মূল অংশে যান
← ব্লগে ফিরে যান

বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: ফি, ফান্ড ও ধাপ

বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: লেভিসহ NZ$৮৫০ ফি, বছরে NZ$২০,০০০ ফান্ড, কাগজপত্র, কাজের অধিকার আর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য টাকায় হিসাব।

প্রকাশিত 14 Oct, 2026 new-zealand

Read in English →
বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: ফি, ফান্ড ও ধাপ

নির্মল বাতাস, নিরাপদ শহর, আর সব বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের সেরা ৫০০-র মধ্যে — ছোট হলেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে, বিশেষ করে প্রকৌশল, আইটি ও কৃষিতে, নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। "নিউজিল্যান্ড ভিসা ফি বাংলাদেশিদের জন্য" — এমন খোঁজে আগ্রহ স্পষ্ট, কিন্তু পরিষ্কার উত্তর কম। এখানে ধাপে ধাপে বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসা।

NZ$৮৫০লেভিসহ ফি পেয়িং স্টুডেন্ট ভিসা
NZ$২০,০০০বছরে থাকার ফান্ড
৮টিনিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ডের ক্লক টাওয়ার, নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চেনা স্থাপনা
ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ডের ক্লক টাওয়ার — নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: Uhooep, Wikimedia Commons, CC BY-SA 4.0 (cropped).

নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসায় কত খরচ?

ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড (INZ) আবেদন ফি আর দুটি লেভি নেয়, সব একসাথে অনলাইনে দিতে হয়।

খাতNZD৳ (আনুমানিক)
ভিসা ফি৪৮৫≈৩৫,০০০
ইমিগ্রেশন লেভি২৬৫≈১৯,০০০
ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লেভি (IVL)১০০≈৭,২০০
ভিসার মোট খরচ৮৫০≈৬১,০০০
থাকার ফান্ড, ১ বছর২০,০০০≈১৪,৪০,০০০
টিউশন, ১ বছর (সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়)৩০,০০০–৪৫,০০০≈২১–৩২ লাখ

টাকার অঙ্কগুলো আনুমানিক, অক্টোবর ২০২৬-এ প্রতি NZD প্রায় ৳৭২ ধরে।

নিউজিল্যান্ডের জন্য ফান্ড কীভাবে প্রমাণ করবেন?

INZ দেখতে চায় আপনি নিজের খরচ চালাতে পারবেন: টিউশনের ওপরে উচ্চশিক্ষা বা ইংরেজি ভাষার পড়াশোনার প্রতি বছরের জন্য NZ$২০,০০০, বা এক বছরের কম কোর্সে মাসে NZ$১,৬৬৭।

  • আপনার বা স্পনসরের নামে পরিষ্কার ইতিহাসসহ ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • বাংলাদেশি ব্যাংকের এডুকেশন লোন স্যাংশন।
  • প্রয়োজনে স্পনসরের ফাইন্যান্সিয়াল আন্ডারটেকিং (ফর্ম INZ 1014) (শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটের তথ্য)।
  • টিউশন দেওয়ার প্রমাণ বা স্কলারশিপের চিঠি।
  • রিটার্ন টিকিটের টাকা বা টিকিটের প্রমাণ।

বাংলাদেশ থেকে ধাপে ধাপে কীভাবে আবেদন করবেন?

1

অফার অব প্লেস নিন

অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে।

2

ফান্ড ও মেডিকেল গোছান

ব্যাংক বা লোনের প্রমাণ; থাকার মেয়াদ অনুযায়ী দরকার হলে বুকের এক্স-রে বা মেডিকেল।

3

INZ-এ অনলাইন আবেদন

অ্যাকাউন্ট খুলে কাগজ আপলোড করুন, NZ$৮৫০ দিন।

4

চাইলে পুলিশ সার্টিফিকেট

দীর্ঘ কোর্সে INZ বাংলাদেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট চাইতে পারে।

5

টিউশন দিন ও সিদ্ধান্ত

INZ চাইলে ফির রসিদ দিন; ই-ভিসা হাতে পান।

পড়ার সময় নিউজিল্যান্ডে কি কাজ করা যায়?

কাজের অধিকার লেখা থাকে আপনার ভিসার শর্তে। অনেক ডিগ্রি-পর্যায়ের শিক্ষার্থী সেমিস্টারে পার্ট-টাইম আর নির্ধারিত ছুটিতে ফুল-টাইম কাজ করতে পারেন; শিক্ষা বিষয়ক সাইট বলছে ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে যোগ্যদের জন্য সেমিস্টারের সীমা সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টা হয়েছে (শিক্ষা ও ট্রাভেল সাইটের তথ্য)। পড়া শেষে যোগ্যতার স্তর অনুযায়ী পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা পাওয়া যেতে পারে।

নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসার ফাইলে কী কী থাকবে?

  • থাকার মেয়াদের পরও তিন মাস বৈধ পাসপোর্ট
  • অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের অফার অব প্লেস
  • বছরে NZ$২০,০০০ ফান্ডের প্রমাণ
  • টিউশনের রসিদ বা স্কলারশিপের চিঠি
  • ইংরেজি পরীক্ষার ফল
  • দরকার হলে মেডিকেল ও বুকের এক্স-রে সার্টিফিকেট
  • দরকার হলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট

কোন বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর বিবেচনা করবেন?

নিউজিল্যান্ডের আটটি বিশ্ববিদ্যালয় — Auckland, Otago, Victoria University of Wellington, Canterbury, Massey, Waikato, Lincoln আর AUT — সবই আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে আছে। অকল্যান্ডে চাকরি বেশি, ভাড়াও সবচেয়ে বেশি; ক্রাইস্টচার্চ, হ্যামিল্টন, পামারস্টন নর্থ ও ডানেডিন সস্তা।

অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় নিউজিল্যান্ড কেমন?

অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিউজিল্যান্ডকে তার বড় প্রতিবেশীর সাথে তুলনা করেন। দুই দেশের ব্যবস্থা দেখতে কাছাকাছি, তবে খরচ ও আকারে পার্থক্য আছে।

বিষয়নিউজিল্যান্ডঅস্ট্রেলিয়া
ভিসার খরচলেভিসহ NZ$৮৫০AUD ২,৫০০ থেকে
বছরে থাকার ফান্ডNZ$২০,০০০AUD ২৯,৭১০
বিশ্ববিদ্যালয়৮টি, সব র‍্যাঙ্কড৪০টির বেশি
শহরের আকারছোট, শান্তবড় শহর

ভিসার কম খরচ আর কম ফান্ডের শর্তের কারণে বাজেট-সচেতন পরিবারের কাছে নিউজিল্যান্ড আকর্ষণীয়; অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় বেশি, চাকরির বাজারও বড়। দুই দেশেই ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা পড়াশোনার পরিকল্পনা কাজে দেয়।

একটা বাস্তব বিষয়: নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটি ছোট, তাই পৌঁছানোর পর অনানুষ্ঠানিক সহায়তা কম মেলে। যাওয়ার আগেই থাকার জায়গা আর প্রথম মাসের বাজেট ভালো করে পরিকল্পনা করুন।

মনে রাখুন: INZ মাঝে মাঝে ফি ও লেভি হালনাগাদ করে। যেদিন আবেদন করবেন, সেদিন INZ ওয়েবসাইটের অফিসিয়াল ফি ফাইন্ডার দেখে নিন।

টিউশন ফি ও থাকার খরচের টাকা কীভাবে পাঠাবেন?

সংক্ষেপে: অফার লেটার দেখিয়ে বাংলাদেশি ব্যাংক থেকে টিউশন ফি ব্যাংক ট্রান্সফারে পাঠান, আর পৌঁছানোর জন্য অল্প কিছু এনডোর্স করা নগদ ডলার সাথে রাখুন।

  • ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল: বাংলাদেশ ব্যাংক-এর বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা মেনে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলো বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর টিউশন ও থাকার খরচ পাঠায়। আগেভাগে স্টুডেন্ট ফাইল খুলুন, কারণ ব্যাংক অফার লেটার, ভিসা বা ভর্তির কাগজ আর পাসপোর্ট চায়।
  • সব রসিদ রাখুন: রেমিট্যান্স অ্যাডভাইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের রসিদ আর ব্যাংক সার্টিফিকেট একসাথে রাখুন। ভিসা অফিসার এবং পরে ভিসা নবায়ন — দুই জায়গাতেই পরিষ্কার লেনদেনের ইতিহাস দেখা হয়।
  • পৌঁছানোর সময়ের নগদ: প্রথম কয়েক দিনের জন্য অল্প এনডোর্স করা বৈদেশিক মুদ্রা যথেষ্ট; স্থানীয় অ্যাকাউন্ট খোলা পর্যন্ত বাকিটা ডুয়াল-কারেন্সি কার্ডে চলে।
  • স্পনসরের কাগজ: বাবা-মা খরচ দিলে তাঁদের আয়ের প্রমাণ, ট্যাক্স রিটার্ন আর স্পনসরশিপ লেটার তৈরি রাখুন — নামের বানান যেন পাসপোর্টের সাথে মেলে।
  • হঠাৎ বড় জমা নয়: ব্যাংক স্টেটমেন্টে ব্যাখ্যাহীন বড় অঙ্কের জমা প্রশ্ন তোলার একটা সাধারণ কারণ; সঞ্চয়ের স্বাভাবিক ইতিহাস থাকা ভালো।

নিজে করার বদলে ওয়ান-টু-ওয়ান সাহায্য কেন নেবেন?

কারণ টাকা খরচ করার আগেই নিয়ম জানা একজন মানুষ আপনার পুরো পরিকল্পনা মিলিয়ে দেখেন। বেশিরভাগ ভ্রমণ ছোট কারণে ভেস্তে যায়: পাসপোর্টের মেয়াদ কম, বুকিংয়ের সাথে ভিসা ফর্মের তথ্য না মেলা, অনানুষ্ঠানিক সাইটে ফি দেওয়া, কিংবা ফেরার তারিখ পরীক্ষা বা অফিসের সাথে সংঘাত। নিজে করা সম্ভব — এই পাতার অফিসিয়াল লিংকগুলোই যথেষ্ট — কিন্তু অভিজ্ঞ কেউ পাশে থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটা পরিষ্কার, দ্রুত আর ভুলের ঝুঁকি অনেক কম হয়।

Eduvisa-র ওয়ান-টু-ওয়ান সার্ভিসে কী থাকে?

  • একজন নির্দিষ্ট পরামর্শক, যিনি প্রথম কথা থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত আপনার ফাইল দেখেন — একই কথা বারবার বলতে হয় না।
  • আপনার কেসের জন্য আলাদা ডকুমেন্ট চেকলিস্ট — পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংকের কাগজ, বুকিং, চিঠি — জমা দেওয়ার আগে যাচাই করা।
  • বাজেট ও ভ্রমণসূচি পরিকল্পনা, ঢাকা থেকে বাস্তবসম্মত খরচসহ, ছুটি ও ভাড়া বাড়ার সময় মাথায় রেখে।
  • শুধু অফিসিয়াল পোর্টালে আবেদন সহায়তা, প্রতিটি ফি ও রসিদের রেকর্ডসহ।
  • ভ্রমণ ইতিহাসের পরিকল্পনা, যাতে এই সফর ভবিষ্যতের যুক্তরাজ্য, শেনজেন বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকে শক্ত করে।

Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড কী?

প্রত্যেক স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ক্লায়েন্ট একটি ব্যক্তিগত ক্লায়েন্ট আইডিসহ Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড পান। কার্ডের ওয়েবসাইট লাইনে লেখা থাকে getbesthost.com/eduvisa: সেখানে ক্লায়েন্ট আইডি দিয়ে ঢুকে আপনার প্রসেসিং স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন, সব ডকুমেন্ট এক জায়গায় দেখতে পারবেন এবং যত পেমেন্ট করেছেন তার সবই দেখতে পারবেন।

কাজের অগ্রগতি ও পেমেন্ট কীভাবে যাচাই করবেন?

আমাদের ভেরিফায়েড ক্লায়েন্ট পোর্টাল getbesthost.com/eduvisa-এ ধাপে ধাপে দেখা যায় আপনার কাজ কতদূর এগিয়েছে, আর প্রতিটি পেমেন্ট গ্রহণ ও রেকর্ড হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়। ফোন করে জিজ্ঞেস না করেই আপনি জানবেন ফাইল কোথায় আছে — পরিবারকেও দেখাতে পারবেন কী কী পেমেন্ট হয়েছে এবং কেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলাদেশ থেকে নিউজিল্যান্ড স্টুডেন্ট ভিসার ফি কত?

মোট NZ$৮৫০: আবেদন ফি NZ$৪৮৫, ইমিগ্রেশন লেভি NZ$২৬৫ আর ভিজিটর লেভি NZ$১০০।

কত টাকা দেখাতে হয়?

উচ্চশিক্ষার প্রতি বছরে NZ$২০,০০০, বা ছোট কোর্সে মাসে NZ$১,৬৬৭, সাথে টিউশন।

ছাত্র হিসেবে নিউজিল্যান্ডে কি কাজ করা যায়?

হ্যাঁ, ভিসার শর্তের মধ্যে; নির্ধারিত ছুটিতে সাধারণত ফুল-টাইম কাজের অনুমতি থাকে।

মেডিকেল পরীক্ষা কি লাগে?

দীর্ঘ মেয়াদে থাকলে INZ অনুমোদিত প্যানেল ডাক্তারের মেডিকেল ও বুকের এক্স-রে সার্টিফিকেট চাইতে পারে।

কীভাবে আবেদন করব?

অফার অব প্লেস পাওয়ার পর ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের মাধ্যমে অনলাইনে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন দেশ ভালো · IELTS স্কোরের শর্ত · অস্ট্রেলিয়া স্টুডেন্ট ভিসা

নিউজিল্যান্ড কি আপনার জন্য ঠিক?

ওয়ান-টু-ওয়ান আলোচনায় অন্য বিকল্পগুলোর সাথে নিউজিল্যান্ড তুলনা করব, ফান্ডের পরিকল্পনা করব আর INZ-এর আবেদন তৈরি করে দেব।

ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন