Austria-র নাম শুনলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থী চার সেকেন্ডেই তালিকা থেকে দেশটা কেটে দেন। Vienna, Alps, Mozart — শুনতে এমন একটা জায়গা মনে হয় যেখানে বছরে ত্রিশ হাজার ইউরো টিউশন লাগে, আর ব্যাংক স্টেটমেন্ট চায় এমন অঙ্কের যা পরিবারের পক্ষে দেখানোই সম্ভব নয়। ফলে ফাইলটা আর কখনও খোলা হয় না।
অথচ বাংলাদেশে খুব কম মানুষই যেটা যাচাই করে দেখেছেন, সেটা হলো — Austria-র নিজস্ব কেন্দ্রীয় বিধিতে বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর তালিকায় আছে, যাদের নাগরিকদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি পুরোপুরি মওকুফ। ছাড় নয়, মওকুফ। University of Vienna-তে ডিগ্রি প্রোগ্রামে পড়া একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেমিস্টারপ্রতি ছাত্র ইউনিয়নের ফি হিসেবে EUR ২৬.২০ দেন — টিউশন বাবদ আর এক পয়সাও নয়।
এই একটা তথ্যই Austria-কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য ইউরোপের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ডিগ্রিগুলোর একটা বানিয়ে দেয়। তাই বাংলাদেশ থেকে Austria student visa ২০২৭ নিয়ে ঠিকঠাক খোঁজ নেওয়া দরকার। তবে ভিসার পথে একটা ফাঁদ আছে, যেটার কারণে প্রতি বছর কিছু শিক্ষার্থীর একটা পুরো intake হাতছাড়া হয়ে যায় — সেটা নিয়েও আমরা সরাসরি কথা বলব।
Austria-র কেন্দ্রীয় টিউশন বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি মওকুফ; শুধু ÖH ছাত্র ইউনিয়ন ফি সেমিস্টারপ্রতি EUR ২৬.২০ দিতে হয়। ছয় মাসের বেশি সময়ের ডিগ্রির জন্য ভিসা নয়, লাগে Residence Permit – Student, আর সেটা সশরীরে জমা দিতে হয় New Delhi-র Austrian Embassy-তে। ফি EUR ২১৮, সিদ্ধান্তে সময় লাগতে পারে ৯০ দিন পর্যন্ত।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কি সত্যিই টিউশন ছাড়া Austria-তে পড়তে পারেন?
হ্যাঁ — সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর এটা কোনো স্কলারশিপ নয় যেটা প্রতিযোগিতা করে জিততে হয়; এটা আইনে লেখা আছে।
Austria-র কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় (BMFWF) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় দেশের ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন নির্ধারণ করেছে সেমিস্টারপ্রতি EUR ৭২৬.৭২। কিন্তু একই বিধিতে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের এই ফি মওকুফ করা হয়েছে — তালিকাটা তৈরি হয়েছে OECD-র উন্নয়ন সহায়তা কমিটির স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা ধরে। বাংলাদেশ সেই তালিকায় আছে।
Austria-র সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় University of Vienna তাদের ফি-র পাতায় বিষয়টা পরিষ্কার করে লিখে রেখেছে। ইউরোপের বাইরের নাগরিকদের ব্যতিক্রম অংশে তারা যে দেশগুলোর নাম দিয়েছে, তার মধ্যে Bangladesch আছে — এবং সেখানে বলা হয়েছে, পুরো ডিগ্রি প্রোগ্রাম জুড়েই টিউশন মওকুফ থাকবে। এসব শিক্ষার্থী শুধু ÖH ফি দেন, সেমিস্টারপ্রতি EUR ২৬.২০।
| শিক্ষার্থী | টিউশন | ÖH ফি | সেমিস্টারপ্রতি |
|---|---|---|---|
| EU / EEA / Swiss | EUR ৩৬৩.৩৬* | EUR ২৬.২০ | EUR ৩৮৯.৫৬ |
| সাধারণ নন-EU | EUR ৭২৬.৭২ | EUR ২৬.২০ | EUR ৭৫২.৯২ |
| বাংলাদেশি | মওকুফ | EUR ২৬.২০ | EUR ২৬.২০ |
*EU/EEA শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়কাল ও অতিরিক্ত দুই সেমিস্টার পর্যন্ত টিউশন দেন না। সূত্র: University of Vienna, winter semester ২০২৬/২৭।
প্রতি ইউরো প্রায় ১৪৪ টাকা ধরলে — এই হারটাই VFS Global নিজে Austria-র ভিসা ফি-র জন্য প্রকাশ করেছে — EUR ২৬.২০ মানে সেমিস্টারে প্রায় ৩,৮০০ টাকা, পুরো শিক্ষাবর্ষে ৭,৬০০ টাকা। অনেক পরিবার এক মাসের কোচিংয়েই এর চেয়ে বেশি খরচ করেন।
বাংলাদেশ থেকে Austria student visa-তে আসলে কত খরচ পড়ে?
টিউশনই সবচেয়ে সস্তা অংশ। আসল টাকা যায় পারমিট, ফান্ড দেখানো আর কাগজপত্রের কাজে।
| খাত | পরিমাণ | আনুমানিক টাকা | সূত্র |
|---|---|---|---|
| রেসিডেন্স পারমিট ফি | EUR ২১৮ | ৩১,৪০০ | OeAD, ১ জানু ২০২৬ থেকে |
| Visa D ফি | EUR ১৯৫ | ২৮,০৮০ | VFS Dhaka |
| VFS সার্ভিস চার্জ | — | ৯,১৫৮ | VFS Dhaka |
| ব্যাংক পেমেন্ট ফি | — | ৪১৬ | VFS Dhaka |
| টিউশন, সেমিস্টারপ্রতি | মওকুফ | ০ | BMFWF / Uni Wien |
| ÖH ফি, সেমিস্টারপ্রতি | EUR ২৬.২০ | ৩,৮০০ | Uni Wien |
VFS-এর সব চার্জ টাকায় এবং নগদে দিতে হয়, আর ভিসা ফি প্রতি মাসের শেষে বিনিময় হার ধরে নতুন করে নির্ধারিত হয়। এর বাইরে ঐচ্ছিক সেবা আছে: কুরিয়ারে পাসপোর্ট ফেরত ১,৩০০ টাকা, SMS আপডেট ৫৭৬ টাকা, ফরম পূরণ ৫৩৫ টাকা।
OeAD সরাসরি লিখেছে: ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে পুরো ফি জমা দেওয়ার সময়েই পরিশোধ করতে হয়, আর আবেদন বাতিল হলে বা প্রত্যাহার করলেও সেটা ফেরত দেওয়া হয় না। আগে ফি দুই কিস্তিতে নেওয়া হতো। তাই দুর্বল ফাইল নিয়ে "একবার চেষ্টা করেই দেখি" ভাবাটা ব্যয়বহুল — একটা রিফিউজালে প্রায় ৩১,৪০০ টাকার সঙ্গে New Delhi যাতায়াতের খরচও যোগ হয়।
আবেদন কোথায় করবেন — Dhaka না New Delhi?
দুই জায়গাতেই, তবে ধাপে ধাপে। আর এই ধাপটা উল্টে ফেলার কারণেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি Austria-র intake হারান।
বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মিশন হলো New Delhi-র Austrian Embassy। ঢাকায় VFS Global-এর Austria Visa Application Centre আছে — Delta Life Tower, ৪র্থ তলা, প্লট ৩৭, রোড ৯০, Gulshan North, Gulshan-2, Dhaka-1212। এতদূর শুনে মনে হয় পুরো কাজটাই ঢাকায় সেরে ফেলা যাবে, আর প্রতিযোগী এজেন্সির পাতাগুলোও শিক্ষার্থীদের ঠিক এটাই বলে।
সমস্যা হলো ঢাকা কোনটা নিতে পারে আর কোনটা পারে না। VFS Dhaka স্বল্পমেয়াদি Schengen ভিসা আর Visa D নেয়। কিন্তু ডিগ্রি প্রোগ্রাম ছয় মাসের বেশি সময়ের, আর তার জন্য আসলে ভিসাই লাগে না — লাগে Residence Permit – Student (Aufenthaltsbewilligung – Student)। OeAD স্পষ্ট করে বলেছে, রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন সশরীরে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট Austrian মিশনে। আর New Delhi-র Austrian Embassy বলছে, ছয় মাসের বেশি সময়ের রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন New Delhi-তে সশরীরে করতে হবে। আপনি দেশের যেখানেই থাকুন, প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য New Delhi যেতেই হবে।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট কোনো পোর্টাল থেকে নেওয়া যায় না। [email protected] ঠিকানায় ইমেইল করতে হয় — নাম, ডাক ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের তথ্যসহ। এরপর তারিখ প্রস্তাব করার অপেক্ষা।
কত টাকা দেখাতে হবে, আর কত সময়ের জন্য?
Austria শর্তটা বেঁধে দিয়েছে বয়সের সঙ্গে, আর তারা চায় বারো মাসের প্রমাণ — এক মুহূর্তের ব্যালান্স নয়।
| আবেদনকারী | মাসিক | ১২ মাসে | আনুমানিক টাকা |
|---|---|---|---|
| ২৪ বছরের কম | EUR ৭২২.৫৮ | EUR ৮,৬৭০.৯৬ | ১২.৫ লাখ |
| ২৪ বা তার বেশি | EUR ১,৩০৮.৩৯ | EUR ১৫,৭০০.৬৮ | ২২.৬ লাখ |
| প্রতি সন্তান | EUR ২০১.৮৮ | EUR ২,৪২২.৫৬ | ৩.৫ লাখ |
২৪ বছরে এসে লাফটা খেয়াল করুন। যিনি ২৩ বছরে স্নাতক শেষ করে ২৫ বছরে স্নাতকোত্তর শুরু করছেন, তাঁকে প্রায় দ্বিগুণ অঙ্ক দেখাতে হবে। শেষ মুহূর্তে টের পাওয়ার চেয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা করা ভালো।
টাকাটা থাকতে হবে আবেদনকারীর নিজের নামে সেভিংস বই বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, এবং Austria থেকে সেটা তোলা যেতে হবে। বাসা ভাড়া মাসে EUR ৩৮৬.৪৩-এর বেশি হলে তার ওপর বাড়তি অর্থ দেখাতে হবে। বিকল্প হিসেবে OeAD গ্রহণ করে ইউরোপে বসবাসকারী কারও দেওয়া গ্যারান্টি ঘোষণা (Haftungserklärung), কিংবা নিশ্চিত হওয়া স্কলারশিপের চিঠি।
Austria শুধু ব্যালান্স দেখে না, টাকার উৎস জানতে চায়: ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, টাকা কোথা থেকে এসেছে তার স্বাক্ষরিত ঘোষণা, আর স্পনসরের চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণ। অ্যাপয়েন্টমেন্টের তিন সপ্তাহ আগে হঠাৎ বড় অঙ্কের জমা পড়লে ঠিক সেই প্রশ্নটাই ওঠে যেটা আপনি চান না। বাংলাদেশি ফাইল সবচেয়ে বেশি এখানেই ভেঙে পড়ে, আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা সবচেয়ে বেশি সময়ও দিই এই অংশে।
Austria-র জন্য আপনার apostille কেন কাজে আসবে না?
কারণ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে Austria আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে — আর এটা প্রায় সবাইকেই অপ্রস্তুত করে ফেলে।
১৯৬১ সালের Apostille Convention বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে, আর বেশিরভাগ গন্তব্যের ক্ষেত্রে এতে দীর্ঘ কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের বদলে একটাই স্ট্যাম্প যথেষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু Convention-এর ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগে থেকে সদস্য থাকা কোনো দেশ আপত্তি জানাতে পারে, আর তখন ওই দুই দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিটা কার্যকরই হয় না। Austria আপত্তি জানিয়েছে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪-এ।
এর বাস্তব মানে হলো — আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন আর শিক্ষাগত কাগজপত্র Austria-র জন্য apostille করা যাবে না। পুরো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের পথেই যেতে হবে, তারপর শপথপ্রাপ্ত ও আদালত-স্বীকৃত অনুবাদক দিয়ে জার্মানে অনুবাদ করাতে হবে। OeAD সতর্ক করেছে, দেশভেদে লিগ্যালাইজেশনে কয়েক মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে — তাই সবার আগে এই কাজটা শুরু করতে বলা হয়েছে।
Austria একা নয়। Czech Republic আর Estonia-ও আপত্তি জানিয়েছিল, তাই ওই দেশগুলোর গাইডেও আমরা একই সতর্কবার্তা রেখেছি। কোথাও যদি পড়ে থাকেন "বাংলাদেশে এখন apostille চালু, কাগজপত্র সহজ" — Austria-র ক্ষেত্রে সেই পরামর্শ ভুল।
২০২৭ সালের আবেদনের সময়সীমা কী, আর আপনার জন্য সেটা আগে শেষ হয় কেন?
তৃতীয় দেশের নাগরিকেরা EU আবেদনকারীদের চেয়ে কম সময় পান — ইচ্ছাকৃতভাবেই, যাতে পারমিটের প্রক্রিয়ার জন্য সময় থাকে।
| Intake | নন-EU সময়সীমা | EU সময়সীমা | সেমিস্টার শুরু |
|---|---|---|---|
| Winter ২০২৬/২৭ | ২২ জুন – ৩ আগস্ট ২০২৬ | ২২ জুন – ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১ অক্টোবর ২০২৬ |
| Summer ২০২৭ | ১৬ নভেম্বর ২০২৬ – ৭ জানুয়ারি ২০২৭ | ১৬ নভেম্বর ২০২৬ – ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ | ১ মার্চ ২০২৭ |
এগুলো University of Vienna-র প্রকাশিত তারিখ। অন্য বিশ্ববিদ্যালয় আর প্রতিটি university of applied sciences নিজেদের তারিখ ঠিক করে, তাই নিজের প্রতিষ্ঠানের ভর্তির পাতায় মিলিয়ে নিন। তবে ধরনটা সারা Austria-তেই একই, আর বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট বলে দিয়েছে — কোনো গ্রেস পিরিয়ড নেই।
এবার হিসাবটা করুন। Summer ২০২৭-এর ভর্তি শেষ ৭ জানুয়ারি ২০২৭, সেমিস্টার শুরু ১ মার্চ ২০২৭। এর মধ্যে ভর্তির চিঠি নিতে হবে, কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন শেষ করতে হবে, জার্মান অনুবাদ করাতে হবে, New Delhi-র অ্যাপয়েন্টমেন্ট জোগাড় করে সেখানে যেতে হবে, তারপর ৯০ দিন পর্যন্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। সময়ে কুলায় না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য Austria বাস্তবে winter intake-এর গন্তব্য, আর পরিকল্পনা শুরু করতে হয় প্রায় এক বছর আগে থেকে। জানুয়ারির ভর্তি দিয়ে কেউ যদি summer semester ধরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন, তিনি আমাদের মতো করে ক্যালেন্ডার গুনছেন না।
পড়ার পাশাপাশি কি কাজ করা যায়?
যায়, সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত — তবে আপনাআপনি নয়। আর এখানেই Austria ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ থেকে আলাদা।
Residence Permit – Student নিজে থেকে কাজের অধিকার দেয় না। আপনার নিয়োগকর্তাকে Austrian Public Employment Service (AMS)-এর কাছে কাজের অনুমতির (Beschäftigungsbewilligung) আবেদন করতে হয়। সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত হলে শ্রমবাজার যাচাই ছাড়াই অনুমতি দেওয়া হয়, তবে AMS-এর সেটা ইস্যু করতে সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহ লাগে। ২০ ঘণ্টার বেশি হলে AMS শ্রমবাজার যাচাই করে দেখতে পারে স্থানীয় কোনো প্রার্থী পাওয়া যায় কি না।
- কাজের অনুমতির আবেদন করেন নিয়োগকর্তা, শিক্ষার্থী নন — নগদে টুকটাক কাজের হিসাব এখানে খাটে না।
- আয় শুরুর আগে AMS-এর ওই কয়েক সপ্তাহের খরচ হাতে রাখুন।
- যে আয় এখনও অনুমোদনই পাননি, তার ভরসায় ফান্ডের পরিকল্পনা করবেন না।
- পারমিট নবায়নে পড়াশোনার অগ্রগতির প্রমাণ লাগে — যে কাজ ফলাফল নষ্ট করে, সেটা পারমিটও নষ্ট করে।
পড়া শেষে কী হয়?
Austria স্নাতকদের চাকরি খোঁজার জন্য এক বছর সময় দেয়, তারপর পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ক পারমিটের পথ খোলে।
স্টুডেন্ট পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে সেটা আরও ১২ মাসের জন্য নবায়ন করার আবেদন করা যায় — Austria-র কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক, পূর্ণ স্নাতকোত্তর বা ডক্টরাল প্রোগ্রাম শেষ করলে এই সুযোগ মেলে। ওই বারো মাসের মধ্যে যদি নিজের যোগ্যতার সমমানের কাজে সপ্তাহে অন্তত ৩০ ঘণ্টার চুক্তি দেখাতে পারেন, তাহলে স্নাতকদের জন্য Red-White-Red Card দেওয়া হয়, প্রথমে ২৪ মাসের জন্য।
এটা সত্যিকারের কাজে লাগার মতো একটা সিঁড়ি, আর কাগজপত্রের এত ঝক্কি সয়েও Austria-কে বিবেচনায় রাখার একটা বড় কারণ। এ কারণেই জার্মান ভাষার প্রশ্নটাও গুরুত্বপূর্ণ: টিউশন মওকুফ ডিগ্রি প্রোগ্রামে সাধারণভাবেই প্রযোজ্য, কিন্তু প্রোগ্রামের সবচেয়ে বড় তালিকা — আর পরে চাকরির সবচেয়ে বড় বাজার — জার্মান জানা ধরে নিয়েই সাজানো। ইংরেজি মাধ্যমে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম আছে এবং বাড়ছে; সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্নাতক প্রোগ্রাম তুলনায় অনেক কম।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি
ছবিটা প্রায় একই রকম। একজন শিক্ষার্থী আসেন Austria নিয়ে তিন-চারটি বাংলাদেশি এজেন্সির পাতা পড়ে, আর তার প্রতিটিতেই লেখা থাকে ঢাকার VFS-এ সহজ একটা আবেদনের কথা। New Delhi-র অ্যাপয়েন্টমেন্টের কথা কেউ বলেনি, সদ্য টাকা খরচ করে করা apostille যে Austria-র জন্য অকেজো সেটাও কেউ জানায়নি, আর EUR ২১৮ যে ফেরত আসে না সেই সতর্কতাও কোথাও ছিল না। উল্টো দিকে তাঁরা ধরেই নিয়েছেন টিউশন হাজার হাজার ইউরো — অর্থাৎ খরচ নিয়ে অতিরিক্ত হতাশ, আর সময় নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী।
Austria ঠিকভাবে করা মানে গোপন কোনো তথ্য জানা নয়। পুরো ব্যাপারটা ক্রম ঠিক রাখার: লিগ্যালাইজেশন যথেষ্ট আগে শুরু, সঠিক নামে যথেষ্ট সময় ধরে ফান্ড বসানো, ভিড় বাড়ার আগেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাওয়া, আর এমন intake বেছে নেওয়া যাতে ৯০ দিন সত্যিই মিলে যায়। এই ক্রমটা প্রত্যেকের জন্য আলাদা — বয়স, স্পনসর, কাগজপত্র আর প্রোগ্রামভেদে বদলায়। এটুকুর জন্য একবার সামনাসামনি বসাই ভালো।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Czech Republic student visa · বাংলাদেশ থেকে Estonia student visa
এই গাইডে ব্যবহৃত সরকারি সূত্র: Austria-র কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের টিউশন ও কোর্স ফি পাতা এবং OeAD-র Residence Permit – Student চেকলিস্ট।
Austria আপনার ফাইলের সঙ্গে মেলে কি না, নিশ্চিত নন?
টিউশন মওকুফের বিষয়টা সত্যি, আর উপযুক্ত শিক্ষার্থীর জন্য Austria ইউরোপের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ডিগ্রিগুলোর একটা। তবে সেটা আপনার জন্য খাটবে কি না, তা নির্ভর করে আপনার বয়স, স্পনসর কে, কাগজপত্র কোন অবস্থায় আছে আর intake বন্ধ হওয়ার আগে হাতে কতটা সময় আছে — এসবের ওপর। যা আছে তা-ই নিয়ে আসুন, এমনকি শুধু পাসপোর্ট আর ট্রান্সক্রিপ্ট হলেও। আমরা একসঙ্গে বসে সৎ একটা সময়রেখা এঁকে দেব, দরকার হলে এটাও বলব যে অন্য কোনো দেশ আপনার জন্য বেশি ভালো হতো।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →