ঢাকার এক বাবা আমাদের সামনে একটা প্রিন্টআউট রাখলেন। উপরে Uzbekistan-এর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো, নিচে ভারতীয় রুপিতে লেখা টিউশন ফি, আর এক কোণে লেখা — "সহজ e-visa, দূতাবাসে যেতে হবে না।" ওই পাতার তিনটা তথ্যই ভুল। আর যেটা তাঁর মেয়ের দুটো বছর নষ্ট করে দিতে পারত, সেটার কথা কোথাও লেখাই ছিল না। ২০২৭ সালের ইনটেকের জন্য আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে Uzbekistan স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ভাবেন, তাহলে শুরুটা এখান থেকেই করুন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দরকার Uzbekistan-এর A-1 স্টুডেন্ট ভিসা, e-visa নয়। আগে আপনার Uzbek বিশ্ববিদ্যালয় সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভিসা কনফার্মেশন বা টেলেক্সের আবেদন করবে; এরপর New Delhi-তে থাকা Uzbekistan দূতাবাস থেকে ভিসা নেবেন, কারণ বাংলাদেশ ওই মিশনের আওতায়। এক বছরের সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসার কনস্যুলার ফি ১৬০ মার্কিন ডলার। আর মেডিকেলের ক্ষেত্রে দেশ ছাড়ার আগেই BMDC-র Eligibility Certificate লাগবে।
Uzbekistan গত কয়েক বছরে দ্রুত বদলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৭ থেকে বেড়ে ২০৭, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার ৯ শতাংশ থেকে ৪৪ শতাংশ, আর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২০ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী সেখানে পড়েছেন। দেশটিতে এখন ৩০টির বেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠান চলছে, যৌথ প্রোগ্রাম ৪৪১টি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে একটা কেন্দ্রীয় Study in Uzbekistan পোর্টালও চালু হয়েছে। বৃদ্ধিটা সত্যি। তবে একজন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীর জন্য পথটা বিজ্ঞাপনের চেয়ে অনেক বেশি নিয়মবদ্ধ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কি সত্যিই ২০২৭ সালে Uzbekistan স্টুডেন্ট ভিসা পাবেন?
পাবেন — তবে এই পথে চালকের আসনে আপনি নন, বিশ্ববিদ্যালয়। Uzbekistan-এ অফার লেটার হাতে নিয়ে কনস্যুলেটে গিয়ে স্টাডি ভিসা কিনে ফেলা যায় না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নিয়ম বলছে, ভিসা দেওয়া হয় কেবল মন্ত্রণালয়ের Consular and Legal Department-এর ভিসা কনফার্মেশনের ভিত্তিতে। আর সেই কনফার্মেশন চায় Uzbekistan-এর ভেতরে থাকা আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান — শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নিয়েছে।
এতে চেনা ধাপগুলো উল্টে যায়। Malta বা Italy-তে আপনি ফাইল গুছিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেন। Uzbekistan-এর বেলায় প্রথম কাজ হলো এমন জায়গায় ভর্তি হওয়া, যারা আপনার হয়ে আবেদনটা করতে জানে — তারপর টেলেক্স নম্বর না আসা পর্যন্ত তাদের পেছনে লেগে থাকা। মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিষ্ঠানের লিখিত আবেদন চার কর্মদিবসে নিষ্পত্তি হয়। তাই কোনো শিক্ষার্থী যখন বলেন পাঁচ সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করছেন, দেরিটা প্রায় কখনোই Tashkent-এ নয়। ওটা আটকে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কারও টেবিলে, নয়তো এমন কোনো এজেন্টের কাছে যিনি আসলে কিছুই জমা দেননি।
"আপনাদের ইন্টারন্যাশনাল অফিস কি আগে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য MFA ভিসা কনফার্মেশন বা টেলেক্স নিয়েছে, এবং কোন ভিসা ক্যাটাগরিতে আবেদন করেন?" উত্তর যদি গোলমেলে হয়, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের অ্যাডমিশন ইমেইলের বদলে এজেন্টের কাছ থেকে আসে, ধরে নিন উত্তরটা 'না'। যে প্রতিষ্ঠান আপনার হয়ে আবেদনই করতে পারে না, তারা আপনাকে স্টুডেন্ট ভিসা পাইয়ে দিতে পারবে না।
কোন ভিসা লাগবে, আর e-visa কেন ফাঁদ?
লাগবে A-1 ক্যাটাগরি। Uzbekistan-এর সরকারি ভিসা তালিকায় A-1-এর সংজ্ঞা — পড়াশোনার মেয়াদের জন্য দেওয়া স্টুডেন্ট এন্ট্রি ভিসা, সর্বোচ্চ এক বছর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে। আরেকটা ক্যাটাগরি STD, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি এক্সচেঞ্জের জন্য — মেয়াদ সেখানেও এক বছর পর্যন্ত। তালিকার বাকি সব কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, চালক, রোগী কিংবা পর্যটকের জন্য।
এখানেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ঠকেন। বাংলাদেশ কিন্তু সত্যিই Uzbekistan-এর e-visa তালিকায় আছে — মন্ত্রণালয়ের Appendix 1-এ ২৫ নম্বরে "People's Republic of Bangladesh" লেখা, অর্থাৎ e-visa.gov.uz দিয়ে ইলেকট্রনিক ভিসা বা সহজ পদ্ধতিতে ট্যুরিস্ট ভিসা নেওয়া যায়। এটা সত্যি বলেই এজেন্টরা বলেন, "বাংলাদেশিদের জন্য Uzbekistan-এর e-visa সহজ।" তাঁরা মিথ্যা বলছেন না — কেবল অন্য একটা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। e-visa হলো ৩০ দিন পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি পর্যটন ও ব্যবসার ব্যবস্থা, সিঙ্গেল এন্ট্রির দাম ২০ ডলার। ওটা স্টাডি ভিসা নয়। Uzbek প্রতিষ্ঠানগুলো স্পষ্ট করেই বলে, ভিজিটর ভিসায় ঢুকে পরে শিক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া যায় না।
| ক্যাটাগরি | উদ্দেশ্য | মেয়াদ | পড়া যায়? |
|---|---|---|---|
| A-1 | শিক্ষার্থী, পড়ার মেয়াদ | ১ বছর | হ্যাঁ |
| STD | এক্সচেঞ্জ / স্বল্পমেয়াদি | ১ বছর | হ্যাঁ |
| A-3 | গবেষণা | ৩ মাস–২ বছর | শুধু গবেষণা |
| T | পর্যটন | ১ মাস | না |
| E-visa | অনলাইন পর্যটন | ৩০ দিন | না |
এক বছরের সীমার আরেকটা মানে আছে। A-1 ভিসা চার বছরের ডিগ্রি ঢাকে না — প্রতি বছর Uzbekistan-এর ভেতরে থেকেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় নবায়ন করতে হয়। দ্বিতীয় বছরে গিয়ে অবাক হওয়ার বদলে শুরু থেকেই এই ছন্দটা হিসাবে রাখুন।
মন্ত্রণালয়ের নিজের পাতায় কনস্যুলার ফি দেওয়া আছে: তিন মাস পর্যন্ত ৮০ ডলার, ছয় মাস পর্যন্ত ১২০ ডলার, আর এক বছর মেয়াদি সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসায় ১৬০ ডলার — সাম্প্রতিক হারে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা। তবে ডলারের দাম ওঠানামা করে, আর ভিসা দেওয়ার সময় প্রক্রিয়াকরণের জায়গাভেদে বাড়তি খরচও নেওয়া হয়।
বাংলাদেশে Uzbek দূতাবাস নেই, তাহলে আবেদন করবেন কোথায়?
New Delhi-তে। ভারতে থাকা Uzbekistan দূতাবাসের সমান্তরাল স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্যও আছে, আর তাদের কনস্যুলার এলাকায় পড়ে ভারত, বাংলাদেশ, Bhutan, Nepal ও Sri Lanka। ঠিকানা EP-40, Dr. S. Radhakrishnan Marg, Chanakyapuri, New Delhi 110021; ফোন (91-11) 2467-0774 ও 2467-0775; ইমেইল [email protected]।

আমাদের নতুন-দেশ সিরিজে এটি নবম দেশ, যেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে Delhi ঘুরে যেতে হয়। চেনা হিসাব — ভারতীয় ভিসা, যাতায়াত, আর দ্বিতীয়বার যাওয়ার সম্ভাবনাটুকু বাজেটে রাখুন। তবে একটা দাবি আমরা যাচাই করতে পারিনি। কয়েকটা বাণিজ্যিক ডিরেক্টরি সাইটে ঢাকায় "Consulate of Uzbekistan" নামে একটা ফোন নম্বরসহ তালিকা আছে। Uzbekistan-এর নিজের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাতায় কিংবা New Delhi দূতাবাসের সাইটে এর কোনো সমর্থন আমরা পাইনি। আর সম্মানসূচক কনস্যুলেট থাকলেও সাধারণত সেখান থেকে ভিসা দেওয়া হয় না।
অনিশ্চিত তথ্য: বাংলাদেশে Uzbek কনস্যুলেটের অস্তিত্ব ও ক্ষমতা লেখার সময় পর্যন্ত কোনো Uzbek সরকারি সূত্রে যাচাই করা যায়নি। এর ওপর ভরসা করে পরিকল্পনা করবেন না। যাতায়াত বা টাকা দেওয়ার আগে সরাসরি New Delhi-র Uzbekistan দূতাবাস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
একটা সত্যিকারের সুখবর, যেটা বাংলাদেশের প্রায় কোনো প্রতিযোগীর পাতায় নেই — Tashkent-এ বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস আছে, ১৯৯৬ সালের মার্চ থেকে। ঠিকানা Hamid Sulaymanov 56-58, Yakkasaray district, Tashkent 100070; ফোন +998 71 255 6520; ইমেইল [email protected]। Uzbekistan-এ পৌঁছে কাগজপত্র সত্যায়নের দরকার হলে, কিংবা পড়ার মাঝপথে কিছু জটিল হলে, একই শহরে বাংলাদেশ মিশন পাবেন। ঢাকায় এখন যেসব সস্তা গন্তব্য বিক্রি হচ্ছে, তাদের অনেকটিতেই এই সুবিধা নেই।
Uzbekistan-এ পড়তে আসলে খরচ কত?
ইউরোপের চেয়ে কম, আর যেসব প্রতিষ্ঠান ফি প্রকাশ করে তাদেরটা যাচাই করা যায়। Westminster International University in Tashkent তাদের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্তর্জাতিক ফি খোলাখুলি দিয়েছে — আপনি শেষ পর্যন্ত অন্য কোথাও পড়লেও এটা তুলনার ভালো ভিত্তি।
| স্তর | ফি (UZS) | আনুমানিক USD | মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| প্রি-ফাউন্ডেশন (গণিত + ইংরেজি) | ২,৮৫,০০,০০০ | ২,৩৮৫ | দুই বিষয় |
| ফাউন্ডেশন / স্নাতক | ৫,৪৬,০০,০০০ | ৪,৪৮৪ | প্রতি বছর |
| স্নাতকোত্তর | ৭,৫৮,৭০,০০০ | ৬,২৩১ | পুরো কোর্স |
| MBA | ৭,৮৩,০০,০০০ | ৬,৪৩১ | পুরো কোর্স |
| আবাসন | ৮,০০,০০০ | ~৭০ | প্রতি মাস |
স্নাতকের এক বছরে প্রায় ৪ হাজার ৪৮৪ ডলার, মানে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার কাছাকাছি — Kyrgyzstan-এর চেয়ে বেশি, পশ্চিম ইউরোপের চেয়ে অনেক কম। আর হলের আবাসন মাসে ৭০ ডলারের মতো হওয়ায় থাকা-খাওয়ার দিকটা সত্যিই সস্তা। পাশাপাশি WIUT নিজের খরচে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য Dean's List-এ জায়গা পেলে ১৫ শতাংশ টিউশন ছাড় দেয় — বৃত্তি নাগালের বাইরে ধরে নেওয়ার আগে এটুকু জেনে রাখুন।
উপরের ডলার হিসাব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিলের বিনিময় হারে করা। Uzbek ফি নির্ধারিত হয় সোম-এ, তাই ডলার ও টাকার অঙ্ক বদলায়। টাকা পাঠানোর আগে Central Bank of Uzbekistan-এর চলতি হার দেখুন আর প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফি আবার নিশ্চিত করুন।
মেডিকেল প্রোগ্রামের কোনো টিউশন অঙ্ক আমরা ইচ্ছে করেই দিইনি। Uzbek মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যত সংখ্যা ঘোরে, তার সবই এজেন্ট অ্যাগ্রিগেটর সাইটের — বেশিরভাগ ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য লেখা, রুপিতে দেওয়া। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের বিজ্ঞপ্তিতে সেগুলো আমরা পাইনি। এখান থেকেই এই লেখার সবচেয়ে জরুরি অংশ।
Uzbekistan-এ MBBS ভাবছেন? টাকা দেওয়ার আগে এটা পড়ুন
বাংলাদেশি পরিবারের উদ্দেশে করা Uzbekistan-এর বেশিরভাগ প্রচারই মেডিকেলের, আর তার অনেকটা ভারতের বাজার থেকে টুকে আনা। এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতের নিয়ন্ত্রক NMC — আপনার নয়। ভারতের নিয়ম মেলে এমন ডিগ্রি দিয়ে আপনি বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা মেলে না।
Bangladesh Medical & Dental Council বলছে, বিদেশে MBBS শুরু করার আগেই Eligibility Certificate নিতে হবে। তাদের প্রকাশিত তালিকায় আছে SSC ও HSC-র মূল সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ, O/A Level শিক্ষার্থীদের জন্য DG Health-এর সমমান সনদ, অনলাইন ইনভয়েসে এক হাজার টাকা ফি — এবং সবচেয়ে জরুরি, MBBS/BDS ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও ফলাফলের কপি। অর্থাৎ ধরে নেওয়া হচ্ছে, আপনি বাংলাদেশের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় বসেছেন। যাঁরা সেটা এড়িয়ে বিদেশে ভর্তি হয়ে যান, তাঁরা সমস্যাটা বুঝতে পারেন কয়েক বছর পর — যখন আর ঠিক করার উপায় থাকে না।
দ্বিতীয় শর্তটা ফেরার পথে। বিদেশি মেডিকেল স্কুল থেকে পাস করাদের জন্য BMDC নেয় Registration Qualifying Examination — ২০২৬ সালের এপ্রিলের ফল এপ্রিলেই প্রকাশ হয়েছে, আর অক্টোবর ২০২৬-এর পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে আগস্টে। এই পরীক্ষায় পাস করেই বিদেশে পড়া চিকিৎসক বাংলাদেশে নিবন্ধনের যোগ্য হন। কোনো Uzbek বিশ্ববিদ্যালয়, কোনো এজেন্ট এর কোনোটাই মাফ করাতে পারেন না।
Eduvisa-তে আমরা দেখি, পরিবারগুলো এই তথ্য শুনে আপত্তি করেন না — তাঁরা সাধারণত প্রথমবারের মতো শুনছেন, আর প্রায়ই তখন টাকা চলে গেছে। মেডিকেলের সৎ ক্রমটা হলো: আগে BMDC-র চলতি নিয়ম নিশ্চিত করা, এরপর BMDC-র স্বীকৃতির অবস্থান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান যাচাই করা, তারপর Tashkent নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলা।
বাংলাদেশি কাগজে অ্যাপোস্টিল লাগবে, নাকি পূর্ণ সত্যায়ন?
এখানে অ্যাপোস্টিল কাজ করে, আর এটা বড় সুবিধা। ১৯৬১ সালের Hague Apostille Convention বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি জানিয়েছিল ১২টি দেশ, যারা বাংলাদেশি অ্যাপোস্টিল নেবে না — Uzbekistan তাদের মধ্যে নেই। Uzbekistan নিজে ২০১১ সালে এই কনভেনশনে যোগ দিয়েছে।
ফলে আপনার SSC, HSC কিংবা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নীতিগতভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অ্যাপোস্টিল করিয়েই চলে যাবে — পুরো কনস্যুলার সত্যায়নের লম্বা শিকল ধরতে হবে না। Austria, Germany, Estonia বা Greece-এর তুলনায় এতে কয়েক সপ্তাহ আর ভালো অঙ্কের টাকা বাঁচে, কারণ ওই দেশগুলো আপত্তি জানিয়েছিল।
- পাসপোর্ট, ভিসার মেয়াদের চেয়ে অন্তত তিন মাস বেশি বৈধ
- ভর্তির চিঠি, আর আলাদাভাবে লিখিত নিশ্চয়তা যে বিশ্ববিদ্যালয় MFA ভিসা কনফার্মেশনের আবেদন করেছে
- অ্যাপোস্টিল করা SSC ও HSC সনদ এবং নম্বরপত্র
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ৩৫ × ৪৫ মিলিমিটার
- পূরণ করা ভিসা আবেদন ফরম (দুই কপি) ও evisa.mfa.uz-এর ইলেকট্রনিক ফরম
- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ ও আবাসনের ব্যবস্থা
- মেডিকেলের ক্ষেত্রে: দেশ ছাড়ার আগে নেওয়া BMDC Eligibility Certificate
প্রতিষ্ঠানভেদে কাগজের তালিকা আলাদা হয়, আর আগাম ঘোষণা ছাড়াই বদলায়। উপরের তালিকাটা দিকনির্দেশ হিসেবে নিন, চূড়ান্ত চেকলিস্ট হিসেবে নয় — বাধ্যতামূলক উৎস কেবল New Delhi-র Uzbekistan দূতাবাস আর আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিস।
পড়ার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করা যাবে?
ধরে নিন যাবে না। Uzbekistan-এর নিয়মে বিদেশি নাগরিকের চাকরি করতে ওয়ার্ক পারমিট লাগে, আর শিক্ষার্থীদের জন্য ছাড়টা খুব সরু — বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ছুটিতে করা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্র্যাকটিস। Spain বা Russia-তে শিক্ষার্থীরা যেভাবে সাধারণ খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন, তেমন কোনো প্রকাশিত অধিকার আমরা পাইনি।
কম খরচের বিপরীতে এটাই সৎ পাল্টা দিক। Uzbekistan-এ থাকা-খাওয়া সস্তা, তাই পরিবারের সাধারণ বাজেটেও চলে যেতে পারে। তবে এটা "পড়ো আর কাজ করো" ধরনের গন্তব্য নয়। কোনো কনসালট্যান্সি যদি কোনো বাংলাদেশি পরিবারকে বলে যে শিক্ষার্থী Tashkent-এ খণ্ডকালীন আয় দিয়ে টিউশন চালিয়ে নেবেন, তারা এমন কিছু বিক্রি করছে যা দিতে পারবে না।
পৌঁছানোর প্রথম তিন দিনে কী করতে হবে?
রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, নয়তো পরে জরিমানা দিতে হবে। তিন কর্মদিবসের বেশি থাকা প্রত্যেক বিদেশিকে অবস্থানের জায়গায় নিবন্ধিত হতে হয়, রাষ্ট্রীয় eMehmon ব্যবস্থার মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন সাধারণত হল কর্তৃপক্ষই করে দেয় — প্রথম বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন নেওয়ার এটাও একটা কারণ। নিজে বাসা ভাড়া নিলে দায়িত্বটা আপনার। আর নিবন্ধন না করার জরিমানা লাখ লাখ সোম পর্যন্ত হওয়ার খবর আছে, যা সাধারণত ধরা পড়ে দেশ ছাড়ার দিন বিমানবন্দরে।
অ্যাপোস্টিল গ্রহণযোগ্য, তাই কাগজপত্র তৈরি ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের চেয়ে দ্রুত ও সস্তা। জীবনযাত্রার খরচ কম, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন মাসে ৭০ ডলারের মতো। Tashkent-এ বাংলাদেশের সত্যিকারের দূতাবাস আছে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান ফি প্রকাশ করে, তাদের খরচ পশ্চিম ইউরোপের অনেক নিচে। বিপরীতে আছে Delhi-র আবেদন, প্রতি বছর ভিসা নবায়ন আর খণ্ডকালীন কাজের অধিকার না থাকা।
এই লেখাটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা। এর মানে এই নয় যে Eduvisa এখন এই দেশের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করে, আর এটি New Delhi-র Uzbekistan দূতাবাস, আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা BMDC-র পরামর্শের বিকল্পও নয়। ভিসার নিয়ম, ফি ও সময়সীমা বদলায় — কাজে লাগানোর আগে প্রতিটি তথ্য যাচাই করে নিন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Kyrgyzstan স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ · বাংলাদেশ থেকে Russia স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭
মূল সূত্র: Uzbekistan পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিসা পাতা ও BMDC Eligibility Certificate-এর শর্তাবলি।
Uzbekistan আপনার ফল, বাজেট আর পরিকল্পনার সঙ্গে মেলে কি না, নিশ্চিত নন?
এই কথাটাই সামনাসামনি বসে বলা ভালো। SSC ও HSC-র ফল, বাজেট আর পছন্দের বিষয়টা নিয়ে চলে আসুন — আমরা সৎভাবে বলব Uzbekistan আপনার জন্য ঠিক গন্তব্য কি না, নাকি অন্য কিছু আপনাকে বেশি কাজে দেবে। কোনো চাপ নেই, কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →