প্রতি বছর অক্টোবরে বারিধারার মাদানী অ্যাভিনিউয়ে Korean Embassy থেকে বেরিয়ে আসেন হাতেগোনা কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পাসপোর্টে একটি সিঙ্গেল-এন্ট্রি স্টিকার নিয়ে — যেটা তাঁদের পরের চার বছর বদলে দেয়। তাঁদের বেশিরভাগই অবাক হন প্রক্রিয়াটা কঠিন ছিল বলে নয়, বরং এটা কতটা নির্দিষ্ট ছিল সেটা দেখে। South Korea বাংলাদেশি আবেদনকারীদের কাছে ঠিক সেই কাগজগুলো চায় না, যেগুলো সবার কাছে চায়। নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে করা একটা যক্ষ্মা পরীক্ষা লাগে। সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া Family Relationship Certificate লাগে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট লাগে ৬ মাসের, ৩ মাসের নয়। এর একটাও বাদ পড়লে ফাইলটা আর দ্বিতীয়বার খোলা হয় না।
এই লেখায় ২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে South Korea student visa নিয়ে বিস্তারিত থাকছে — D-2 ভিসার আসল খরচ কত, ঢাকার দূতাবাস নিজে কোন কাগজের তালিকা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশ থেকে সত্যায়নের পথটা কেমন, আর কোন জায়গাগুলোতে এখনও সৎভাবে বললে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
কোনো Korean বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Certificate of Admission পাওয়ার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ঢাকার Korean Embassy-তে D-2 ডিগ্রি ভিসার আবেদন করেন। ৯০ দিনের বেশি মেয়াদের সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসার ফি US$৬০। সাধারণ কাগজপত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য আলাদাভাবে লাগে নির্দিষ্ট কেন্দ্রের যক্ষ্মা পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, Family Relationship Certificate, আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ৩ মাসের মধ্যে সত্যায়িত শিক্ষাগত কাগজপত্র।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য South Korea কি আসলেই সাশ্রয়ী?
বেশিরভাগ মানুষ যা ভাবেন, তার চেয়ে সাশ্রয়ী — আর এর কারণটা কাঠামোগত: Korean জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দেশীয় শিক্ষার্থীদের সমান টিউশন নেয়। বিদেশি বলে বাড়তি কোনো চার্জ নেই। UK, Australia বা যুক্তরাষ্ট্রের মডেলটা ঠিক উল্টো, সেখানে আন্তর্জাতিক হার প্রায়ই দেশীয় হারের দ্বিগুণ বা তিন গুণ।
এই একটা নিয়মই South Korea-কে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালে এনে দেয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা বা সমাজবিজ্ঞানের খরচ এমন একটা সীমার মধ্যে থাকে, যেটা নিয়ে পরিকল্পনা করা যায়। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা আর প্রকৌশলের খরচ এর অনেক ওপরে উঠে যায়।
| খাত | বছরে (USD) | আনুমানিক টাকা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় | $৩,০০০–৭,৪০০ | ৳৩.৭–৯.০ লাখ | দেশীয় শিক্ষার্থীর সমান হার |
| বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় | $৬,০০০–১২,০০০ | ৳৭.৩–১৪.৬ লাখ | চিকিৎসা ও প্রকৌশল সবচেয়ে বেশি |
| জীবনযাত্রার খরচ | $৬,০০০–৯,৬০০ | ৳৭.৩–১১.৭ লাখ | Seoul-এ বেশি |
| ভিসা ফি | $৬০ | ৳৭,৩০০ | দূতাবাস নিশ্চিত করেছে |
এই সংখ্যাগুলো নিয়ে: টিউশন ও জীবনযাত্রার হিসাব বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টাডি-অ্যাব্রোড সূত্র থেকে নেওয়া, কোনো একক সরকারি Korean তালিকা থেকে নয়। তাই এগুলোকে পরিকল্পনার আনুমানিক হিসাব ধরুন, চূড়ান্ত দর নয়। টাকার হিসাব ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৳১২২ = US$১ ধরে করা, যা বদলাবে। কেবল US$৬০ ভিসা ফি-টাই সরাসরি ঢাকার Korean Embassy থেকে নেওয়া। টাকা দেওয়ার আগে আপনার নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফি পাতায় টিউশন মিলিয়ে নিন।
আপনার কোন ভিসা লাগবে — D-2 নাকি D-4?
D-2 হলো ডিগ্রি ভিসা। স্বীকৃত কোনো Korean বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডিতে ভর্তি হলে আপনার ক্যাটেগরি D-2। আর D-4, নির্দিষ্ট করে বললে D-4-1, হলো ভাষা শেখার ভিসা — বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত Korean ভাষা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলে সেটা লাগে, ডিগ্রি প্রোগ্রামে নয়।
পার্থক্যটা দেখতে যতটা ছোট, বাস্তবে ততটা নয়। অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আগে ভাষা কোর্সের দিকে পাঠানো হয় — কখনও সত্যিকারের কারণেই, কারণ তাঁর Korean ভাষার দখল এখনও ডিগ্রি পর্যায়ের নয়; আবার কখনও কেবল এজেন্টের জন্য সেটা আয়োজন করা সহজ ছিল বলে। D-4 নিজে থেকে কোনো ডিগ্রির পথ নয়। পরে আলাদাভাবে ডিগ্রিতে ভর্তি জোগাড় করে D-2-তে রূপান্তর করতে হয়, আর সেই রূপান্তর আপনাআপনি হয় না।
কেউ যদি আপনাকে দ্রুত ও সহজ "Korea student visa"-র প্রস্তাব দেয়, আর কাগজপত্র দেখে বোঝা যায় সেটা আসলে ভাষা ইনস্টিটিউটের, তাহলে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন — আপনার ডিগ্রিতে ভর্তির পরিকল্পনাটা কী, আর রূপান্তর না হলে খরচ কে দেবে। ডিগ্রির পরিকল্পনা ছাড়া নেওয়া ভাষা ভিসা এই বাজারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ঘুরপথগুলোর একটা।
ঢাকার Korean Embassy আসলে কোন কাগজগুলো চায়?
দূতাবাস নিজেই তার তালিকা প্রকাশ করে, আর অনলাইনে ঘোরাফেরা করা সাধারণ চেকলিস্টগুলোর চেয়ে সেটা বেশি কড়া। পাসপোর্ট, ছবি, আবেদন ফর্ম আর ফরওয়ার্ডিং লেটারের পাশাপাশি D-2 ও D-4-1-এর তালিকায় আছে:
- Certificate of Admission — Korean বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া
- জন্মনিবন্ধন সনদ — মূল কপি ও ফটোকপি
- Family Relationship Certificate — সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন অফিস থেকে নেওয়া
- আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ — গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সঙ্গে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা সনদ
- অভিভাবকের অনাপত্তিপত্র (NOC) — নোটারি লাগবে না
- অভিভাবকের বাংলাদেশি NID ও পাসপোর্টের কপি, সম্ভব হলে
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট — বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া
- সব শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র — মূল কপির সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত ফটোকপি
- যক্ষ্মা পরীক্ষার ফল — নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে, ৩ মাসের মধ্যে
- IELTS বা TOEFL সনদ — গত ২ বছরের মধ্যে ইস্যু করা
এর মধ্যে তিনটি নিয়ে একটু থামা দরকার, কারণ এগুলোই চুপচাপ বাংলাদেশি আবেদন ডুবিয়ে দেয়: Family Relationship Certificate (অনেকে এর নামই শোনেননি, ভাবেন জন্মনিবন্ধনেই কাজ হয়ে যাবে), ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সাধারণ গাইডগুলো ৩ মাস বলে, ঢাকার জন্য যেটা ভুল), আর নির্ধারিত কেন্দ্রের যক্ষ্মা পরীক্ষা (হাতের কাছের যেকোনো ডায়াগনস্টিক ল্যাবের রিপোর্ট এক জিনিস নয়)।

বাংলাদেশে সনদ সত্যায়ন করাবেন কীভাবে?
এই ধাপেই শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি সময় যায়, আর দূতাবাসের ভাষাটা এখানে বেশ স্পষ্ট। শিক্ষাগত কাগজপত্র জমা দিতে হবে মূল কপির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত ফটোকপিসহ, আর সেই সত্যায়ন হতে হবে ৩ মাসের মধ্যে। এরপর দূতাবাস এমন একটা লাইন যোগ করে, যেটা দুবার পড়া উচিত: আবেদনকারীদের Korean Embassy থেকে আলাদা করে কাগজ সত্যায়ন করানোর দরকার নেই। একটা কাউন্টার কম, একটা ফি-ও কম।
Apostille নিয়ে সতর্কতা — পড়ে নিন। ১৯৬১ সালের Apostille Convention বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ থেকে, আর South Korea-ও এই কনভেনশনের সদস্য। নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে apostille থাকলে ধাপে ধাপে কনস্যুলার সত্যায়নের দরকার হওয়ার কথা নয়। তবে ঢাকার Korean Embassy-র প্রকাশিত স্টুডেন্ট ভিসার পাতায় এখনও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়নের কথাই বলা আছে, apostille-এর কোনো উল্লেখ নেই। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখন কোন পথে যাওয়া উচিত, সে বিষয়ে Korean কর্তৃপক্ষের সরকারি কোনো বক্তব্য আমরা খুঁজে পাইনি। একে অনিশ্চিত ধরুন, আর যেকোনো পথে টাকা খরচের আগে দূতাবাসে সরাসরি জিজ্ঞেস করে নিন।
কত টাকা দেখাতে হবে?
সৎ উত্তরটা হলো — দূতাবাস কোনো অঙ্ক প্রকাশ করে না। তাদের পাতায় বলা আছে, "আবেদনকারীর নিজের বা গ্যারান্টরের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ বহনের আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ" লাগবে, আর তার প্রমাণ হিসেবে ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা সনদ। এর বেশি কিছু বলা নেই।
অনলাইনে ঘোরা অঙ্কগুলো প্রায় US$১০,০০০ থেকে US$২৫,০০০ পর্যন্ত — নির্ভর করে সূত্রটি স্নাতক না স্নাতকোত্তরের কথা বলছে, আর সেটা আসলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শর্ত উদ্ধৃত করছে কি না তার ওপর। কিছু Korean বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরাই একটা সীমা ঠিক করে দেয় — প্রায়ই ₩২,০০,০০,০০০-এর কথা শোনা যায় — আর বাস্তবে শিক্ষার্থীদের সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তই পূরণ করতে হয়।
দূতাবাস যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক প্রকাশ করে না, কার্যকর সংখ্যাটা সাধারণত আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত — যা প্রতিষ্ঠান ও ডিগ্রির স্তরভেদে বদলায়। অ্যাকাউন্টে টাকা সরানোর আগে সেই অঙ্কটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক দপ্তর থেকে লিখিতভাবে নিয়ে নিন। ভুল লক্ষ্য ধরে বানানো স্টেটমেন্ট, কিংবা ভুল সংখ্যক দিন ধরে রাখা টাকা — এ কারণেই অনেক আবেদন বাতিল হয়, অথচ পুরোটাই এড়ানো যেত।
Korea-তে পড়ার সময় কি খণ্ডকালীন কাজ করা যায়?
যায়, তবে Korea আপনার কাজের ঘণ্টা বেঁধে দেয় আপনার Korean ভাষার দক্ষতার সঙ্গে — এই ব্যবস্থাটা একটু অন্যরকম, আর অনেকেই এখানে ধাক্কা খান। ভিসার সঙ্গে অনুমতিটা আপনাআপনি আসে না: আলাদাভাবে আবেদন করতে হয় আপনার এলাকার ইমিগ্রেশন অফিস বা HiKorea পোর্টালের মাধ্যমে, আর সাধারণত প্রথম সেমিস্টারে আবেদন করা যায় না।
| TOPIK স্তর | ক্লাস চলাকালে | ছুটিতে | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| TOPIK নেই / ৩-এর নিচে | সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টা | সীমা বহাল থাকে | সবচেয়ে সীমিত |
| TOPIK ৩ | সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত | সীমা নেই | বড় পরিবর্তন |
| TOPIK ৪ বা তার বেশি | সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টা পর্যন্ত | সীমা নেই | সবচেয়ে বেশি সুযোগ |
এই ঘণ্টার সীমাগুলো এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক দপ্তরের নির্দেশনা ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ থেকে, সরাসরি উদ্ধৃত করার মতো কোনো একক সরকারি ইংরেজি তালিকা থেকে নয়। Korea সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই নিয়ম একাধিকবার বদলেছে। কাঠামোটা — অর্থাৎ TOPIK স্তর বাড়লে ঘণ্টা বাড়ে এবং অনুমতি ভিসার থেকে আলাদা — সব সূত্রেই একরকম। তবে বাজেটের হিসাব করার আগে নির্দিষ্ট সংখ্যাগুলো HiKorea-তে বা আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলিয়ে নিন।
এখান থেকে কাজের কথাটা হলো, Korea-তে TOPIK কেবল একটা ভাষার সনদ নয় — এটা আয়ের গুণক। প্রথম বছরেই যিনি TOPIK ৩-এ পৌঁছান, আর যিনি পৌঁছান না, তাঁদের আর্থিক অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বাস্তবে কোন বৃত্তি পেতে পারেন?
গুরুত্বপূর্ণটি হলো Global Korea Scholarship (GKS), যেটির অর্থায়ন করে Korean সরকার, আর আগে এটি KGSP নামে পরিচিত ছিল। বৃত্তিটি সত্যিই পূর্ণাঙ্গ — টিউশন, মাসিক ভাতা, এক বছরের Korean ভাষা কোর্স ও বিমান ভাড়া সবই এতে থাকে। Embassy Track-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব বরাদ্দ আছে, যা প্রতি বছর ঢাকার Korean Embassy-র নোটিশ বোর্ডে ঘোষণা করা হয়।
সময়সূচিটা মোটামুটি এক রকম থাকে: স্নাতকের আবেদন খোলে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে, আর স্নাতকোত্তরের আবেদন ফেব্রুয়ারির দিকে। ঢাকার দূতাবাস প্রতি চক্রেই এই নোটিশগুলো প্রকাশ করেছে, তাই আগ্রহী আবেদনকারীর জন্য প্রতি মাসে দেখার মতো সবচেয়ে কাজের পাতা ওটাই।
২০২৭ চক্রে বাংলাদেশের জন্য GKS-এর ঠিক কতটি আসন, সেই সংখ্যা কিছু বৃত্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে ঘুরছে। তবে লেখার সময় পর্যন্ত আমরা সেটা দূতাবাসের কোনো সরকারি নোটিশের সঙ্গে মেলাতে পারিনি, দূতাবাসের নিজস্ব নোটিশ পাতাগুলোও আমাদের কাছে খোলেনি। অনলাইনে দেখা ২০২৭ সালের যেকোনো আসনসংখ্যাকে অনিশ্চিত ধরুন, আর পরিকল্পনা সাজানোর আগে ঢাকার Korean Embassy-র নোটিশ বোর্ডে সরকারি ঘোষণাটি দেখে নিন।
পড়াশোনা শেষ হলে এরপর কী?
Korea-তে দেশে থেকে যাওয়ার সত্যিকারের একটা পথ আছে, আর গুরুত্বপূর্ণ তালিকায় দেশটির জায়গা পাওয়ার বড় কারণও সেটাই। D-10 job-seeking visa Korean বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের সুযোগ দেয় নিজের বিষয়ের সঙ্গে মেলে এমন কাজ খুঁজতে দেশে থেকে যাওয়ার। সাধারণত প্রথমে ৬ মাসের জন্য দেওয়া হয়, আর বাড়িয়ে মোটামুটি ২ বছর পর্যন্ত নেওয়া যায়।
এখানে একটা পয়েন্ট সিস্টেম আছে — মূল ও অতিরিক্ত মানদণ্ড মিলিয়ে একটা নির্দিষ্ট স্কোর ছাড়াতে হয়। অবশ্য Korean বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর প্রথমবার আবেদন করলে শুরুর ৬ মাসের জন্য সাধারণত পয়েন্ট যাচাই থেকে ছাড় মেলে। D-10 থেকে পরের ধাপ হলো E-1 থেকে E-7 শ্রেণির পেশাদার কাজের ভিসা।
পড়াশোনা শেষ হলেই আপনার D-2 স্ট্যাটাস অনির্দিষ্টকাল চলতে থাকে না। বিভিন্ন সূত্র মিলিয়ে দেখা যায়, পাস করার পর হাতে সময় থাকে প্রায় ৩০ দিন। তাই কোর্স আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই D-10-এর আবেদন এগিয়ে রাখতে হবে — সমাবর্তনের পরে নয়। নিজের তারিখগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক দপ্তর থেকে নিশ্চিত করে নিন, কারণ এই সময়সীমা কোনো অজুহাত শোনে না।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি
পূর্ব এশিয়ার গন্তব্যগুলোর ক্ষেত্রে আমরা যে ধরনটা লক্ষ করি, তা হলো — ভিসা ইন্টারভিউ খুব কমই আসল সমস্যা। সমস্যাটা তৈরি হয় তারও মাস কয়েক আগে, কাগজপত্রের ঘরে। এমন একটা Family Relationship Certificate, যার কথা কেউ বলেনি। ৩ মাসের হিসাব ধরে বানানো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অথচ ঢাকা চায় ৬ মাসের। ভুল ক্রমে করা সত্যায়ন, কিংবা এত আগেভাগে করা যে ভর্তির চিঠি আসতে আসতে ৩ মাসের মেয়াদই শেষ। এগুলো কোনোটাই শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নিয়ে বিচার নয় — এগুলো ধাপের ক্রম ভুল হওয়ার ফল। আর অভিজ্ঞ কেউ প্রথম সপ্তাহেই সঠিক প্রশ্নটা করে এই ক্রমটা বিনা খরচে ঠিক করে দিতে পারেন।
এ কারণেই এই গাইডগুলোতে আমরা অনিশ্চয়তাগুলো ঢেকে না দিয়ে লিখে দিই। আর্থিক প্রমাণ বা apostille নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেওয়া একটা ভুল তথ্য একজন শিক্ষার্থীর পুরো একটা intake নষ্ট করে দেয়। তার চেয়ে বরং আপনাকে জানিয়ে দেওয়া ভালো — কোন তথ্যগুলো পাকা, কোনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে বদলায়, আর কোনগুলোর জন্য একটা ফোন করা দরকার।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Japan student visa ২০২৭ · বাংলাদেশ থেকে China student visa ২০২৭
সরকারি সূত্র: Embassy of the Republic of Korea in Bangladesh — Documents for Student Visa (D-2, D-4-1) · HiKorea (Korea Immigration Service)
একটি কথা: এই লেখাটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা, Eduvisa এখন South Korea-র আবেদন প্রক্রিয়া করে — এমন ঘোষণা নয়। আমাদের চালু সেবার দেশগুলোর তালিকা সেবা পাতায় দেওয়া আছে।
Korea আপনার বাজেটের সঙ্গে মিলবে কি না, নিশ্চিত নন?
আমাদের সঙ্গে এক ঘণ্টা বসুন। আপনার ফল, টাকার সংস্থান আর বাস্তবসম্মত গন্তব্যের সম্ভাবনাগুলো — Korea-সহ — আমরা একসঙ্গে দেখব, কোনো বিক্রির চাপ ছাড়াই। Korea যদি আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো পথ না হয়, আমরা সেটা বলে দেব, আর কোনটা ভালো সেটাও জানাব। আর আপনি যে দেশই বেছে নিন, ভিসা হয়ে যাওয়ার পরেই আমাদের কাজ শেষ হয় না — পৌঁছানোর পরেও আমরা পাশে থাকি।
ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →