প্রতি বছর কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের অফিসে আসেন হাতে "Lithuania স্টুডেন্ট ভিসা"র প্রিন্ট করা একটা চেকলিস্ট নিয়ে। প্রায় প্রতিটি চেকলিস্টই ভুল। একটু-আধটু ভুল নয় — গোড়া থেকেই ভুল, কারণ যে কাগজটার জন্য তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ফুল-টাইম শিক্ষার্থীদের জন্য সেটির অস্তিত্বই আর নেই।
২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে Lithuania স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ফুল-টাইম ডিগ্রি শিক্ষার্থীরা আর National Visa (D)-র জন্য আবেদন করেন না — তাঁরা MIGRIS সিস্টেমের মাধ্যমে পড়াশোনাভিত্তিক Temporary Residence Permit (TRP)-র আবেদন করেন। শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় ফি ৮০ ইউরো, দেখাতে হয় Lithuania-র ন্যূনতম মাসিক মজুরির অর্ধেক প্রতি মাসের জন্য, আর বাংলাদেশে কোনো কেন্দ্র না থাকায় কাগজ জমা দিতে হয় VFS Global New Delhi-তে।
Lithuania-তে পড়তে ভিসা লাগে, নাকি রেসিডেন্স পারমিট?
রেসিডেন্স পারমিট। বাংলাদেশ থেকে Lithuania স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝিটা এখানেই, আর এই ভুলে মাসের পর মাস নষ্ট হয়। Lithuania-র স্বীকৃত উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান SMK College of Applied Sciences নিজেদের ভর্তি পাতায় সরাসরি লিখে রেখেছে — বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য National Visa D আর কার্যকর নয়, আর ডিগ্রি শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন পড়াশোনাভিত্তিক TRP-র জন্য, যা সাধারণত দুই বছরের জন্য দেওয়া হয় এবং পরে নবায়নযোগ্য।
সরকারি নথিও একই কথা বলে। Migration Department-এর নিজস্ব ফি তালিকায় আলাদা এবং কম হারে একটি লাইন আছে শুধু "Lithuania-র গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বিদেশি"দের জন্য। আর দক্ষিণ এশিয়ার আবেদন যে কেন্দ্র সামলায়, সেই কেন্দ্রের পাতায় "প্রদত্ত সেবা" হিসেবে লেখা আছে একটাই জিনিস — temporary residence permits।
তাই কোনো প্রতিষ্ঠান যখন ফেসবুকে আপনার "Lithuania D ভিসা" করিয়ে দেওয়ার কথা বলে, জিজ্ঞেস করুন তারা আসলে কোন কাগজের কথা বলছে। আপনার প্রোগ্রাম যদি ফুল-টাইম স্নাতক বা স্নাতকোত্তর হয়, উত্তরটা হওয়া উচিত TRP।
দূতাবাস নয়। New Delhi-তে অবস্থিত Lithuania দূতাবাস জানাচ্ছে, জাতীয় ভিসা ও temporary residence permit-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হলো Vilnius-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন Migration Department। দূতাবাস আর ভিসা সেন্টার যোগাযোগের জায়গা; সিদ্ধান্ত হয় Lithuania-তেই।
বাংলাদেশে কি Lithuania-র ভিসা সেন্টার আছে?
নেই। আর এখানেই এমন একটা তথ্য আসে, যা সাধারণ আন্তর্জাতিক গাইড আপনাকে দিতে পারবে না।
বাংলাদেশে Lithuania-র উপস্থিতি আছে ঠিকই — সম্মানসূচক কনসাল Mishal Ali, ৮২২/৩ বেগম রোকেয়া সরণি, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬, যাঁর তথ্য ভারতে অবস্থিত Lithuania দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেওয়া (পাতাটি হালনাগাদ ১৩ মে ২০২৬)। তবে সম্মানসূচক কনস্যুলেট ভিসা বা পারমিট দেয় না। Migration Department যে দেশগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে যেখানে TRP বা জাতীয় ভিসার সেবাকেন্দ্র আছে, সেই তালিকায় বাংলাদেশের নাম কোথাও নেই।
ভারতের নাম আছে। নির্ধারিত কেন্দ্রটি হলো VFS Global, Schengen Visa Application Centre, 4th Floor, 27 K. G. Marg, New Delhi 110001 (Mumbai-তেও একটি শাখা আছে, Urmi Axis Building, Mahalaxmi West)। সময় সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, দুপুর ১টা ৩০ থেকে ২টা ৩০ পর্যন্ত বিরতি। ওই কেন্দ্রের নিজস্ব সেবা ফি Migration Department প্রকাশ করেছে — রাষ্ট্রীয় ফির বাইরে অতিরিক্ত ১১০ ইউরো।
আপনি সরাসরি VFS-এ গিয়ে বা তাদের সাইটে বুক করতে পারবেন না। Migration Department স্পষ্ট করে বলেছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে শুধু MIGRIS-এর মাধ্যমে, এবং তখনই, যখন আপনার জমা দেওয়া আবেদনের অবস্থা "Submitted to external service provider" দেখাবে। এই অবস্থা আসার আগেই যাঁরা দিল্লির টিকিট কেটে ফেলেন, তাঁদের টিকিট বদলাতে হয়। আগে স্ট্যাটাস, তারপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট, তারপর ফ্লাইট।
Lithuania-র স্টুডেন্ট TRP-র জন্য কত টাকা দেখাতে হয়?
বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যা ভাবেন, তার চেয়ে অনেক কম — অনলাইনে যে অঙ্কটা ঘোরে, সেটা সাধারণত আসল অঙ্কের দ্বিগুণ।
জীবনযাত্রার তহবিলের শর্তটা Lithuania-র ন্যূনতম মাসিক মজুরির অর্ধেক, পুরো ন্যূনতম মজুরি নয়। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে Lithuania-র গ্রস ন্যূনতম মাসিক মজুরি বেড়ে হয়েছে ১,১৫৩ ইউরো (আগে ছিল ১,০৩৮ ইউরো, বৃদ্ধি প্রায় ১১ শতাংশ)। এর অর্ধেক মাসে প্রায় ৫৭৭ ইউরো, আর এই অঙ্ক দেখাতে হয় যত সময়ের পারমিট চাইছেন তত সময়ের জন্য, অথবা অন্তত এক বছরের জন্য — অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৬,৯১৮ ইউরো।

১ ইউরো = ১৪৩.০৩ টাকা ধরলে (উন্মুক্ত বিনিময় হার, ২৪ আগস্ট ২০২৬), মাসে ৫৭৭ ইউরো মানে প্রায় ৮২,৫০০ টাকা, আর এক বছরের ৬,৯১৮ ইউরো মানে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। হার প্রতিদিন বদলায় — এগুলোকে ধারণা হিসেবে নিন, ব্যাংক স্টেটমেন্টে বসানোর অঙ্ক হিসেবে নয়। ফেরার যাত্রার খরচ আলাদাভাবে দেখাতে হয়।
কাজে নামার আগে যাচাই করুন। ১,১৫৩ ইউরো ন্যূনতম মজুরি আর অর্ধেকের হিসাবটা এসেছে Lithuania-র একটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত TRP নির্দেশনা এবং ২০২৬ সালের মজুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত সংবাদ থেকে। মজুরির সীমা প্রতি জানুয়ারিতে বদলায়। ব্যাংক স্টেটমেন্ট চূড়ান্ত করার আগে নিজের MIGRIS আবেদনের ভেতরে সঠিক ইউরো অঙ্কটা মিলিয়ে নিন — MIGRIS আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অঙ্কটাই দেখায়।
সরকারি ফি বাবদ Lithuania-র স্টুডেন্ট TRP-তে কত খরচ?
ভাবার চেয়ে কম, আর শিক্ষার্থীদের ছাড়টা সত্যি। পড়াশোনাভিত্তিক আবেদনে Migration Department স্বাভাবিক হারের অর্ধেক নেয়। নিচে প্রকাশিত তালিকা (Migration Department-এর রাষ্ট্রীয় ফি পাতা, সর্বশেষ হালনাগাদ ২৮ মে ২০২৫; New Delhi কেন্দ্রের পাতা হালনাগাদ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬)।
| খরচের ধরন | পরিমাণ | বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য? |
|---|---|---|
| TRP — সাধারণ পদ্ধতি | ১৬০ ইউরো | না — এটা শিক্ষার্থী হার নয় |
| TRP — Lithuania-র প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া বিদেশি | ৮০ ইউরো | হ্যাঁ — এটাই আপনার হার |
| TRP — জরুরি পদ্ধতি (সাধারণ) | ৩২০ ইউরো | শিক্ষার্থীরা কমই নেন |
| নতুন TRP কার্ড তৈরি | ৪৫ ইউরো | হ্যাঁ |
| VFS New Delhi সেবা ফি | ১১০ ইউরো | হ্যাঁ |
| National Visa (D) পরীক্ষার ফি | ১৪০ ইউরো | ফুল-টাইম ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের জন্য নয় |
| Lithuania-তে পড়া শেষ করার পর TRP | রাষ্ট্রীয় ফি নেই (একবার) | হ্যাঁ — চাকরি খোঁজার পারমিট |
শেষ সারিটা আরেকবার পড়ুন। Lithuania-র প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা কেউ সাধারণ পদ্ধতিতে temporary residence permit-এর রাষ্ট্রীয় ফি থেকে অব্যাহতি পান, নিজের পছন্দমতো একবার। অর্থাৎ পড়া শেষে থাকার পারমিটে আপনার রাষ্ট্রীয় ফি লাগছে না। এটা Migration Department-এর প্রকাশিত অব্যাহতির তালিকাতেই লেখা, আর এ ধরনের তথ্যই একটা পরিবারের পুরো বাজেট পরিকল্পনা বদলে দেয়।
বাংলাদেশি আবেদনকারীর কাছে Migration Department কী কাগজ চায়?
মূল তালিকাটা ছোট, তবে দুটো জিনিস বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অন্য দেশের চেয়ে আলাদাভাবে কাজ করে।
- অন্তত দুই বছর মেয়াদের পাসপোর্ট, যেখানে নাম ও পদবি — দুটো ঘরই পূরণ করা থাকতে হবে। পদবির ঘর ফাঁকা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় আপনার কোড দিতে পারে না, আর বাংলাদেশি পাসপোর্টে এটা বাস্তবেই ঘটে।
- আপনার Lithuania-র প্রতিষ্ঠান থেকে mediation code, যা তারা MIGRIS-এর মাধ্যমে পাঠায়। চূড়ান্ত ভর্তির কয়েক কর্মদিবস পর এটা দেওয়া হয়, আর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান কোড দেওয়ার আগে টিউশন ফি জমার প্রমাণ চায়।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা non-conviction সনদ — গত দুই বছরে ছয় মাসের বেশি যেসব দেশে থেকেছেন, প্রতিটির জন্য।
- স্বাস্থ্যবিমা, যা পুরো পারমিটের সময় বা অন্তত এক বছর Lithuania ও Schengen এলাকায় কার্যকর থাকবে, প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুযায়ী কভারেজ অন্তত ১০,০০০ ইউরো।
- জীবনযাত্রা ও ফেরার তহবিলের প্রমাণ, ওপরে যেভাবে বলা হয়েছে।
- বসবাসের ঠিকানার নিশ্চয়তা — অনেক প্রতিষ্ঠান পরামর্শ দেয়, Lithuania-তে পৌঁছে ঠিকানা ঘোষণা করাই ভালো।
Hague Apostille Convention-এর বাইরের দেশগুলোকে কাগজ দুই ধাপে লিগ্যালাইজ করাতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। ১৯৬১ সালের অ্যাপোস্টিল কনভেনশন বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে, তাই বাংলাদেশি সনদে এখন অ্যাপোস্টিল করানো যায়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আর শিক্ষাগত কাগজে এতে সত্যিই সময় বাঁচে — তবে অ্যাপোস্টিলটা সঠিকভাবে এবং সঠিক ক্রমে করাতে হবে।
Lithuania-র TRP প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগে, ইন্টারভিউ কি হয়?
ভর্তি থেকে যাত্রা পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে রাখুন। আর হ্যাঁ, ইন্টারভিউ হয় — যেটার কথা বেশিরভাগ গাইড বলেই না।
- শর্তসাপেক্ষ ভর্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাগজ জোগাড় শুরু করুন (সেমিস্টার শুরুর প্রায় ৫–৬ মাস আগে)।
- প্রতিষ্ঠান থেকে চূড়ান্ত ভর্তি ও mediation code নিন।
- স্ক্যান করা কাগজ যুক্ত করে MIGRIS-এ অনলাইনে আবেদন করুন।
- MIGRIS থেকে সেবাকেন্দ্রের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সশরীরে গিয়ে মূল কাগজ ও বায়োমেট্রিক দিন।
- Migration Department-এর সঙ্গে অনলাইন ইন্টারভিউ দিন — প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান আর Lithuania বেছে নেওয়ার কারণ নিয়ে।
- সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করুন — সাধারণ পদ্ধতিতে প্রায় দুই মাস।
ইন্টারভিউটাকে হালকাভাবে নেবেন না। এটা নিয়মরক্ষার ব্যাপার নয়। কর্মকর্তারা জানতে চান, এই প্রতিষ্ঠানই কেন, এই প্রোগ্রামই কেন, আগের পড়াশোনার সঙ্গে বিষয়গুলোর সম্পর্ক কী, আর খরচ চালাবেন কীভাবে। গোলমেলে উত্তর মানে দুর্বল study purpose, আর দুর্বল study purpose ইউরোপের যেকোনো দেশেই আবেদন ভেস্তে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
২০২৭ সালে পড়ার পাশাপাশি Lithuania-তে কাজ করা যাবে?
যাবে, তবে ২০২৬ সালে নিয়ম বদলেছে আর প্রকাশিত অনেক পরামর্শ এখনো সেটা ধরতে পারেনি।
১৪ মে ২০২৬ Seimas বিদেশিদের আইনি অবস্থা-সংক্রান্ত আইনে সংশোধনী পাস করে, যার বেশিরভাগ অংশ কার্যকর হয়েছে ২২ মে ২০২৬ থেকে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, স্নাতক প্রোগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না — ব্যতিক্রম শুধু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন ছুটি আর প্রোগ্রামে উল্লেখ থাকা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সময়। ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের ওপর কাজের সময়ের সীমা নেই। ২১ মে ২০২৬-এর আগে ইস্যু হওয়া পারমিট এই নতুন সীমার বাইরে।
একই সংশোধনী অনুযায়ী, নিয়ম না মানলে temporary residence permit নবায়ন করা যায় না, আর চালু পারমিট বাতিল হয়ে যায়। মাঝামাঝি কোনো ব্যবস্থা নেই। এখনকার বাড়তি কয়েক টাকার জন্য পরের পারমিটটা হারানো বোকামি।
সরকারি তথ্যে অমিল — ইচ্ছে করেই বলছি। জাতীয় Study in Lithuania পোর্টাল এখনো লিখে রেখেছে, রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার পর ইইউ-বহির্ভূত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারেন। ওই পাতায় ২২ মে ২০২৬-এর সংশোধনীর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না; সংশোধনীর তথ্য আমরা নিয়েছি ৪ জুন ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি বাল্টিক আইনি প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণ থেকে। দুই সূত্রে অমিল হলে কড়া নিয়মটাই ধরে নিন, আর চাকরির চুক্তিতে সই করার আগে Migration Department বা আপনার প্রতিষ্ঠানের ইন্টারন্যাশনাল অফিসের কাছ থেকে নিজের অবস্থানটা নিশ্চিত করে নিন।
পড়া শেষে Lithuania-তে থেকে কাজ করা যায়?
যায় — মোট পনেরো মাস পর্যন্ত, আর পারমিটটিতে রাষ্ট্রীয় ফি লাগে না।
জাতীয় পোর্টাল দুটো ধাপ দেখাচ্ছে: শেষ বর্ষে থাকতেই আপনি পড়া শেষ হওয়ার দিন থেকে অতিরিক্ত তিন মাসের জন্য রেসিডেন্স পারমিট বাড়ানোর আবেদন করতে পারেন, আর পাস করার পর চাকরি খোঁজা বা স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য বারো মাসের temporary residence permit-এর আবেদন করতে পারেন। দুটো মিলে পনেরো মাসের সময় — অনেক বেশি খরচের গন্তব্যের সঙ্গে তুলনীয়।
এই পথে ক্যারিয়ার সাজানোর আগে ২০২৬ সালের দুটো পরিবর্তন জেনে রাখা দরকার। এক, Lithuania-র প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করাদের যে ছাড়ে কাজভিত্তিক পারমিটের সাধারণ যোগ্যতা বা বেতনের শর্ত এড়ানো যায়, সেটির মেয়াদ পড়া শেষের পর পাঁচ বছর — আগে ছিল দশ বছর। দুই, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে যিনি Schengen ভিসায় Lithuania-তে ঢুকেছেন, তিনি আর দেশটির ভেতর থেকে non-highly qualified specialist হিসেবে কাজভিত্তিক পারমিটের আবেদন করতে পারবেন না। যিনি নিয়মমাফিক পড়াশোনার পথে যান, তাঁর কোনো ক্ষতি এতে নেই — ক্ষতি হয় শর্টকাট খোঁজার।
সবচেয়ে বেশি কোথায় ভুল হয়, আর কীভাবে এড়াবেন?
- প্রোগ্রামে TRP লাগবে জেনেও "D ভিসা"র প্রস্তুতি নেওয়া।
- MIGRIS-এ আবেদন সেবাকেন্দ্রের ধাপে পৌঁছানোর আগেই দিল্লির সফর ঠিক করে ফেলা।
- সঠিক অনুপাতের বদলে পুরো ন্যূনতম মজুরি ব্যাংকে দেখানো — কিংবা পুরোনো তথ্য দেখে কম দেখানো।
- ভুল মেয়াদের বিমা কেনা, যা পারমিট শেষ হওয়ার আগেই ফুরিয়ে যায়।
- পাসপোর্টে পদবির ঘর ফাঁকা, যা ধরা পড়ে তখনই, যখন প্রতিষ্ঠান mediation code দিতে পারে না।
- Migration Department-এর ইন্টারভিউকে নিয়মরক্ষা ভেবে বসা।
- কোনো ওয়েবসাইটে ৪০ ঘণ্টা লেখা আছে বলে প্রথম বর্ষে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টার বেশি কাজ করা।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি, তা হলো Lithuania-র আবেদন টাকার অভাবে খুব কমই আটকায়। আটকায় ক্রমের ভুলে। কাগজগুলো আলাদাভাবে সামলানো কঠিন নয়; আসল হলো ধারাবাহিকতা — ভর্তি, তারপর mediation code, তারপর MIGRIS, তারপর স্ট্যাটাস, তারপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট, তারপর ইন্টারভিউ। এই ক্রমটাই ঠিক করে দেয়, একজন শিক্ষার্থী সেপ্টেম্বরের ইনটেক ধরবেন নাকি পরেরটার জন্য বসে থাকবেন। আর আপনার নিজের পাসপোর্ট, নিজের ব্যাংক অবস্থা আর নিজের একাডেমিক ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে সেই ক্রম সাজানোর কাজটা কোনো ব্লগ পোস্ট করে দিতে পারে না।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Poland স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ এবং বাংলাদেশ থেকে Romania স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭।
এই গাইডে ব্যবহৃত সরকারি সূত্র: Migration Department-এর রেসিডেন্স পারমিট ফি তালিকা এবং Lithuania দূতাবাসের রেসিডেন্স পারমিট ও ন্যাশনাল D ভিসা পাতা।
খেয়াল রাখুন: এই গাইডটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের Lithuania-র পথটি বুঝতে সাহায্য করার জন্য প্রকাশিত গবেষণা। এর অর্থ এই নয় যে Eduvisa এই মুহূর্তে Lithuania-র পূর্ণ প্রসেসিং করে — পরিকল্পনা করার আগে কোন কোন দেশ আমরা সামলাই, সরাসরি জেনে নিন।
Lithuania আপনার জন্য মানানসই কি না, নিশ্চিত নন?
ট্রান্সক্রিপ্ট, পাসপোর্ট আর পরিবারের আর্থিক অবস্থার কাগজ নিয়ে আমাদের অফিসে আসুন — আমরা সৎভাবে পুরোটা মিলিয়ে দেখব, দরকার হলে বলব অন্য কোনো দেশ আপনার জন্য বেশি ভালো। আর যদি যানই, পৌঁছানোর পরেও আমরা পাশে থাকি: বাসা, রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, কঠিন প্রথম মাসটা। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান যেখানে থেমে যায়, আমাদের কাজ সেখান থেকেই শুরু।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →