মালয়েশিয়ার ভিসা-লাগবে তালিকায় বাংলাদেশের নাম আছে, তাই উড়াল দেওয়ার আগেই আবেদন করতে হয় — অনলাইনে, সরকারি eVISA পোর্টালে, বাংলাদেশে বসেই। ঢাকার মালয়েশিয়া হাইকমিশন দামটা খোলাখুলি লিখে দিয়েছে: ভিসা ফি RM ২০ আর প্রসেসিং ফি RM ১০৫, যেটাকে তারা প্রায় ৬০০ আর ২,৫০০ টাকা বলছে। সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ ইস্যুর দিন থেকে তিন মাস, আর থাকা যায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার কথা যেটা শুনে থাকবেন, সেটি ব্যবসার রুট — পর্যটকের নয়।
আপনার রুট কোনটি — সিঙ্গেল এন্ট্রি না মাল্টিপল এন্ট্রি?
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ ঠিক তিন ধরনের ভিসার কথা লিখেছে: সিঙ্গেল এন্ট্রি, মাল্টিপল এন্ট্রি আর ট্রানজিট। বাংলাদেশি পর্যটকের জন্য পছন্দ নেমে আসে দুইয়ে, আর সৎ উত্তরটা হলো — এর মধ্যে একটিই আসলে আপনার হাতে আছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের ভাষায়, এটি দেওয়া হয় তাঁদের যাঁদের মালয়েশিয়ায় ঢুকতে ভিসা লাগে এবং যাঁরা যাচ্ছেন মূলত সোশ্যাল ভিজিটে। এটিই পর্যটকের ঘর। আবেদন হয় বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে, আর ঢাকার হাইকমিশন ফি লিখে রেখেছে রিঙ্গিত ও টাকায়।
- একবারই ঢোকা যায়
- ইস্যুর তারিখ থেকে সাধারণত ৩ মাস মেয়াদ
- থাকা যায় ৩০ দিন পর্যন্ত
- RM ২০ + RM ১০৫, সঙ্গে পেমেন্ট সুবিধা ফি
এটি দেওয়া হয় ব্যবসা বা সরকার-থেকে-সরকার কাজের জন্য। এরপর ইমিগ্রেশন বিভাগ ঠিক দুটি দেশের নাম লেখে, যাঁরা সোশ্যাল ভিজিটেও MEV নিতে পারেন — ভারত, RM ১০০-তে, আর চীন, RM ৩০-এ। বাংলাদেশের নাম সেখানে নেই।
- মেয়াদ ৩ থেকে ১২ মাস
- প্রতিবার ৩০ দিন, বাড়ানো যায় না
- পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ আর নিশ্চিত রিটার্ন টিকিট
- ট্যুর গ্রুপ এতে যোগ্য নয়
| বিষয় | সিঙ্গেল এন্ট্রি | মাল্টিপল এন্ট্রি |
|---|---|---|
| উদ্দেশ্য | সোশ্যাল ভিজিট | ব্যবসা / G2G |
| বাংলাদেশের জন্য | খোলা | পর্যটনে নয় |
| মেয়াদ | ৩ মাস | ৩–১২ মাস |
| থাকা | ৩০ দিন পর্যন্ত | প্রতিবার ৩০ দিন |
| বাড়ানো | প্রকাশিত নয় | যায় না |
| ট্যুর গ্রুপ | বাধা নেই | যোগ্য নয় |
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার ট্যুরিস্ট ভিসায় আসলে খরচ কত?
বাজারে যা শোনা যায়, তার চেয়ে অনেক কম। ঢাকার মালয়েশিয়া হাইকমিশন দুটি সংখ্যা লিখেছে, এর বাইরে কিছু নয়: ভিসা ফি RM ২০.০০, যাকে তারা বলছে "প্রায় ৬০০ টাকা", আর প্রসেসিং ফি RM ১০৫.০০, "প্রায় ২,৫০০ টাকা"। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পেমেন্ট সুবিধা ফি, যেটি পৃষ্ঠাটি বলছে ০.৮% থেকে ১.৭% — কোন মাধ্যমে টাকা দিচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে।
টাকার দুটি হিসাব যোগ করলে দাঁড়ায় প্রায় ৩,১০০ টাকা — কিন্তু সেগুলো যেন লেখা হয়েছিল রিঙ্গিত যখন অনেক সস্তা ছিল, তখন। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর দরে (RM ১ ≈ ৩০.১৬ টাকা) RM ১২৫ আসলে প্রায় ৩,৭৭০ টাকা। এটি আজকের দরে আমাদের নিজেদের হিসাব, হাইকমিশনের প্রকাশিত সংখ্যা নয়। বাজেট করুন রিঙ্গিতের অঙ্ক ধরে, কারণ ওটাই আপনার কাছ থেকে নেওয়া হবে; পৃষ্ঠার টাকার রূপান্তরকে আনুমানিক ধরে নিন।
হাইকমিশনের নিজের FAQ-তেই লেখা আছে, "OSC Fee amounted BDT2,300 is no longer applicable effective 14 February 2022"। চার বছর পরেও সেটি অনেক বিলে ফিরে আসে। আপনার কোটেশনে যদি "ওয়ান স্টপ সেন্টার ফি" নামে কোনো লাইন থাকে, জিজ্ঞেস করুন সেটি কিসের — কারণ মিশন বলছে এটি আর প্রযোজ্য নয়। এজেন্সির সার্ভিস চার্জ আলাদা জিনিস, সেটি নেওয়া দোষের নয়; শুধু সেটি সরকারি ফি নয়, আর নামটা সেভাবেই লেখা উচিত।
আবেদন আসলে কোথায় করবেন?
অনলাইনে, আর বাংলাদেশ থেকেই। হাইকমিশন পাঠাচ্ছে malaysiavisa.imi.gov.my-তে, এবং স্পষ্ট করে লিখেছে যে আবেদনকারীকে "submit eVISA application from the country of residence" — অর্থাৎ তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আপনার হয়ে করা আবেদন প্রকাশিত পথ নয়। FAQ আরেকটি পথের কথা বলে: আবেদন যেতে পারে মালয়েশিয়া সরকারের নিয়োগ করা Authorised Visa Application Agency-র মাধ্যমেও, যারা সরকারের পক্ষে আবেদন নেয়। দুটোই শেষ হয় একই ইমিগ্রেশন সিস্টেমে। পার্থক্য কেবল কে ফরম পূরণ করছে, আর তার জন্য আপনার কাছ থেকে কত নিচ্ছে।
মিশন কোন কাগজগুলো চায়?
সোশ্যাল ভিজিট আবেদনের প্রকাশিত তালিকাটি এই। ছোট তালিকা — আর ঠিক সে কারণেই যে দুটি কাগজ ছোট নয়, সেখানেই আবেদন আটকায়।
- আসল পাসপোর্ট এবং ফটোকপি
- পূরণ করা ভিসা আবেদন ফরম
- দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- রিটার্ন এয়ার টিকিট
- সাম্প্রতিক ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সঙ্গে সলভেন্সি লেটার
- হোটেল রিজার্ভেশন
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সহায়ক কাগজ — আমন্ত্রণপত্র, বিবাহ সনদ ইত্যাদি

ব্যাংক স্টেটমেন্টই কেন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে?
কারণ আবেদনের সকালে বানিয়ে ফেলা যায় না একমাত্র এই কাগজটিই। ছয় মাস পেছনে তাকানো মানে অনেকটা পথ, আর সলভেন্সি লেটার আপনার প্রিন্ট করা কাগজ নয় — ব্যাংক নিজে আপনার সম্পর্কে যা বলছে, সেটি। দুটো মিলে ভিসা কর্মকর্তার আসল প্রশ্নের জবাব দেয়: এই যাত্রার খরচ কি এই মানুষটি বহন করতে পারেন, আর টাকাটা কি সত্যিই তাঁর? হোটেল বুকিং আর রিটার্ন টিকিট এক ঘণ্টায় হয়ে যায়। ছয় মাসের ইতিহাস হয় না।
শুরু থেকে শেষ — প্রক্রিয়াটা কেমন?
বাংলাদেশি আবেদন কেন ফিরে আসে?
নাটকীয় কোনো একটি কারণে প্রায় কখনোই নয়। সাধারণত এগুলোর কোনো একটিতে, আর প্রতিটিই আবেদনের আগে ঠিক করে ফেলা যায়।
- হঠাৎ জমা হওয়া টাকা। ছয় মাসের স্টেটমেন্ট চাওয়া হয় ঠিক এটুকু দেখতেই — টাকাটা এল কোথা থেকে।
- সলভেন্সি লেটার নেই, কিংবা ব্যাংকের চিঠি ছাড়া শুধু স্টেটমেন্টের প্রিন্ট।
- বুকিং আর সূচি মিলছে না — হোটেলের তারিখ ফ্লাইটের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না।
- বাংলাদেশের বাইরে থেকে আবেদন, অথচ নির্দেশনা হলো নিজের বসবাসের দেশ থেকে করা।
- তিন মাসের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া, তারপর মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে পৌঁছানো।
- ধরে নেওয়া যে এই ভিসায় কাজ বা পড়াশোনা চলে। চলে না — ওগুলো যায় Visa With Reference-এ, যা আগে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন অনুমোদন করে।
মালয়েশিয়ার কথা নিয়ে যাঁরা আসেন, তাঁদের সফরের পেছনে সাধারণত একটা কারণ থাকে — সন্তান ভর্তি হওয়ার আগে ক্যাম্পাস দেখা, আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করা, কিংবা চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট। এসব সফরের তারিখ নড়ানো যায় না, আর ঠিক সেখানেই ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট কামড় বসায়। পরে রিফিউজালের আপিলে সাহায্য করার চেয়ে আগেভাগে আপনার অ্যাকাউন্ট আর ক্যালেন্ডার একসঙ্গে দেখে নেওয়া আমাদের কাছে অনেক ভালো।
যা আমরা যাচাই করতে পারিনি, খোলাখুলি বলছি। আমরা যে পৃষ্ঠাগুলো পড়েছি, ঢাকার মালয়েশিয়া হাইকমিশন সেখানে কোনো প্রসেসিং সময়, কাউন্টারের সময়সূচি বা পাসপোর্টের ন্যূনতম মেয়াদ লেখেনি — তাই এই লেখায় সেগুলোর কোনোটিই উদ্ধৃত করা হয়নি; প্রশ্নের জন্য তাদের দেওয়া ঠিকানা [email protected]। ইমিগ্রেশন বিভাগের Types of Visa পৃষ্ঠায় মাত্র তিন ধরনের ভিসা আছে, ভিসা অন অ্যারাইভাল নামে কোনো ঘর নেই — তাই বাংলাদেশিদের ভিসা অন অ্যারাইভাল নিয়ে আমরা কোনো দিকেই দাবি করছি না; নির্ভর করার আগে মিশনের কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন। RM ১২৫ থেকে ৩,৭৭০ টাকার হিসাবটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর দরে আমাদের নিজেদের, আর দর বদলাবে। উপরের সব তথ্য ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ নিচের সূত্রগুলো থেকে পড়া।
সরকারি সূত্র: High Commission of Malaysia, Dhaka — বিদেশিদের ভিসার শর্ত · Immigration Department of Malaysia — Types of Visa · সরকারি Malaysia eVISA পোর্টাল
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ডের ট্যুরিস্ট ভিসা · মালয়েশিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া
মালয়েশিয়া যাচ্ছেন? কাউকে টাকা দেওয়ার আগে ফাইলটা একবার দেখে নিই।
সরকারি ফি RM ১২৫। এর ওপরে যা কিছু, সেটি কারও সার্ভিস চার্জ — আর কোনটা কী, তা জানার অধিকার আপনার আছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর তারিখগুলো নিয়ে আসুন, আমরা সোজাসুজি বলে দেব ফাইল তৈরি কি না, আর খরচটা কত হওয়া উচিত।
ফ্রি পরামর্শ নিন →


