিস্ট হুবহু মানুন, আর কোর্স শুরুর আট সপ্তাহ আগে আবেদন করুন।

টিউশন ফি ও থাকার খরচের টাকা কীভাবে পাঠাবেন?

সংক্ষেপে: অফার লেটার দেখিয়ে বাংলাদেশি ব্যাংক থেকে টিউশন ফি ব্যাংক ট্রান্সফারে পাঠান, আর পৌঁছানোর জন্য অল্প কিছু এনডোর্স করা নগদ ডলার সাথে রাখুন।

  • ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল: বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা মেনে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলো বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর টিউশন ও থাকার খরচ পাঠায়। আগেভাগে স্টুডেন্ট ফাইল খুলুন, কারণ ব্যাংক অফার লেটার, ভিসা বা ভর্তির কাগজ আর পাসপোর্ট চায়।
  • সব রসিদ রাখুন: রেমিট্যান্স অ্যাডভাইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসিদ আর ব্যাংক সার্টিফিকেট একসাথে রাখুন। ভিসা অফিসার এবং পরে ভিসা নবায়ন — দুই জায়গাতেই পরিষ্কার লেনদেনের ইতিহাস দেখা হয়।
  • পৌঁছানোর সময়ের নগদ: প্রথম কয়েক দিনের জন্য অল্প এনডোর্স করা বৈদেশিক মুদ্রা যথেষ্ট; স্থানীয় অ্যাকাউন্ট খোলা পর্যন্ত বাকিটা ডুয়াল-কারেন্সি কার্ডে চলে।
  • স্পনসরের কাগজ: বাবা-মা খরচ দিলে তাঁদের আয়ের প্রমাণ, ট্যাক্স রিটার্ন আর স্পনসরশিপ লেটার তৈরি রাখুন — নামের বানান যেন পাসপোর্টের সাথে মেলে।
  • হঠাৎ বড় জমা নয়: ব্যাংক স্টেটমেন্টে ব্যাখ্যাহীন বড় অঙ্কের জমা প্রশ্ন তোলার একটা সাধারণ কারণ; সঞ্চয়ের স্বাভাবিক ইতিহাস থাকা ভালো।

নিজে করার বদলে ওয়ান-টু-ওয়ান সাহায্য কেন নেবেন?

কারণ টাকা খরচ করার আগেই নিয়ম জানা একজন মানুষ আপনার পুরো পরিকল্পনা মিলিয়ে দেখেন। বেশিরভাগ ভ্রমণ ছোট কারণে ভেস্তে যায়: পাসপোর্টের মেয়াদ কম, বুকিংয়ের সাথে ভিসা ফর্মের তথ্য না মেলা, অনানুষ্ঠানিক সাইটে ফি দেওয়া, কিংবা ফেরার তারিখ পরীক্ষা বা অফিসের সাথে সংঘাত। নিজে করা সম্ভব — এই পাতার অফিসিয়াল লিংকগুলোই যথেষ্ট — কিন্তু অভিজ্ঞ কেউ পাশে থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটা পরিষ্কার, দ্রুত আর ভুলের ঝুঁকি অনেক কম হয়।

Eduvisa-র ওয়ান-টু-ওয়ান সার্ভিসে কী থাকে?

  • একজন নির্দিষ্ট পরামর্শক, যিনি প্রথম কথা থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত আপনার ফাইল দেখেন — একই কথা বারবার বলতে হয় না।
  • আপনার কেসের জন্য আলাদা ডকুমেন্ট চেকলিস্ট — পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংকের কাগজ, বুকিং, চিঠি — জমা দেওয়ার আগে যাচাই করা।
  • বাজেট ও ভ্রমণসূচি পরিকল্পনা, ঢাকা থেকে বাস্তবসম্মত খরচসহ, ছুটি ও ভাড়া বাড়ার সময় মাথায় রেখে।
  • শুধু অফিসিয়াল পোর্টালে আবেদন সহায়তা, প্রতিটি ফি ও রসিদের রেকর্ডসহ।
  • ভ্রমণ ইতিহাসের পরিকল্পনা, যাতে এই সফর ভবিষ্যতের যুক্তরাজ্য, শেনজেন বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকে শক্ত করে।

Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড কী?

প্রত্যেক স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ক্লায়েন্ট একটি ব্যক্তিগত ক্লায়েন্ট আইডিসহ Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড পান। কার্ডের ওয়েবসাইট লাইনে লেখা থাকে getbesthost.com/eduvisa: সেখানে ক্লায়েন্ট আইডি দিয়ে ঢুকে আপনার প্রসেসিং স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন, সব ডকুমেন্ট এক জায়গায় দেখতে পারবেন এবং যত পেমেন্ট করেছেন তার সবই দেখতে পারবেন।

কাজের অগ্রগতি ও পেমেন্ট কীভাবে যাচাই করবেন?

আমাদের ভেরিফায়েড ক্লায়েন্ট পোর্টাল getbesthost.com/eduvisa-এ ধাপে ধাপে দেখা যায় আপনার কাজ কতদূর এগিয়েছে, আর প্রতিটি পেমেন্ট গ্রহণ ও রেকর্ড হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়। ফোন করে জিজ্ঞেস না করেই আপনি জানবেন ফাইল কোথায় আছে — পরিবারকেও দেখাতে পারবেন কী কী পেমেন্ট হয়েছে এবং কেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলাদেশ থেকে আয়ারল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসার ফি কত?

সিঙ্গেল এন্ট্রি স্টাডি ভিসা €৬০, মাল্টিপল এন্ট্রি €১০০।

আয়ারল্যান্ডের জন্য ব্যাংকে কত টাকা লাগে?

থাকার খরচের জন্য সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারযোগ্য €১০,০০০, সাথে দেওয়া বা দিতে হবে এমন টিউশন।

আবেদনের আগে কি টিউশন দিতে হয়?

হ্যাঁ, €৬,০০০-এর কম হলে পুরোটা, বেশি হলে অন্তত €৬,০০০।

শিক্ষার্থীরা কি আয়ারল্যান্ডে কাজ করতে পারেন?

হ্যাঁ, ILEP কোর্সের স্ট্যাম্প ২ধারীরা সেমিস্টারে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা আর ছুটিতে ৪০ ঘণ্টা।

ভিসা কোথায় প্রসেস হয়?

বাংলাদেশিদের আবেদন প্রসেস করে নয়াদিল্লির আইরিশ ভিসা অফিস।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত · IELTS স্কোরের শর্ত · ঢাকা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন চেকলিস্ট

স্নাতকোত্তরের জন্য আয়ারল্যান্ড ভাবছেন?

ওয়ান-টু-ওয়ান সেশনে দেখব কোর্সটা ILEP-এ আছে কিনা, €১০,০০০ ফান্ডের পরিকল্পনা করব আর AVATS ফাইল তৈরি করে দেব।

ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন