প্রতি বছর অল্প কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী একইভাবে Czech Republic-কে আবিষ্কার করেন। কেউ একজন বলেন, চেক ভাষায় পড়লে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি লাগে না। তাঁরা ওয়েবসাইট খুলে দেখেন, কথাটা সত্যি। তারপর ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে গিয়ে আসল গল্পটা শুরু হয় — বাংলাদেশে চেক ভিসার কোনো কাউন্টার নেই। আছে New Delhi-তে একটা ইমেইল বাক্স, যা বছরে মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনে খোলে, আর একটা কম্পিউটার সেখান থেকে এলোমেলোভাবে নাম তোলে।
বাংলাদেশ থেকে Czech Republic স্টুডেন্ট ভিসা মানে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে লং-টার্ম ভিসা, যেটির আবেদন জমা দিতে হয় New Delhi-র চেক দূতাবাসে, সশরীরে — বাংলাদেশে নয়। আগে ইমেইল রেজিস্ট্রেশন রাউন্ডে অ্যাপয়েন্টমেন্ট জিততে হয়, এক বছরের জন্য প্রায় CZK ১১৫,৮১০ (প্রায় ৬.৯ লাখ টাকা) দেখাতে হয়, CZK ২,৫০০ কনস্যুলার ফি দিতে হয়, আর সার্টিফিকেট superlegalisation করাতে হয় — কারণ Czechia বাংলাদেশি apostille মানে না।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা Czech স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন কোথায় করবেন?
New Delhi-তে। Embassy of the Czech Republic in New Delhi বাংলাদেশের পাশাপাশি Nepal, Sri Lanka, Maldives আর Bhutan-ও দেখে। ঢাকায় চেক প্রজাতন্ত্রের একটি Honorary Consulate আছে, আর গোলমালটা ঠিক এখান থেকেই শুরু। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্টাডি পোর্টাল এখনও লিখে রেখেছে, বাংলাদেশে দূতাবাস বা অনারারি কনসুলেটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। সেটা সম্ভব নয়। অনারারি কনসুলেট লং-টার্ম ভিসার আবেদন নেয় না, আর আবেদন জমা দিতে হয় নিজে গিয়ে।
এই একটি তথ্যই পুরো বাজেট বদলে দেয়। চেক স্টুডেন্ট ভিসার ফাইল জমা দেওয়ার আগে আপনার লাগবে একটা ভারতীয় ভিসা, দিল্লি যাওয়ার ব্যবস্থা আর সেখানে থাকার জায়গা। দূতাবাস নিজেই বিষয়টা জানে — তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতায় লেখা আছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয় না, বরং এক থেকে দুই মাস আগে দেওয়া হয়, যাতে ভারতে যাওয়ার ভিসাটা জোগাড় করার সময় থাকে।
দিল্লি যেতে হবে দুবার, একবার নয়। প্রথমবার আবেদন জমা দিতে আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে। দ্বিতীয়বার ভিসা নিতে, কারণ সিদ্ধান্ত হওয়ার পর দূতাবাসেই পাসপোর্টে ভিসা লাগানো হয় — এবং তার আগে মেডিকেল ইনস্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হয়। কাগজপত্র superlegalisation করাতে হলে সেটা একই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিনেই জমা দেওয়া যায়, আর এটাই এখানে সময় বাঁচানোর একমাত্র সত্যিকারের সুযোগ।
New Delhi-র অ্যাপয়েন্টমেন্ট লটারি আসলে কীভাবে কাজ করে?
এটা ইমেইলে রেজিস্ট্রেশন রাউন্ড, আর এখানে ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। দূতাবাস অল্প কয়েকটি তারিখ ঘোষণা করে; সেই দিনগুলোতে ভারতীয় সময় বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে আপনি [email protected] ঠিকানায় একটি ইমেইল পাঠাবেন। এই সময়ের বাইরের সব ইমেইল বাদ। ২০২৬ সালের ঘোষিত তারিখ ছিল ৪ মে, ১ জুন, ৭ জুলাই, ৩ অগাস্ট আর ৭ সেপ্টেম্বর।
এবার আসল সংখ্যাটা, যেটা সব ঠিক করে দেয় — ৫০। একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোট এতগুলো আবেদনই নেওয়া হয়, সব উদ্দেশ্য মিলিয়ে, দূতাবাসের অধীনে থাকা পাঁচটি দেশের জন্য। এর মধ্যে অন্তত ২০টি বরাদ্দ family reunification-এর জন্য, আর সর্বোচ্চ ৫টি seasonal employment-এর জন্য। বাকিটুকু শিক্ষার্থী, গবেষক আর অন্য সবাই ভাগ করে নেন। একটা আবেদন-চক্রে টাকা ঢালার আগে লাইনটা আরেকবার পড়ুন।
দূতাবাস স্পষ্ট করে লিখেছে, বট, স্ক্রিপ্ট বা গণ-ইমেইল পাঠানোর টুল তাদের কাছে সাইবার হুমকি, আর সেসব ইমেইল বাদ দেওয়া হয়। ব্ল্যাকলিস্টে থাকা IP বা ডোমেইন থেকে আসা ইমেইল, কিংবা যে ইমেইলে উত্তর পাঠানো বন্ধ করা আছে, সেগুলোও বাতিল হয়। নিজে হাতে, সাধারণ ব্যক্তিগত মেইলবক্স থেকে পাঠান, যেখানে উত্তর আসতে পারে। কোনো এজেন্ট যদি "স্লট নিশ্চিত" করার কথা বলেন, তিনি এমন জিনিস বিক্রি করছেন যা দূতাবাসের নিজের র্যান্ডমাইজারই বিক্রি করে না।
২০২৭ সালে Czech স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কত টাকা দেখাতে হবে?
চেক নিয়মটা একটা সূত্র, গোল কোনো সংখ্যা নয়। লং-টার্ম ভিসার আবেদনকারীকে দেখাতে হয় subsistence minimum-এর ১৫ গুণ, আর প্রথম মাসের পর প্রতিটি পূর্ণ মাসের জন্য আরও দ্বিগুণ করে। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে subsistence minimum মাসে CZK ৩,১৩০।
| খাত | পরিমাণ | আনুমানিক টাকা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| এক বছরের ফান্ড (১ সেপ্টেম্বর–৩১ অগাস্ট) | CZK ১১৫,৮১০ | ৳৬,৮৮,০০০ | মন্ত্রণালয়ের সূত্র |
| এক সেমিস্টারের ফান্ড (১ সেপ্টেম্বর–২৮ ফেব্রুয়ারি) | CZK ৭৮,২৫০ | ৳৪,৬৫,০০০ | মন্ত্রণালয়ের সূত্র |
| Subsistence minimum | মাসে CZK ৩,১৩০ | ৳১৮,৬০০ | ২০২৩ থেকে, বদলাতে পারে |
| কনস্যুলার ফি, ভিসা আবেদন | CZK ২,৫০০ | ৳১৪,৯০০ | মন্ত্রণালয়ে ঘোষিত |
| মেয়াদ বাড়ানো / পারমিটের আবেদন | CZK ১,০০০ | ৳৫,৯৪০ | মন্ত্রণালয়ে ঘোষিত |
| পাস করার পর চাকরি খোঁজার পারমিট | CZK ২,৫০০ | ৳১৪,৯০০ | যাচাই করে নিন |
| ভারতীয় ভিসা + দিল্লি যাতায়াত | নির্ভর করে | — | বাদ দেওয়া যাবে না |
হিসাব CZK ১ ≈ ৳৫.৯৪ ধরে (২৭ অগাস্ট ২০২৬)। রেট বদলায় — ব্যাংক স্টেটমেন্ট বানানোর আগে আবার হিসাব করে নিন।

আরেকটা পথ আছে, যেটার কথা জিজ্ঞেস করা উচিত। Foreigners Act-এর Section 64 অনুযায়ী পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আবেদন করলে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা আইনি সত্তার লিখিত অঙ্গীকার — কিংবা প্রতিষ্ঠানটি আপনার পড়াশোনার খরচ বহন করবে এমন প্রমাণ — ব্যাংক ব্যালেন্সের একটা অংশের বদলে চলতে পারে। অঙ্গীকারের অঙ্ক কম পড়লে বাকিটা আপনাকে দেখাতে হয়, তবে সর্বোচ্চ subsistence minimum-এর ছয় গুণ পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে বৃত্তি পেলে সেই সিদ্ধান্তপত্রই পুরো ফান্ডের বদলে চলে। আপনার অফার লেটারটি এই সুবিধার আওতায় পড়ে কি না, সেটা টাকা আটকে রাখার আগেই দেখে নেওয়া ভালো।
Czech Republic-এ apostille কেন কাজ করবে না?
এই জায়গাটাতেই বাংলাদেশি পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খান, কারণ এটা তাঁদের শোনা একটা ভালো খবরের উল্টো কথা বলে। ১৯৬১ সালের Hague Apostille Convention বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ, আর বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি apostille-ই এখন পুরনো দূতাবাস-লিগ্যালাইজেশনের শিকল প্রতিস্থাপন করে। কিন্তু Czech Republic সেই দেশগুলোর একটি, যারা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে। Austria, Germany, Belgium আর Finland-ও আপত্তি জানিয়েছে। কোনো দেশ আপত্তি জানালে সেই দেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে Convention-টি প্রযোজ্যই হয় না — তাই আপনার apostille প্রাগে গ্রাহ্য হবে না।
New Delhi-র চেক দূতাবাস তাদের কনস্যুলার পাতায় এক লাইনে কথাটা লিখে রেখেছে: বাংলাদেশি কাগজপত্রের ক্ষেত্রে superlegalisation-এর জন্য চেক প্রজাতন্ত্র কেবল attestation-ই স্বীকার করে। বাস্তবে এর মানে, আপনার HSC সার্টিফিকেট, মার্কশিট, স্নাতকের ট্রান্সক্রিপ্ট আর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে attest করাতে হবে, তারপর New Delhi-র চেক দূতাবাস থেকে superlegalise করাতে হবে।
বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাগজ সত্যায়িত করান → বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে attest করান → [email protected] ঠিকানায় "Superlegalization – আপনার পাসপোর্ট নম্বর" সাবজেক্টে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়ে ইমেইল করুন → নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে ফি দিন, আর ৩০ দিন পর্যন্ত সময় হাতে রাখুন। একজনের জন্য সর্বোচ্চ ১০টি কাগজ নেওয়া হয়। চেক ভাষায় অনুবাদ করতে হলে সেটা চেক আদালতের তালিকাভুক্ত অনুবাদকের কাছ থেকেই আনতে হবে — দূতাবাস নিজে অনুবাদ করে না, অনুবাদ সত্যায়িতও করে না।
এর সঙ্গে যোগ হয় nostrification — বিদেশি মাধ্যমিক সার্টিফিকেটকে সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার ধাপ, যা সাধারণত আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ করে এবং যার সঙ্গে চেক ভাষায় সত্যায়িত অনুবাদ লাগে। বাংলাদেশের সঙ্গে Czechia-র পারস্পরিক স্বীকৃতির চুক্তি নেই, তাই এটা নিয়মরক্ষার ব্যাপার নয়, সত্যিকারের একটা প্রক্রিয়া — আর এটা superlegalisation-এর বদলে নয়, তার পাশাপাশি চলে।
Czech Republic-এ পড়তে আসলে খরচ কত?
সত্যিই কম, যদি আপনি চেক ভাষা শিখতে রাজি থাকেন। আইন অনুযায়ী চেক সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা সব দেশের শিক্ষার্থীর জন্যই বিনামূল্যে, যদি প্রোগ্রামটি চেক ভাষায় পড়ানো হয়। এটা কোনো বৃত্তি বা ছাড় নয় — এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। ইংরেজি বা অন্য বিদেশি ভাষায় পড়ানো প্রোগ্রামে ফি আছে, প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ভেদে শূন্য থেকে বছরে প্রায় USD ২২,৩৫০ পর্যন্ত, আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের ফি নিজেরাই ঠিক করে। মেডিসিন থাকে ওই সীমার একেবারে ওপরে; ইঞ্জিনিয়ারিং, IT আর ব্যবসার বেশিরভাগ প্রোগ্রাম থাকে অনেক নিচে।
এর সঙ্গে একটা সৎ শর্ত জুড়ে আছে, আর সেটা বলে দেওয়াই ভালো: চেক ভাষায় ডিগ্রি নিতে চাইলে ক্লাস বোঝার আগে এক বছর ভাষা প্রস্তুতির কোর্স করতে হয়, আর সেই প্রস্তুতি-বছরটিও ভিসার জন্য স্বীকৃত একটি পড়াশোনার উদ্দেশ্য। প্রায় যেকোনো জায়গায় চার বছর ইংরেজিতে পড়ার চেয়ে এটা সস্তা, তবে এতে জীবনের একটা বছর যায় আর কাজটা কঠিন। Czechia নিয়ে আমাদের কাছে যাঁরা আসেন, তাঁদের বেশিরভাগই ঠিক এই দুটো পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন — আর সঠিক উত্তরটা নির্ভর করে আপনার বয়স, টাকার জোগান আর হাতে কতটা সময় আছে তার ওপর।
পড়ার সময় কাজ করা যাবে, আর পাস করার পর থাকা যাবে?
দুটোরই উত্তর হ্যাঁ, তবে শর্তসাপেক্ষে। স্বীকৃত ডিগ্রি প্রোগ্রামে নিয়মিত ধারায় ভর্তি তৃতীয় দেশের শিক্ষার্থীদের আলাদা কাজের অনুমতি লাগে না — শিক্ষার্থী মর্যাদাটাই যথেষ্ট। চেক আইন যেটা কঠোরভাবে দেখে, তা হলো আপনার কাজ যেন আপনার থাকার উদ্দেশ্যের, অর্থাৎ পড়াশোনার, বিরুদ্ধে না যায়। এই দলটির জন্য সাপ্তাহিক ঘণ্টার কোনো একক পরিষ্কার সীমা মন্ত্রণালয়ের বিদেশি-পোর্টালে প্রকাশিত নেই, আর ঠিক এ কারণেই কোনো ব্লগের টেবিলের ওপর ভরসা না করে নিজের অনুষদের আন্তর্জাতিক দপ্তরে জিজ্ঞেস করে নেওয়া উচিত।
পাস করার পরের ছবিটা বরং পরিষ্কার আর বেশ উদার। স্বীকৃত চেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম থেকে পাস করলে চাকরি খোঁজা বা ব্যবসা শুরু করার উদ্দেশ্যে লং-টার্ম রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করা যায়। এটা সর্বোচ্চ নয় মাসের, মেয়াদ বাড়ানো যায় না, আর এই সময়টায় শ্রমবাজারে আপনার পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকে — বাড়তি অনুমতি ছাড়াই কাজ করা, চাকরি খোঁজা বা ব্যবসা শুরু করা যায়। বর্তমান পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করতে হবে, আর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিতে ৬০ দিন সময় পায়।
কাজে নামার আগে যাচাই করুন। New Delhi-র অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতাটি নিজের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক — সেখানে লেখা আছে পাতাটির মেয়াদ ২৩ মে ২০২৬-এ শেষ হয়েছে, অথচ তাতেই ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনের তারিখ দেওয়া। এই লেখা তৈরির সময় ২০২৭ সালের তারিখ প্রকাশিত হয়নি। CZK ৩,১৩০-এর subsistence minimum ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারির, যা সংশোধিত হতে পারে। শিক্ষার্থীদের কাজের ঘণ্টার সীমা আর চাকরি খোঁজার পারমিটের ফি — এই দুটোকে আমরা কোনো একক হালনাগাদ সরকারি পাতায় মেলাতে পারিনি। টাকা খরচ বা টিকিট কাটার আগে প্রতিটি তারিখ, ফি আর সীমা সরাসরি New Delhi-র চেক দূতাবাস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি-পোর্টাল থেকে নিশ্চিত করে নিন।
পরিসর সম্পর্কে একটা কথা। Czech Republic এই মুহূর্তে Eduvisa-র প্রসেস করা পাঁচটি দেশের মধ্যে নেই। যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বারবার এই দেশটির কথা জিজ্ঞেস করেন, তাঁদের জন্যই এই গবেষণা — এটা আজই আমরা চেক আবেদন প্রসেস করি, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি নয়।
আমাদের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বেশি ভুল কোথায় হয়?
Eduvisa-তে আমরা দেখি, যেসব ইউরোপীয় গন্তব্যের আবেদন অন্য দেশের মিশন হয়ে যায়, সেখানে একই তিন ধরনের ভুল বারবার ফিরে আসে — আর Czechia-তে তিনটিই একসঙ্গে জড়ো হয়। প্রথমটা ক্রম: শিক্ষার্থী আগে টাকা জোগাড় করেন, ভর্তির চিঠি পরে, তারপর টের পান confirmation of enrolment তো রেজিস্ট্রেশন ইমেইলেরই বাধ্যতামূলক অ্যাটাচমেন্ট — ভর্তি না থাকলে লটারিতেই ঢোকা যায় না। দ্বিতীয়টা কাগজের সত্যায়ন: পরিবার apostille করিয়ে ফেলে, কারণ কোনো এক আত্মীয়ের Italy-র বেলায় সেটাই কাজে লেগেছিল, আর সার্টিফিকেটগুলো প্রাগের জন্য অকেজো হয়ে ফেরত আসে। তৃতীয়টা প্রত্যাখ্যানের খাদ। লং-টার্ম ভিসা নাকচ হলে আপিলের সুযোগ নেই — কেবল নাকচের কারণগুলো নতুন করে মূল্যায়নের অনুরোধ করা যায়। অথচ রেসিডেন্স পারমিট নাকচ হলে ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়। আপনি দুটোর কোনটির জন্য আবেদন করেছেন, সেটা নাকচ হওয়ার আগেই জানা থাকলে পরের পদক্ষেপটা বদলে যায়।
রেজিস্ট্রেশন রাউন্ডে ঢোকার আগেই যা তৈরি রাখবেন
- ভর্তি নিশ্চিত, আর হাতে confirmation of studies বা enrolment-এর মূল কপি
- HSC ও ডিগ্রির সার্টিফিকেট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে attested
- New Delhi-র চেক দূতাবাসে superlegalisation-এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাওয়া হয়ে গেছে
- Nostrification-এর পথটা আপনার চেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করা
- টাকা নিজের নামে, যথেষ্ট পুরনো, আর উৎস পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা যায়
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট তোলা ও সত্যায়িত
- দূতাবাসের ১–২ মাস আগাম নোটিশের সঙ্গে মিলিয়ে ভারতীয় ভিসার সময়সূচি সাজানো
- পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ইনস্যুরেন্সের কোটেশন হাতে, ভিসা নেওয়ার দিনের জন্য প্রস্তুত
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Germany স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ — আরেকটি দেশ যারা বাংলাদেশের apostille অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি জানিয়েছে, ফলে superlegalisation-এর একই ঝামেলা — আর কম খরচে বিদেশে পড়াশোনার উপায়। বাজেট ইউরোপ নিয়ে ভাবলে আমাদের Poland স্টুডেন্ট ভিসা গাইড-এ সবচেয়ে কাছাকাছি পথটির বর্ণনা আছে।
এই লেখায় ব্যবহৃত বাইরের সূত্র: চেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Information Portal for Foreigners এবং Embassy of the Czech Republic in New Delhi।
দিল্লি পর্যন্ত যাওয়াটা Czechia-র জন্য সার্থক কি না, বুঝতে পারছেন না?
প্রশ্নটা যুক্তিসঙ্গত, আর সৎ উত্তরটা নির্ভর করে এমন কিছু জিনিসের ওপর যা একটা ব্লগ পোস্ট দেখতে পায় না — আপনার HSC ফল, টাকার জোগান, চেক ভাষায় ডিগ্রি আপনার সময়সূচিতে খাটে কি না, আর আপনার কাগজপত্র এখন কীভাবে সত্যায়িত করা আছে। চলে আসুন, বসে কথা বলি। আমরা আপনার আসল কাগজগুলো দেখে সোজাসুজি বলে দেব এই পথটা আপনার জন্য কাজ করবে, নাকি আমাদের চেনা গন্তব্যগুলোর কোনো একটাই আপনার জন্য ভালো।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →