বাংলাদেশে কান পাতলেই শোনা যায়, Portugal নাকি ইউরোপের "সহজ" দেশ — খরচ কম, আবহাওয়া ভালো, বাংলাদেশি অনেক, আর কাগজে সামান্য গরমিল থাকলেও চলে যায়। এই সুনামটা দাঁড়িয়ে ছিল এমন কিছু নিয়মের ওপর, যেগুলো আজ আর নেই। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মে-র মধ্যে Portugal তার অভিবাসন ব্যবস্থার প্রায় প্রতিটি অংশ নতুন করে লিখেছে, আর যে পথগুলো বন্ধ করেছে সেগুলোই ঠিক বাংলাদেশি পরিবারগুলোকে ভরসা করতে বলা হয়েছিল। ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশ থেকে Portugal স্টুডেন্ট ভিসা এখনও খোলা, এখনও তুলনামূলক সস্তা — তবে এখন এটি পুরোপুরি কাগজ-আগে, দূতাবাস-আগে একটি পথ, আর সেটি চলে ঢাকা নয়, New Delhi হয়ে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের লাগে Portugal-এর ন্যাশনাল (D4) স্টাডি ভিসা। আবেদন জমা হয় New Delhi-র VFS Global-এ, আর সিদ্ধান্ত নেয় New Delhi-র Embassy of Portugal, যার আওতায় বাংলাদেশ পড়ে। ভিসা ফি ৯০ ইউরো। জমা দিতে যাওয়ার জন্য আগে ভারতের X-Double Entry ভিসা থাকতে হবে। ঢাকার Embassy of France কেবল স্বল্পমেয়াদি Schengen ভিসা দেখে, স্টাডি ভিসা কখনোই নয়।
২০২৭ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কি সত্যিই Portugal-এর স্টুডেন্ট ভিসা পাবেন?
পাবেন — পথটা বাস্তব, আর পশ্চিম ইউরোপে ঢোকার তুলনামূলক সস্তা উপায়গুলোর একটি। তবে এটি ঢাকার প্রক্রিয়া নয়। এক বছরের বেশি সময়ের কোর্সের জন্য দরকার Portugal-এর ন্যাশনাল ভিসা, ক্যাটাগরি D4 — সরকারি ভিসা তালিকায় যেটির পরিচয় গবেষণা, পড়াশোনা, উচ্চশিক্ষা ও ইন্টার্নশিপের রেসিডেন্স ভিসা হিসেবে। ৯০ দিন থেকে এক বছরের প্রোগ্রামের জন্য বদলে যায় শ্রেণি — তখন লাগে temporary-stay স্টুডেন্ট ভিসা।
যে অংশটা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটগুলো প্রায় কখনোই বলে না, সেটা ভূগোলের। বাংলাদেশে Portugal-এর ভিসা দেওয়ার মতো কোনো দূতাবাস নেই। New Delhi-র Embassy of Portugal-এর কনস্যুলার সেকশনের আওতায় পড়ে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা — আর কেবল এই অফিসই আপনার স্টাডি ভিসার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাদের নিজেদের প্রশ্নোত্তর পাতায় স্পষ্ট লেখা আছে, Portugal-এ যেতে হলে তাদের কনস্যুলার সেবার দেওয়া ভিসা লাগবে, আর কাগজপত্র ও বায়োমেট্রিক জমা দিতে হবে New Delhi-র VFS Portugal Application Centre-এ।
Portugal-এর ভিসার আগে কেন ভারতের ভিসা লাগে?
দেরিতে জানলে এই তথ্যটিই সবচেয়ে দামি পড়ে, আর এ কারণেই বহু বাংলাদেশি Portugal-ফাইল শুরুর আগেই ভেঙে পড়ে। New Delhi-র Embassy of Portugal জানাচ্ছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী Portugal-এর ন্যাশনাল ভিসার জন্য New Delhi-তে আবেদন করতে চাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ঢাকার High Commission of India থেকে X-Double Entry শ্রেণির ডাবল-এন্ট্রি ভিসা নিতে হবে — সর্বোচ্চ তিন মাসের মেয়াদ, ভারতে অবস্থান ১৫ দিনের বেশি নয়, আর মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। দূতাবাস আরও যোগ করেছে, ওই নির্দিষ্ট শ্রেণির বৈধ ভারতীয় ভিসা না থাকলে VFS বাংলাদেশি নাগরিকের আবেদনই নেবে না।
ক্রমটা একবার ভেবে দেখুন। Portugal আপনার দিকে তাকানোর আগে ভারতকে আপনাকে ঢুকতে দিতে হবে — তা-ও দুবার, কারণ ভিসাটি ডাবল এন্ট্রি: একবার জমা দিতে, একবার নিতে। অর্থাৎ আপনার Portugal-এর সময়সূচি দাঁড়িয়ে আছে এমন একটি ভারতীয় ভিসার সময়সূচির ওপর, যেটি আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই — আর সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা ইস্যু ধীর ও অনিশ্চিত। যে পরিকল্পনা ভারতীয় ভিসা দিয়ে শুরু হয় না, সেটি আসলে পরিকল্পনাই নয়।
বাংলাদেশে Portugal-এর প্রতিনিধিত্ব করে ঢাকার Embassy of France — তবে France-Visas সরকারি পোর্টাল নির্দিষ্ট করে বলেছে, এই প্রতিনিধিত্ব কেবল স্বল্পমেয়াদি Schengen ভিসার জন্য, Austria ও Czech Republic-এর পাশাপাশি। VFS Global-এর নিজস্ব Portugal নির্দেশিকাও একই কথা বলে: পর্যটন বা ব্যবসার Schengen ভিসার জন্য বাংলাদেশি আবেদনকারীরা যাবেন ঢাকার Embassy of France-এ, আর ওই আবেদন ভারতে জমা দেওয়ার অনুমতি তাঁদের নেই। দুটির কোনোটিতেই পড়াশোনার কথা নেই। যে শিক্ষার্থী D4 জমা দেবেন ভেবে ঢাকায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন, তিনি ভুল জায়গায় সময় নষ্ট করছেন।
বাংলাদেশি পরিবারের জন্য Portugal-এ পড়ার খরচ আসলে কত?
পশ্চিম ইউরোপের মানদণ্ডে Portugal সত্যিই সাশ্রয়ী, আর EU শিক্ষার্থীদের টিউশনের মতো এখানে নন-EU ফি রাষ্ট্র বেঁধে দেয় না — প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজের আন্তর্জাতিক হার নিজে ঠিক করে। ২০২৬/২৭-এর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক স্নাতক ফি কোথাও কোথাও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বছরে প্রায় ১,৩০০ ইউরো থেকে শুরু, University of Algarve-এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ ইউরো, আর সরকারি খাতের বেশিরভাগ স্নাতক প্রোগ্রাম পড়ে ২,৫০০ থেকে ৭,০০০ ইউরোর ঘরে। পলিটেকনিকগুলো ধারাবাহিকভাবেই সস্তা দিকটায়, অথচ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই licenciado বা স্নাতক ডিগ্রি দেয়।
| খাত | পরিমাণ | টাকায় | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| স্টাডি ন্যাশনাল ভিসা | ৯০ EUR | ≈ ৳১২,৮০০ | দূতাবাসের ফি তালিকা |
| Temporary stay ভিসা | ৬৫ EUR | ≈ ৳৯,২৫০ | দূতাবাসের ফি তালিকা |
| স্বল্পমেয়াদি Schengen | ৮০ EUR | ≈ ৳১১,৩৮০ | দূতাবাসের ফি তালিকা |
| রিফিউজালের আপিল | ৭৫ EUR + কর | ≈ ৳১০,৬৭০ | কেবল VFS-এর মাধ্যমে |
| টিউশন, সরকারি খাত | ১,৩০০–৭,০০০ EUR/বছর | ≈ ১.৮৫–৯.৯৬ লাখ | প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা |
| জীবনধারণের মানদণ্ড | ৯২০ EUR/মাস | ≈ ৳১,৩০,৯০০ | নিচের সতর্কতা দেখুন |
টাকার জায়গাতেই Portugal-এর কাগজপত্র সবচেয়ে কম ছাড় দেয়। নিয়ম হলো, জাতীয় ন্যূনতম মজুরির মাপকাঠিতে আপনাকে জীবনধারণের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি Decree-Law no. 139/2025 অনুযায়ী Portugal-এর ন্যূনতম মজুরি বেড়ে হয়েছে মাসে ৯২০ ইউরো, আর ২০২৭-এ ৯৭০ ও ২০২৮-এ ১,০২০ ইউরো করার পরিকল্পনা আছে। ২০২৬-এর অঙ্কে বারো মাস মানে ১১,০৪০ ইউরো, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর দরে যা প্রায় ১৫.৭ লাখ টাকা।
একটি সরকারি পাতা পুরোনো — বাজেট করার আগে যাচাই করুন। Portugal-এর নিজস্ব ন্যাশনাল ভিসা পোর্টালে জীবনধারণের মানদণ্ড এখনও লেখা আছে ৮২০ ইউরো, উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে ২০২৩ সালের একটি রেগুলেটরি ডিক্রির, আর বলা হয়েছে "বর্তমানে ২০২৪ সালে"। এরপর ন্যূনতম মজুরি দুবার বেড়েছে। বাস্তবে কনস্যুলেটগুলো চলতি অঙ্কই প্রয়োগ করে, আর ২০২৭-এর অঙ্ক আরও বেশি হবে। এখানকার প্রতিটি সংখ্যাকে ইঙ্গিত হিসেবে ধরুন, আর জমা দেওয়ার সময় New Delhi মিশন ঠিক কোন অঙ্ক ধরছে তা নিশ্চিত করে নিন। এখানকার সব টাকার হিসাব ১ ইউরো ≈ ৳১৪২.২৬ (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ধরে করা অনুমান, যা বিনিময় হারের সঙ্গে বদলায়।
বাংলাদেশ থেকে Portugal-এর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন কীভাবে?
ভর্তি আর ভিসা দুটো আলাদা লড়াই, আর ভর্তিটাই সহজ। Portugal-এর উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর DGES আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পথ ঠিক করে দেয় তাঁদের জন্য, যাঁরা Portuguese বা EU নাগরিক নন এবং টানা দুই বছরের বেশি Portugal-এ বৈধভাবে বসবাস করেননি। ভর্তির যোগ্যতা তারা বেশ উদারভাবে লিখেছে: উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার দেয় এমন যোগ্যতা, অর্থাৎ যে দেশে দেওয়া হয়েছে সেখানকার উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া যেকোনো ডিপ্লোমা বা সনদ। সোজা কথায়, স্বীকৃত শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া বাংলাদেশি HSC দিয়েই আপনি আবেদনের যোগ্য। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য Portugal-এ আলাদা কোনো জাতীয় ভর্তি পরীক্ষা নেই।

মুশকিল হলো, আপনার জন্য কোনো একক জাতীয় পোর্টাল নেই। DGES পরিষ্কার বলেছে, আবেদন করতে হবে সরাসরি সেই বিশ্ববিদ্যালয় বা পলিটেকনিকে যেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চান, আর প্রোগ্রামভেদে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রক্রিয়া, শর্ত, সময়সীমা আর কাগজের তালিকা আলাদা। সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া সেশনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক ভর্তির ধাপগুলো সাধারণত বসন্ত থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে, আর আবেদন ফি প্রায়ই ৫০ থেকে ১২৫ ইউরোর মধ্যে। তবে যেহেতু প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজের edital বা বিজ্ঞপ্তি আলাদা করে প্রকাশ করে, আপনার জন্য একমাত্র কার্যকর সময়সীমা সেটাই, যেটি আপনার বেছে নেওয়া প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় তথ্যসেবা চালায় DGES, আর তারা আবেদনকারীদের পাঠায় নিজেদের পোর্টাল studyinportugal.edu.pt-তে; প্রশ্নের জন্য ঠিকানা [email protected]। DGES-এর নিজের অফিস Av. Duque D'Ávila 137, 1069-016 Lisboa। তাদের নিজেদের পরামর্শটাই সবচেয়ে কাজের: প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট দেখুন কিংবা তাদের অ্যাকাডেমিক সার্ভিসে ফোন করুন, কারণ দ্রুততম আর নির্ভুল উত্তর সেখানেই মেলে। টাকা দেওয়ার আগে আপনাকে দেওয়া কোর্সটি সরকারি স্বীকৃত কোর্সের তালিকায় আছে কি না মিলিয়ে নিন।
বাংলাদেশি কাগজে কি apostille লাগবে, না অন্য কিছু?
অন্য কিছু — আর এটিই দ্বিতীয় বাংলাদেশ-নির্দিষ্ট ফাঁদ। ১৯৬১ সালের Apostille Convention বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ, আর অনেক দেশের ক্ষেত্রে এখন MOFA-র e-apostille-ই যথেষ্ট। কিন্তু New Delhi-র Embassy of Portugal তাদের আওতাধীন দেশগুলোর জন্য অন্য একটি শিকলের কথা বলে। ভারতের ক্ষেত্রে তারা বলছে apostille-ই যথেষ্ট, কারণ ভারত ও Portugal দুই দেশই Hague-এর পক্ষ। আর বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে তারা বলছে, কাগজ আগে ওই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত হতে হবে, তারপর New Delhi-তে ওই দেশের নিজস্ব দূতাবাস থেকে লিগ্যালাইজ করাতে হবে, এবং কেবল তারপরই Portuguese কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের জন্য New Delhi-র VFS অফিসে জমা দেওয়া যাবে।
বাস্তবে এর মানে, একটি বাংলাদেশি ট্রান্সক্রিপ্টকে পাড়ি দিতে হতে পারে: শিক্ষা বোর্ড, তারপর বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তারপর New Delhi-তে বাংলাদেশ হাইকমিশন, তারপর VFS Delhi। কেবল মূল কাগজই লিগ্যালাইজ করা যায়, আর আবেদন করতে হয় কাগজের মালিককে নিজে অথবা পাওয়ার অব অ্যাটর্নিধারী আইনি প্রতিনিধিকে। এই ধাপের জন্য দিন নয়, সপ্তাহ হাতে রাখুন।
এটি এখনও অমীমাংসিত বলে চিহ্নিত। দূতাবাসের যে পাতায় এই শিকলের কথা আছে, সেখানে বলা নেই এটি বাংলাদেশের apostille-এ যোগদানের আগে লেখা কি না, আর Portugal বাংলাদেশি apostille-কে এই লিগ্যালাইজেশনের বিকল্প হিসেবে নেয় কি না তা কোনো Portuguese সরকারি উৎস থেকে আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। কাগজের সেট বাতিল হওয়া মানে একটা গোটা সেশন হারানো, তাই দুই পথের কোনোটিতে টাকা খরচের আগে New Delhi কনস্যুলার সেকশন থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন তারা আপনার কাগজের জন্য কোনটি নেবে।
Portugal-এ পড়ার সময় কি কাজ করা যায়?
যায়, আর শর্তগুলো যুক্তিসঙ্গত। স্টাডি রেসিডেন্স পারমিটধারী নন-EU শিক্ষার্থীরা সাধারণত সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ছুটিতে পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন, আলাদা কোনো ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই। পৌঁছানোর পর ভিসাকে রেসিডেন্স পারমিটে রূপান্তর করতে হয় AIMA-র মাধ্যমে — SEF-এর জায়গায় আসা নতুন সংস্থা — আর বৈধভাবে বেতন পেতে হলে লাগবে Portuguese কর নম্বর (NIF) ও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর (NISS)।
দুটি সৎ সতর্কতা। প্রথমত, ন্যূনতম মজুরির কাছাকাছি হারে ২০ ঘণ্টার আয় দিয়ে ডিগ্রির খরচ ওঠে না; এটি জীবনযাত্রার খরচে সাহায্য করে মাত্র, আর পার্ট-টাইম কাজকেই টিউশনের পরিকল্পনা ধরলে ভিসার ধাপেই আপনার সামর্থ্যের প্রমাণ আটকে যাবে। দ্বিতীয়ত, শর্তগুলো আসলে লেখা থাকে আপনার AIMA পারমিটের গায়ে, তাই কাজ খোঁজা শুরুর আগে ব্লগ নয়, নিজের পারমিটটাই পড়ুন।
"আগে Portugal গিয়ে পরে কাগজ ঠিক করা" — এখন কী অবস্থা?
সেটা শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশি পাঠকের জন্য এই গাইডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ এটিই, কারণ Portugal-এর বাংলাদেশি সমাজের বড় একটা অংশ গড়ে উঠেছিল এমন নিয়মে যা এখন বাতিল, অথচ ঢাকায় ঘুরতে থাকা পরামর্শ এখনও পুরোনো জায়গাতেই দাঁড়িয়ে।
১. Manifestação de Interesse আর নেই। যে পথে নন-EU নাগরিকরা পর্যটক হিসেবে ঢুকে, কাজ করে, সামাজিক নিরাপত্তায় চাঁদা দিয়ে পরে রেসিডেন্সের আবেদন করতে পারতেন, সেটি বাতিল হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এখন নিজের দেশ থেকেই সঠিক রেসিডেন্স ভিসা নিয়ে যেতে হবে।
২. অবৈধ অবস্থানের শাস্তি এখন দীর্ঘমেয়াদি। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে আইনে বলা আছে, অবৈধ প্রবেশ বা মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থানের কারণে সাত বছর পর্যন্ত ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে পারে; আগে এ ধরনের প্রত্যাখ্যান ছিল কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর।
৩. সাধারণ জব-সিকার ভিসা তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এর জায়গায় এসেছে "highly skilled work-seeking visa", যা কেবল বিশেষায়িত কারিগরি কাজের জন্য; সময় ১২০ দিন, আরও ৬০ দিন বাড়ানো যায়, বৈধতা কেবল Portugal-এর ভূখণ্ডে, আর কাজ না পেলে আবার আবেদনের আগে এক বছর অপেক্ষা। আমাদের পাওয়া সাম্প্রতিকতম পেশাদার বিশ্লেষণ অনুযায়ী এর বিধিমালা তখনও তৈরি হয়নি এবং আবেদন জমা দেওয়াই যাচ্ছিল না।
এর পাশাপাশি Portugal-এর নাগরিকত্ব আইনও সংশোধিত হয়েছে: ২০২৬ সালের ১৯ মে বা তার পরে জমা দেওয়া আবেদনের ক্ষেত্রে EU ও পর্তুগিজভাষী দেশের নাগরিকদের জন্য সাত বছর আর বাকি সবার জন্য দশ বছরের বসবাস লাগবে, আগের পাঁচ বছরের বদলে। বাংলাদেশ পড়ে দশ বছরের ঘরে। পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও এখন স্পনসরকে অন্তত দুই বছর বৈধভাবে বসবাস করে থাকতে হয়, সীমিত ব্যতিক্রম ছাড়া।
এসবের ওপর নির্ভর করার আগে যাচাই করুন। এই সংস্কারগুলো একেবারে সাম্প্রতিক, কয়েকটি নিয়ে ২০২৫–২০২৬ সালে সাংবিধানিক আদালতে মামলা হয়েছে, আর বিকল্প work-seeking ভিসার বিধিমালা আমাদের শেষ যাচাইয়ের সময়ও ঝুলে ছিল। ওপরের সারসংক্ষেপ প্রকাশিত আইনি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে লেখা, Portuguese সরকারি সাইটে আমাদের খুলতে পারা কোনো দলিলের ভিত্তিতে নয়। নাগরিকত্বের সময়সীমা বা পড়াশোনার পরের কাজের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিলে সেটি লিখিতভাবে নিশ্চিত করে নিন।
২০২৭ সেশনের বাস্তব টাইমলাইন কেমন?
বাংলাদেশি আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি কোন ভুলগুলো করেন?
- স্টাডি ভিসার জন্য ঢাকায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া, যেখানে ঢাকা কেবল স্বল্পমেয়াদি Schengen দেখে।
- Portugal-এর ভর্তির চিঠি আসার পর ভারতের X-Double Entry ভিসার কথা ভাবা।
- চলতি ন্যূনতম মজুরির বদলে সরকারি পোর্টালে পড়ে থাকা ৮২০ ইউরো ধরে বাজেট করা।
- New Delhi-কে জিজ্ঞেস না করেই ধরে নেওয়া যে শুধু MOFA apostille-ই চলবে।
- আত্মীয় বা এজেন্টকে দিয়ে ফাইল জমা দেওয়ানো — তৃতীয় কোনো ব্যক্তি আবেদন জমা দিতে পারেন না।
- ২০ ঘণ্টার পার্ট-টাইম কাজকে টাকার পরিকল্পনা ধরে নেওয়া।
- Manifestação de Interesse ধরে পরিকল্পনা করা, যেটির অস্তিত্বই আর নেই।
- পরিবারের কারও আগের ওভারস্টে নিজের ফাইলের জন্য অপ্রাসঙ্গিক ভাবা।
- "নিশ্চিত" বা "আগেভাগে" অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য টাকা দেওয়া।
- সাধারণ ব্লগে দেখা কোনো জাতীয় তারিখ ধরে প্রতিষ্ঠানের edital-এর সময়সীমা হারানো।
New Delhi-র Embassy of Portugal আবেদনকারীদের বলছে, টাকার বিনিময়ে আগেভাগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ভিসা প্রক্রিয়ায় "সুবিধা" করে দেওয়ার প্রস্তাব যেন তাঁরা না নেন; তারা এই চর্চাকে বেআইনি বলছে আর কনস্যুলার সেবায় জানাতে বলছে। এরপর তারা যে লাইনটি যোগ করে, প্রতিটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সেটি ভেবে দেখা উচিত: প্রক্রিয়ায় কোনো এজেন্ট যুক্ত থাকলে ভিসার আবেদন বাতিল হতে পারে। সৎভাবে প্রস্তুত করা আর "সুবিধা" করে দেওয়া এক জিনিস নয় — তবে এখানে পার্থক্যটা বিরাট, আর ওই মিশনে শর্টকাটের প্রতিশ্রুতি যিনি দিচ্ছেন, তিনি আসলে আপনার ফাইলটাকেই ঝুঁকিতে ফেলছেন।
Portugal কি এখনও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত?
উপযুক্ত শিক্ষার্থীর জন্য, হ্যাঁ। Portugal-এর সরকারি ব্যবস্থার নিচের ধাপের টিউশন পশ্চিম ইউরোপের প্রায় যেকোনো তুলনীয় বিকল্পের চেয়ে সস্তা, HSC ধারীর জন্য ভর্তির যোগ্যতার নিয়ম উদার, ইংরেজি মাধ্যমের প্রোগ্রাম আছে, আর সেমিস্টারে ২০ ঘণ্টার কাজের সুযোগ কাগুজে নয়, বাস্তব। যা বদলেছে তা হলো, Portugal এখন চায় সব কিছু ঠিক থাকুক ওড়ার আগে — নামার পরে নয়।
Eduvisa-তে আমরা দেখি, Portugal নিয়ে যাঁরা বিপদে পড়েন তাঁদের ফল সাধারণত খারাপ থাকে না। তাঁরা সেই শিক্ষার্থী, যাঁরা ২০১৯ সালের কোনো বন্ধুর অভিজ্ঞতা ধরে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, জুন মাসে এসে New Delhi-র শর্তটা জেনেছেন, আর ভারতীয় ভিসার সময়ে এসে হাতে সময় ফুরিয়ে ফেলেছেন। যাঁরা ভালো করেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা বানানোর আগেই কাগজের শিকল শুরু করে দেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Bulgaria স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ — ঢাকায় মিশন নেই, ফাইল যায় New Delhi-তে। বাংলাদেশ থেকে Estonia স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ — ঢাকায় স্বল্পমেয়াদি মিশন, আর স্টাডি ভিসা New Delhi-তে, একই ধরনের ভাগাভাগি।
ব্যবহৃত সরকারি উৎস: New Delhi-র Embassy of Portugal-এর কনস্যুলার প্রশ্নোত্তর (আওতা, ফি, X-Double Entry শর্ত, লিগ্যালাইজেশনের শিকল ও এজেন্ট নিয়ে সতর্কতা) এবং নন-EU শিক্ষার্থীদের নিয়ে DGES (ভর্তির যোগ্যতা ও আবেদনের পথ)।
এই লেখাটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা, Eduvisa এখন Portugal-এর আবেদন প্রক্রিয়া করে — এমন ঘোষণা নয়। ভিসার নিয়ম, ফি আর সময়সীমা বদলায়; পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি পোর্টাল থেকে প্রতিটি তথ্য নিশ্চিত করে নিন।
Portugal আপনার জন্য ঠিক ফাইল কি না, বুঝতে পারছেন না?
সৎ উত্তরটা নির্ভর করে এমন কিছুর ওপর, যা কোনো ব্লগ দেখতে পায় না — আপনার HSC-র ফল আর গ্যাপ, কে টাকা দিচ্ছেন আর সেই টাকার প্রমাণ কীভাবে দেখানো যাবে, ফাইলে কারও ভ্রমণ-ইতিহাস সামলাতে হবে কি না, আর আপনার কাগজ বাস্তবে কত দ্রুত এগোতে পারে। টাকা খরচের আগে এই আলাপটাই সামনাসামনি হওয়া দরকার। চলে আসুন, ইউরোপজুড়ে আপনার বিকল্পগুলো আমরা ঠান্ডা মাথায়, চাপ ছাড়াই আপনার সঙ্গে বসে সাজিয়ে দেব।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →