ঢাকায় জাপান বেচেন এমন প্রায় সবাই একই সংখ্যা বলেন: সপ্তাহে আটাশ ঘণ্টা। কিন্তু ২০২৬ সালে যা বদলেছে সেটা প্রায় কেউ বলেন না — অক্টোবর ২০২৬ সেশন থেকে প্রতিটি জাপানি প্রতিষ্ঠানকে বছরে চারবার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পার্টটাইম ঘণ্টা যাচাই করতে হবে, প্রতিটি কর্মস্থলের নাম লিখতে হবে, দৈনিক ঘণ্টা রেকর্ড করতে হবে, আর যে নিয়োগকর্তা শিক্ষার্থীকে সীমার বাইরে কাজ করাচ্ছেন তাঁকে ইমিগ্রেশনে জানাতে হবে। নিয়ম বদলায়নি। প্রয়োগ বদলেছে।
জাপানে শিক্ষার্থী Permission to Engage in Activity Other Than That Permitted না পাওয়া পর্যন্ত একেবারেই কাজ করতে পারেন না — এটি বিনামূল্যে, আর থাকার মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে পৌঁছেই এয়ারপোর্টে নেওয়া যায়। এটি থাকলে সব কাজ মিলিয়ে সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা, কিংবা প্রতিষ্ঠানের নিজের নিয়মে ঠিক করা দীর্ঘ ছুটিতে দিনে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করা যায়। সরকারের জরিপে মাপা গড় আয় মাসে ¥৮১,০০০ — দালালদের বলা ¥২,০০,০০০–৩,০০,০০০ নয়; জাপানের নিজের স্টাডি-অ্যাব্রোড পোর্টাল ওই দাবিকে মিথ্যা বলছে।
অনুমতি ছাড়া জাপানে শিক্ষার্থী কি কাজ করতে পারেন?
না, আর এটি বেশিরভাগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ধারণার চেয়ে কড়া। Immigration Control and Refugee Recognition Act-এর ১৯(১) অনুচ্ছেদ সরাসরি নিষেধাজ্ঞা: স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসে থাকা কেউ সেই স্ট্যাটাসের বাইরে আয়মূলক বা পারিশ্রমিকের কাজ করতে পারবেন না। ১৯(২) অনুচ্ছেদ একমাত্র ব্যতিক্রমটি তৈরি করে — একটি অনুমতি, যার জন্য আবেদন করতে হয়।
দ্বিভাষিক ফরমে ছাপা অফিসিয়াল ইংরেজি নাম "Application for Permission to Engage in Activity Other Than That Permitted under the Status of Residence Previously Granted", জাপানিতে 資格外活動許可। খরচ শূন্য। আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন ব্যুরোতে সাধারণ প্রক্রিয়াকাল দুই সপ্তাহ থেকে দুই মাস — তবে এই লাইনটা পুরোপুরি এড়ানো যায়।
জাপানের অফিসিয়াল স্টাডি-অ্যাব্রোড পোর্টাল বলছে, যেসব শিক্ষার্থীর "period of stay exceeds three months" তাঁরা প্রথমবার জাপানে ঢোকার সময় "at the airport or other port of entry … at the time landing permission is granted" অনুমতির আবেদন করতে পারেন। দশটি বিমানবন্দরে অবতরণের সময়েই রেসিডেন্স কার্ড দেওয়া হয়: New Chitose, Sendai, Narita, Haneda, Chubu, Kansai, Kobe, Hiroshima, Fukuoka ও Naha। রেসিডেন্স কার্ডের কাউন্টারেই 資格外活動許可 চেয়ে নিন, অনুমতিটি কার্ডের পেছনে ছাপা হয়ে যাবে। এই মুহূর্তটা হাতছাড়া হলে বৈধভাবে এক ইয়েন আয় করার আগে ব্যুরোতে দুই সপ্তাহ থেকে দুই মাস অপেক্ষা।
একটি কাজের ব্যতিক্রম: ২০১০ সালের জুলাই থেকে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তিতে টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টের বেতনভুক্ত কাজে এই অনুমতি লাগেই না।
২৮ ঘণ্টা কি প্রতি চাকরিতে, নাকি প্রতি ব্যক্তিতে?
প্রতি ব্যক্তিতে। মূল বিধান হলো Enforcement Regulation-এর ১৯(৫)(১) অনুচ্ছেদ, যা শিক্ষার্থীর পারিশ্রমিকের কাজে "সপ্তাহে আটাশ ঘণ্টার মধ্যে" সীমা বেঁধে দেয় — কোনো একক নিয়োগ সম্পর্কের ওপর নয়। "মিলিয়ে" শব্দটি ব্যবহার করে এমন কোনো সরকারি বাক্য নেই, তাই আমরা স্লোগান নয়, বিধিটাই পড়ছি। তবে পাঠে সংশয়ের জায়গা নেই, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন যা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে (নিচে দেখুন) তা হলো প্রতিটি কর্মস্থল আর দৈনিক ঘণ্টা। ঘণ্টা যোগ না হলে ওই বাধ্যবাধকতার কোনো মানেই থাকে না।
ছুটির নিয়মটাও ধারণার চেয়ে সংকীর্ণ। দিনে আট ঘণ্টা কেবল তখনই, যখন প্রতিষ্ঠানের নিজের বিধিতে (学則) ঠিক করা দীর্ঘ ছুটি চলছে — যেমন গ্রীষ্মের ছুটি। সাপ্তাহিক ছুটিতে নয়। জাতীয় ছুটিতেও নয়। আর পুরো অনুমতিটি বৈধ কেবল যতদিন আপনি ভর্তি আছেন: ইমিগ্রেশনের নিজের FAQ বলছে, যিনি আর কোথাও ভর্তি নেই এমন স্নাতক থাকার মেয়াদ না ফুরালেও পার্টটাইম কাজ করতে পারবেন না।
২০২৭ সেশনের জন্য কী বদলেছে?
দুটি জিনিস, দুটিই ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত থেকে, যার লক্ষ্য "স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসের পরিচালনা আরও যথাযথ করা"। কোনোটিই ২৮ ঘণ্টার সংখ্যাটিতে হাত দেয়নি। দুটিই তার চারপাশের বাস্তবতা বদলে দিয়েছে।
Immigration Services Agency-র নোটিশ অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থী রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন মাসে একবার প্রত্যেক ভর্তি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নিশ্চিত হতে হবে: কাজের অনুমতি আছে কি না; প্রতিটি কর্মস্থলের নাম, একাধিক হলে সবগুলোই; কাজের নির্দিষ্ট ধরন; আর দৈনিক কর্মঘণ্টা। লঙ্ঘন সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন ও পুনরায় যাচাই করতে হবে, রেকর্ড রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যদি জানান যে "কোনো নিয়োগকর্তা তাঁকে সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে বাধ্য করছেন", কিংবা পরামর্শের পরেও অবস্থা না বদলায়, প্রতিষ্ঠানকে নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে জানাতেই হবে। এই তথ্যটিই বাস্তব ছবিটা বদলে দেয়, আর ঢাকায় জাপান বেচেন এমন প্রায় কেউই শিক্ষার্থীদের এটি বলছেন না।
দ্বিতীয় পরিবর্তনটি একেবারে প্রবেশমুখে। অক্টোবর ২০২৬ সেশন থেকে ভাষা-স্কুলের আবেদনকারীর জন্য ১৫০ ঘণ্টা জাপানি শেখার ইতিহাস আর A1 স্তরের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়: পরীক্ষার সনদ, অথবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের নথিভুক্ত সাক্ষাৎকার এখন বাধ্যতামূলক। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে করা স্ট্যাটাস পরিবর্তন ও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনেও একই নিয়ম।
Immigration Services Agency 慎重審査対象国 (সতর্ক যাচাইয়ের দেশ) ঠিক করে বাদ দেওয়ার পদ্ধতিতে: তারা ছাড়প্রাপ্ত দেশের একটি তালিকা প্রকাশ করে, বাকি সবাই এই শ্রেণিতে পড়ে। এশিয়ার ছাড়প্রাপ্তরা হলো কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, চীন, হংকং, ম্যাকাও, তুরস্ক, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও মঙ্গোলিয়া। বাংলাদেশ সেখানে নেই। নতুন নিয়মে এর সরাসরি প্রভাব আছে: তালিকাভুক্ত দেশের যেসব আবেদনকারী বিদেশি উচ্চশিক্ষার সনদ জমা দেন, তাঁদের জাপানি ভাষার দক্ষতা প্রমাণ করতে হয় না। বাংলাদেশি আবেদনকারী সেই ছাড় পান না — তাঁকে পরীক্ষার সনদ দিতে হবে, নয়তো নথিভুক্ত সাক্ষাৎকারে উতরাতে হবে।
কোন কাজ শিক্ষার্থীর জন্য কখনোই চলবে না?
বিধিতে বাদ দেওয়া আছে 風俗営業 অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন ব্যবসার প্রাঙ্গণে করা কাজ, এবং সংশ্লিষ্ট আইনে সংজ্ঞায়িত আরও কয়েকটি শ্রেণিতে যুক্ত হওয়া। অফিসিয়াল ইংরেজি সোজাসাপ্টা: পার্টটাইম কাজ "not in adult entertainment businesses. Note: Prohibited by law."
যে সূক্ষ্মতাটি শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলে তা হলো "প্রাঙ্গণে" কথাটি। নিষেধাজ্ঞা কেবল বিনোদনের ভূমিকায় সীমিত নয় — এমন ব্যবসার ভেতরে রান্নাঘরের কাজ, পরিষ্কার করা বা থালাবাসন ধোয়াও সমানভাবে নিষিদ্ধ। "ওই ধরনের কাজ তো করছি না" ভেবে হোস্টেস ক্লাবে থালা ধোয়ার শিফট নেওয়া শিক্ষার্থী অবৈধভাবেই কাজ করছেন।
জাপানের অফিসিয়াল পোর্টাল আয়ের উদ্দেশ্য নিয়েও স্পষ্ট: আয়টি "is meant to supplement your academic cost and necessary expenses and not for saving or for remittance overseas."

সীমা পেরোলে আসলে কী হয়?
চার রকম পরিণতি, তীব্রতায় অনেক আলাদা — আর কোনটি আসলে ঘটে সেটা জানা দরকার।
- সাধারণ ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তি (৭৩ অনুচ্ছেদ): সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা সর্বোচ্চ ¥২,০০০,০০০ জরিমানা
- গুরুতর ক্ষেত্রে (৭০(১)(৪) অনুচ্ছেদ): কেউ "কেবল অনুমতিহীন কাজেই নিয়োজিত" বলে স্পষ্টভাবে গণ্য হলে — সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং/অথবা ¥৩,০০০,০০০
- বহিষ্কার: ওই একই "কেবল নিয়োজিত" ক্ষেত্রটি বহিষ্কারের তালিকাভুক্ত কারণ
- স্ট্যাটাস বাতিল: যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া টানা ৩ মাস বা তার বেশি সময় শিক্ষার্থীর কাজ না করলে; তখন দেশত্যাগের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়
- মেয়াদ না বাড়ানো — যেটি আসলে ঘটে: সংস্থার নিজের লিফলেটে সতর্ক করা আছে, কাজের অনুমতি লঙ্ঘন করলে থাকার মেয়াদ সোজা না-ও বাড়তে পারে
জাপানের অফিসিয়াল পোর্টাল এ নিয়ে অস্বাভাবিক রকম সরাসরি: "প্রতি বছর আমরা এমন বিদেশি শিক্ষার্থী দেখি যাঁরা … ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকায় থাকার মেয়াদ বাড়াতে না পেরে জাপান ছাড়তে বাধ্য হন, কারণ তাঁরা পার্টটাইম কাজ করে পড়াশোনায় অবহেলা করেন।" নিয়োগকর্তারাও দায়ী — অবৈধ কাজে সহায়তার অপরাধে বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং/অথবা ¥৩,০০০,০০০, আর না জানাটা অজুহাত নয় যদি না নিয়োগকর্তা সম্পূর্ণ অবহেলামুক্ত থাকেন।
একজন শিক্ষার্থী বাস্তবে কত আয় করতে পারেন?
আগে আইনি সর্বোচ্চ সীমা, তারপর মাপা বাস্তবতা। জাপান ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ন্যূনতম মজুরি সংশোধন করেছে, যা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর — জাতীয় ভারিত গড়ে ¥৫৬ বৃদ্ধি, ১৯৭৮ সালে নির্দেশিকা পদ্ধতি চালুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
| অঞ্চল | ঘণ্টায় | ২৮ ঘণ্টা × ৪ সপ্তাহ | টাকায় |
|---|---|---|---|
| টোকিও | ¥১,২৮০ | ¥১,৪৩,৩৬০ | ৳১,১১,৮০০ |
| ওসাকা | ¥১,২৩১ | ¥১,৩৭,৮৭২ | ৳১,০৭,৫০০ |
| জাতীয় গড় | ¥১,১৭৭ | ¥১,৩১,৮২৪ | ৳১,০২,৮০০ |
| ফুকুওকা | ¥১,১১৪ | ¥১,২৪,৭৬৮ | ৳৯৭,৩০০ |
| সর্বনিম্ন (মিয়াজাকি) | ¥১,০৮৫ | ¥১,২১,৫২০ | ৳৯৪,৮০০ |
| বাস্তব গড় | ¥১,৩০০ | ¥৮১,০০০ | ৳৬৩,২০০ |
শেষ সারিটা দুবার পড়ার মতো। প্রথম পাঁচটি সারি যাচাই করা ন্যূনতম মজুরির ওপর আমাদের হিসাব, আর ধরে নেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থী বছরের প্রতি সপ্তাহেই ২৮ ঘণ্টা কাজ পাচ্ছেন। শেষ সারিটি হিসাব নয় — এটি জাপানের নিজের জরিপে নিজ খরচে পড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যা মাপা হয়েছে: মাসে প্রায় ¥৮১,০০০, ঘণ্টায় গড়ে ¥১,৩০০, যেখানে ৬৫% শিক্ষার্থী আদৌ কাজ করেন আর মাত্র ৩.৬% ঘণ্টায় ¥১,৬০০-র বেশি পান। অর্থাৎ টোকিওর পূর্ণ-সীমার হিসাবের প্রায় ৫৬%।
জাপানের অফিসিয়াল পোর্টাল দালালদের দুটি দাবি নাম ধরে খারিজ করে: ঘণ্টায় ¥৩,০০০ পাওয়া যায়, আর মাসে ¥২,০০,০০০–৩,০০,০০০ দিয়ে ফি চালিয়ে দেশে টাকাও পাঠানো যায়। সরকারি পাতায় দুটিকেই মিথ্যা বলা হয়েছে। ঢাকায় কেউ আপনাকে এই সংখ্যাগুলো বললে এখন আপনি জানেন সরকার কী বলছে।
কাজ করা শিক্ষার্থীদের কি কর ও বিমা দিতে হয়?
দুটোই দিতে হয়, আর সীমার সঙ্গে এর সংযোগটা পরিকল্পনায় রাখার মতো।
আয়কর। জাপানের ২০২৫ সালের সংস্কারে ন্যূনতম বেতন-আয় ছাড় বেড়ে ¥৬,৫০,০০০ আর কম আয়ের ক্ষেত্রে মৌলিক ছাড় ¥৯,৫০,০০০ হয়েছে — অর্থাৎ মোটামুটি ¥১৬,০০,০০০ বেতন-আয় পর্যন্ত আয়কর লাগে না। টোকিওতে বছরের প্রতি সপ্তাহে পুরো ২৮ ঘণ্টা কাজ করা শিক্ষার্থীর মোট আয় দাঁড়াবে প্রায় ¥১৮,৬৩,৬৮০, অর্থাৎ ওই রেখা পেরিয়ে যাবে। ¥৮১,০০০ গড়ে থাকা শিক্ষার্থী ধারেকাছেও যাবেন না। একাধিক কাজ থাকলে কর অফিসে নিজেকেই ব্যবস্থা নিতে হয়।
স্বাস্থ্যবিমা। বাধ্যতামূলক। তিন মাস বা তার বেশি থাকা বিদেশি বাসিন্দাদের National Health Insurance-এ যুক্ত হতেই হবে; এটি ৭০% দেয়, আপনি দেন ৩০%। প্রিমিয়াম হিসাব হয় আগের বছরের আয়ের ওপর, পার্টটাইম আয়সহ, আর কম আয়ের ছাড় আছে কেবল আয় ঘোষণা করলেই।
পেনশন। জাপানে থাকা সবাই ২০ বছর বয়স থেকে যুক্ত হন, বিদেশি বাসিন্দারাও — তবে শিক্ষার্থীরা Student Payment Special Provision-এর জন্য আবেদন করে প্রিমিয়াম পিছিয়ে দিতে পারেন। আয়ের শর্তে কেবল শিক্ষার্থীর নিজের আয় দেখা হয়, পরিবারের আয় অপ্রাসঙ্গিক, আর রেখাটি ¥১২,৮০,০০০ ও কিছু ভাতা মিলিয়ে। পিছিয়ে দেওয়া সময়ের টাকা দশ বছরের মধ্যে শোধ করা যায়। খেয়াল করুন এর অর্থ কী: টোকিওতে সারা বছর সীমা ছুঁয়ে কাজ করলে একদিকে আয়কর দায় তৈরি হবে, অন্যদিকে পেনশন ছাড়ের আয়সীমাও পেরিয়ে যাবে।
বাংলাদেশি আবেদনকারীকে আলাদা কী করতে হয়?
পার্টটাইম কাজ কি পড়া শেষে থেকে যেতে সাহায্য করে?
সরাসরি নয় — ঘণ্টাগুলোর নিজস্ব কোনো মূল্য নেই। কাজের স্ট্যাটাসে যাওয়া নির্ভর করে আপনার একাডেমিক রেকর্ডে: কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে ডিগ্রি, কিংবা 専門士 উপাধি যেখানে বিষয় ও কাজের যোগসূত্র দেখানো যায়।
তবে চাকরি খোঁজার একটা সুযোগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয় বা যোগ্য ভোকেশনাল কোর্সের স্নাতকেরা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র নিয়ে Designated Activities স্ট্যাটাসে যেতে পারেন ৬ মাসের জন্য, একবার নবায়নযোগ্য — অর্থাৎ চাকরি খুঁজতে জাপানে এক বছর পর্যন্ত। স্থানীয় সরকারের যোগ্য কর্মসংস্থান-সহায়তা কর্মসূচিতে গৃহীত হলে দ্বিতীয় বছরও সম্ভব। এই সব ক্ষেত্রেই অনুমতিসহ ২৮ ঘণ্টার পার্টটাইম কাজ চলে, যদি প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্রে সেটি স্পষ্ট উল্লেখ থাকে।
জাপানেই ব্রোশিওর আর হিসাবের ফারাক সবচেয়ে বড়। পরিবার মাসে ¥২,০০,০০০ ধরে বাজেট করে, গিয়ে পায় ¥৮১,০০০, আর ঘাটতিটা গিয়ে পড়ে উপস্থিতির ওপর — যা কিনা ভিসার মেয়াদ বাড়বে কি না তার একমাত্র নির্ধারক। আঠারো মাস পরে মেয়াদ না বাড়ার আপিলে সাহায্য করার চেয়ে আমরা বরং পরিবারের সঙ্গে বসে সরকারের মাপা সংখ্যাটির ওপরেই বাজেট বানাতে চাই, আলোচনাটা কঠিন হলেও।
যা আমরা যাচাই করতে পারিনি, সরাসরি বলছি। ২৮ ঘণ্টার সপ্তাহ কোন দিন থেকে গোনা হবে তা কোনো সরকারি পাতায় লেখা নেই, তাই নিরাপদ পাঠ একটাই — কোনো চলমান সাত দিনের সময়সীমায় ২৮ ঘণ্টা পেরোনো যাবে না; এটি আমাদের ব্যাখ্যা, উদ্ধৃত নিয়ম নয়। একাধিক কাজের ক্ষেত্রে "মিলিয়ে" শব্দটিও কোনো পাতায় নেই; যোগ করার বিষয়টি বিধির ভাষা ও নতুন রিপোর্টিং বাধ্যবাধকতা থেকে আমাদের অনুমান, আর আমরা সেটি স্পষ্ট করেই বলছি। নিয়োগকর্তার শাস্তি ৫ বছর ও ¥৫,০০০,০০০-এ বাড়ানোর কথা ২০২৪ সালের সংশোধনীর রূপরেখায় নিশ্চিত, তবে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ কার্যকর আইনের পাঠে এখনো ৩ বছর ও ¥৩,০০০,০০০ দেখাচ্ছে, তাই আমরা বর্তমান সংখ্যাই লিখেছি; নতুনগুলো ওই আইনের ১ এপ্রিল ২০২৭-এর কার্যকারিতার সঙ্গে আসার কথা। ¥৮১,০০০ ও ¥১,৩০০ সংখ্যা দুটি ২০২৩ সালের JASSO জরিপের, অর্থাৎ তিন বছরের পুরোনো। Immigration Services Agency-র আর কোনো ইংরেজি ওয়েবসাইট নেই — isa.go.jp/en জাপানিতে রিডাইরেক্ট করে আর পুরোনো ইংরেজি URL ৪০৪ দেখায় — তাই এখানকার ইংরেজি ভাষ্য এসেছে দ্বিভাষিক সরকারি ফরম ও জাপানের MEXT/JASSO পোর্টাল থেকে। টাকার সব রূপান্তর ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ¥১ ≈ ৳০.৭৮ ধরে আমাদের হিসাব। ন্যূনতম মজুরির কার্যকর তারিখগুলোর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের নিজের সতর্কতা আছে যে আপত্তি প্রক্রিয়ার পর তা বদলাতে পারে।
সরকারি সূত্র: Study in Japan (MEXT/JASSO) — পার্টটাইম কাজের নিয়ম ও মাপা আয় · Immigration Services Agency — কাজের অনুমতির প্রক্রিয়া · Immigration Services Agency — ২০২৬ সালে স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস কড়াকড়ি
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানের MEXT বৃত্তি · বাংলাদেশ থেকে জাপান স্টুডেন্ট ভিসা
জাপানের বাজেট বানাচ্ছেন? ব্রোশিওর নয়, ¥৮১,০০০ ধরেই বানান।
২৮ ঘণ্টার সীমা সত্যি, এ বছর প্রয়োগ আরও কড়া হয়েছে, আর মাপা গড় আয় বেশিরভাগ মানুষকে যা বলা হয় তার সামান্য বেশি অর্ধেক। অফার লেটার আর পরিবারের আসল সংখ্যাগুলো নিয়ে আসুন — কেউ ডিপোজিট দেওয়ার আগেই সোজাসুজি বলে দেব পরিকল্পনাটা টেকে কি না।
ফ্রি পরামর্শ নিন →
