ঢাকা থেকে "study in Georgia" লিখে খুঁজলে ডজনখানেক কনসালটেন্সির পাতা সামনে আসে — Tbilisi State Medical University-তে সস্তায় ডাক্তারি, সহজ ভিসা, আর পার্ট-টাইম কাজ করে খরচ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি। এই পাতাগুলোর বেশিরভাগই লেখা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের আগে। এরপর Georgia দুটো নিয়ম বদলে ফেলেছে, যা ওই প্রতিশ্রুতির ভিতটাই নড়িয়ে দিয়েছে — অথচ বাংলাদেশে প্রায় কেউই নিজের পাতা হালনাগাদ করেনি। ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশ থেকে Georgia স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে খোঁজ করলে সত্যিকারের ছবিটা বিজ্ঞাপনের চেয়ে সীমিত, তবে চোখ খোলা রেখে এগোলে পথটা এখনও বাস্তব।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা Georgia-র D3 স্টাডি ভিসার আবেদন করেন অনলাইনে, geoconsul.gov.ge-তে। বাংলাদেশের দায়িত্বে আছে New Delhi-র Embassy of Georgia। সরকারি ফি প্রায় ২০ ডলার, আর মন্ত্রণালয় ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানায়। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থীরা কেবল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন, আর ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে শুধু স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস থাকলেই টাকা রোজগারের অধিকার মেলে না।
২০২৭ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কি এখনও Georgia-তে পড়তে পারবেন?
পারবেন — তবে কেবল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর Georgia-র শিক্ষা ও বিজ্ঞানমন্ত্রী Givi Mikanadze জানান, পরের শিক্ষাবর্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আর বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না, কারণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে "রাষ্ট্রের স্বার্থের দিকে" মনোযোগী হতে হবে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম আর কিছু নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে সীমিত ব্যতিক্রম থাকছে। যাঁরা আগেই ভর্তি হয়ে গেছেন, তাঁদের ওপর এর প্রভাব পড়বে না — নিষেধাজ্ঞাটা ২০২৬–২৭ থেকে নতুন ভর্তির জন্য।
এই একটি পরিবর্তনই বাংলাদেশে চালু থাকা Georgia-বিষয়ক প্রচারের বড় অংশকে অচল করে দিয়েছে। Tbilisi State Medical University, Ilia State University আর Georgian Technical University — তিনটিই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। কোনো এজেন্সির পাতা যদি এখনও ২০২৭ সেশনের জন্য এসব নামে ভর্তি বিক্রি করে, তারা এমন একটা পথের কথা বলছে যেটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্বস্তির খবর হলো, Georgia-র উচ্চশিক্ষার বেশিরভাগটাই বেসরকারি — স্বীকৃত ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোটামুটি ৪৫টি — তাই বেছে নেওয়ার সুযোগ এখনও আছে।
"এই বিশ্ববিদ্যালয়টি রাষ্ট্রীয় না বেসরকারি, আর ২০২৭ সেশনে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার আইনি অনুমতি কি ওদের আছে?" উত্তর যদি গোলমেলে হয়, কিংবা এজেন্ট যদি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ঘোষণার কথাই না জানেন, তাহলে সেখানেই থামুন। যে প্রতিষ্ঠান আইনত আপনাকে ভর্তি করতে পারে না, তার অফার লেটার ভিসার ধাপে কোনো কাজেই আসবে না।
বাংলাদেশ থেকে Georgia স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন কোথায় করবেন?
এই জায়গাটাতেই প্রতিযোগীদের প্রায় সব পাতা ভুল করে। বাংলাদেশে Georgia-র ভিসা দেওয়ার মতো কোনো দূতাবাস নেই। New Delhi-র ১৬৯ Jor Bagh ঠিকানায় থাকা Embassy of Georgia নিজেদের ওয়েবসাইটেই লিখেছে যে তারা "Kingdom of Thailand, Democratic Socialist Republic of Sri-Lanka, People's Republic of Bangladesh and Federal Democratic Republic of Nepal"-এর কাছে অনুমোদিত। আপনার ফাইলের দায়িত্ব ওই মিশনেরই।
ঢাকায় Georgia-র একজন Honorary Consul আছেন, আর এখানেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কয়েক সপ্তাহ নষ্ট হয়। অনারারি কনসুলেট মূলত একটি সৌজন্যমূলক কূটনৈতিক পদ — সেখানে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া করা হয় না। কাগজপত্র নিয়ে সেখানে হাজির হলে আপনার আবেদন শুরুই হবে না।
তবে সত্যিকারের সুখবর, আর এখানেই Eduvisa-র সাম্প্রতিক দেশগুলোর গবেষণার মধ্যে Georgia আলাদা — এখানে দিল্লি যাওয়ার ফাঁদ নেই। Czech Republic, Slovakia, Bulgaria বা Estonia-র ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে সশরীরে New Delhi যেতে হয়; Georgia-র D3 ইমিগ্রেশন ভিসার আবেদন কিন্তু অনলাইনেই জমা পড়ে geoconsul.gov.ge কনস্যুলার পোর্টালে। বাংলাদেশে বসে থাকা একজন শিক্ষার্থীর জন্য এতে ইউরোপের বেশিরভাগ আবেদনের সবচেয়ে খরুচে আর অনিশ্চিত ধাপটাই বাদ পড়ে যায়।
D3 স্টাডি ভিসায় আসলে কী কী কাগজ লাগে?
Georgia-র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় D3-এর কাগজের তালিকা প্রকাশ করে, আর সেটি বাংলাদেশে ঘুরতে থাকা সাধারণ চেকলিস্টগুলোর চেয়ে অনেক বেশি নির্দিষ্ট। এর দুটি কাগজ অস্বাভাবিক, আর এখানেই শিক্ষার্থীরা আটকে যান: আপনার ভর্তি সংক্রান্ত শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রীর আদেশ, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও ইংরেজি মাধ্যমের অনুষদের তালিকা সংক্রান্ত আলাদা একটি আদেশ। এর কোনোটাই আপনি নিজে বানাতে পারবেন না — বিশ্ববিদ্যালয়কেই দিতে হবে, আর অগোছালো প্রতিষ্ঠান হলে আপনার ফাইল ঠিক এখানেই থেমে থাকবে।

| কাগজ | কে দেয় | মন্তব্য |
|---|---|---|
| পাসপোর্টের কপি | আপনি | সহজ |
| ভর্তির চিঠি | বিশ্ববিদ্যালয় | শুধু বেসরকারি |
| মন্ত্রীর ভর্তি আদেশ | মন্ত্রণালয় | দেরির সাধারণ কারণ |
| স্বীকৃতির আদেশ | মন্ত্রণালয় | ইংরেজি অনুষদ থাকতে হবে |
| অনলাইন পারমিট | Georgian কর্তৃপক্ষ | ইমেইলে আসে |
| ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স | বিমা কোম্পানি | ভিসার মেয়াদজুড়ে |
| ব্যাংক স্টেটমেন্ট | আপনার ব্যাংক | গত ৩ মাসের |
| থাকার প্রমাণ | বাড়িওয়ালা | বাধ্যতামূলক |
| বায়োমেট্রিক ছবি | আপনি | এক কপি |
আবেদনের আগে যাচাই করুন। Georgia-র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সবচেয়ে বিস্তারিত D3 তালিকাটি রাখা আছে তাদের UAE মিশনের পাতায়, তাই ওই তালিকার একটি লাইন (রেসিডেন্সি আইডির শর্ত) কেবল আমিরাতে থাকা আবেদনকারীদের জন্য — বাংলাদেশে আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মিশনভেদে তালিকায় সামান্য পার্থক্যও থাকে। ফাইল গোছানোর আগে New Delhi দূতাবাসের [email protected] ঠিকানায় নিজের তালিকাটা নিশ্চিত করে নিন।
Georgia-র জন্য আসলে কত টাকা লাগে?
Georgia-র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্নাতক প্রোগ্রামের টিউশন সাধারণত বছরে ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ ডলারের মধ্যে থাকে; Tbilisi-র University of Georgia-তে ব্যবসা, কম্পিউটিং আর নার্সিংয়ের মূল ডিগ্রিগুলোর ফি প্রকাশিত আছে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের ঘরে। ডলারপ্রতি মোটামুটি ১২২ টাকা ধরলে ৪,০০০ ডলার মানে বছরে প্রায় ৪.৯ লাখ টাকা — ইউরোপের মানদণ্ডে সত্যিই কম, আর এ কারণেই দেশটি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর কাছে আকর্ষণীয়।
Ilia State University-র প্রকাশিত জীবনযাত্রার খরচ একটা কাজের মানদণ্ড দেয়, যদিও প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয়: থাকার খরচ মাসে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ ডলার, আর খাবারের প্যাকেজ মাসে ১২০ ডলারের কাছাকাছি। আরেকটি কথা — আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য Georgian বিমা কোম্পানির স্বাস্থ্যবিমা বাধ্যতামূলক, তাই বাংলাদেশ থেকে কেনা পলিসি ভর্তির পর এই শর্ত পূরণ করবে না।
এবার সেই অংশ, যেটা এজেন্সির পাতা আপনাকে বলবে না। বাংলাদেশ ও ভারতের বেশ কিছু কনসালটেন্সির সাইটে লেখা আছে, ব্যাংকে কমপক্ষে ১০,০০০ ডলার দেখাতে হবে। Georgia সরকারের কোনো উৎসে আমরা এই অঙ্কটি খুঁজে পাইনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর e-Visa পোর্টাল আসলে যা চায় তা হলো পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ — তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নিয়োগকর্তার আয়ের প্রত্যয়ন, স্থাবর সম্পত্তির কাগজ কিংবা স্পনসরের চিঠি — কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম অঙ্ক প্রকাশ করা নেই। তবু কনস্যুলার কর্মকর্তা নিজের বিবেচনা খাটান, তাই দুর্বল স্টেটমেন্ট আপনার ক্ষতিই করবে। কেউ নির্দিষ্ট অঙ্ক বললে সেটাকে ওই এজেন্সির অনুমান ধরুন, Georgia-র আইন নয় — আর উৎসটা দেখতে চান।
যে রিফিউজালগুলো সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়, সেগুলো সাধারণত টাকার কারণে হয় না — হয় ফাইলের গল্প আর কাগজের মধ্যে অমিলের কারণে। যাঁর ব্যাংক স্টেটমেন্টে জমা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে হঠাৎ বড় অঙ্ক ঢোকে, কিংবা যাঁর বেছে নেওয়া বিষয়ের সঙ্গে আগের পড়াশোনার কোনো যোগ নেই, তিনি এমন প্রশ্ন ডেকে আনেন যার উত্তর কোনো কভার লেটারে দেওয়া যায় না। টেবিলের এপাশে বসে আমরা ঠিক এই কাজটাই করি — আপলোড হওয়ার আগেই ফাইলটাকে সঙ্গতিপূর্ণ করে তোলা।
শিক্ষার্থী হিসেবে Georgia-তে কি পার্ট-টাইম কাজ করা যাবে?
এটাই দ্বিতীয় নিয়ম বদল, আর "Georgia-তে পড়ো আর কাজ করো" প্রচারটিকে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা এটিই দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গৃহীত ৭০ নম্বর রেজল্যুশনের আওতায় Georgia বাধ্যতামূলক Special Labour Permit চালু করেছে — কাজ করার আলাদা অনুমতি — যার আবেদন শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে। শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো, বিদেশি নাগরিকের বৈধ ভিসা বা অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিট থাকুক বা না থাকুক, এই শর্ত সবার ক্ষেত্রেই খাটে। সহজ কথায়: শুধু স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস আপনাকে Georgia-তে টাকা রোজগারের অধিকার দেয় না।
শিক্ষার্থীদের জন্য আরও দুটি দিক ব্যাপারটাকে কঠিন করে তোলে। প্রথমত, কুরিয়ার সেবা, যাত্রী পরিবহন আর ট্যুরিস্ট গাইডের ক্ষেত্রে বার্ষিক কোটা শূন্য বলে জানা যাচ্ছে — অথচ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ঠিক এই কাজগুলোই করেন। দ্বিতীয়ত, আছে শ্রমবাজার যাচাই: নিয়োগকর্তাকে রাষ্ট্রীয় চাকরির পোর্টালে দশ কার্যদিবস বিজ্ঞাপন দিতে হবে, আর সংস্থার পাঠানো স্থানীয় প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কারণ দেখাতে হবে। একটা পার্ট-টাইম কাজের জন্য এটি বেশ ভারী প্রক্রিয়া, আর খুব কম নিয়োগকর্তাই একজন শিক্ষার্থীর জন্য এই ঝামেলায় যাবেন।
অনুমতি ছাড়া কাজ করলে প্রথমবারের জরিমানা ২,০০০ GEL — প্রায় ৯৪ হাজার টাকা — আর তা কেবল নিয়োগকর্তা নয়, কর্মীর ওপরও পড়তে পারে; আগে থেকে কর্মরত বিদেশিদের ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে বৈধ হওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। কাঠামোটি একেবারে নতুন আর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ এখনও থিতু হয়নি, তাই পার্ট-টাইম আয়ের ওপর ভরসা করে বাজেট বানাবেন না।
অনিশ্চিত: শিক্ষার্থীদের জন্য Special Labour Permit ঠিক কীভাবে কাজ করবে — কোটা, কোন খাতে অনুমতি মিলবে, আর স্টাডি রেসিডেন্স পারমিটের সঙ্গে কাজের অনুমতির সম্পর্ক কী — এসব মূলত Georgian ল ফার্মগুলোর লেখায় পাওয়া যাচ্ছে, ইংরেজিতে একটিমাত্র সরকারি পাতায় নয়। কাজের ওপর নির্ভর করে কোনো পরিকল্পনা করার আগে দূতাবাস কিংবা লাইসেন্সধারী Georgian পরামর্শকের কাছ থেকে বর্তমান অবস্থা জেনে নিন।
২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে রেসিডেন্স পারমিটে কী বদলাল?
এই গাইড থেকে একটিমাত্র জিনিস মনে রাখলে এটিই রাখুন, কারণ বাংলাদেশের আর কোনো পাতায় এখন এটা নেই। Georgia-র Law on the Legal Status of Aliens and Stateless Persons-এর সংশোধনী কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর, আর তাতে কড়াকড়ি বেড়েছে মূলত পৌঁছানোর পরের ধাপে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন D6 ভিসা শ্রেণি তৈরি হয়েছে, আর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য D3-ই থাকছে, তবে নবায়নের শর্ত আগের চেয়ে সংকীর্ণ।
বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সবচেয়ে জরুরি অংশ হলো, এখন যেসব কারণে শিক্ষার্থীর পারমিট বাতিল হতে পারে:
- এক শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ক্রেডিটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অর্জন করতে না পারা
- যেকোনো টানা বারো মাসে ১৮৩ দিন বা তার বেশি Georgia-র বাইরে থাকা
- শিক্ষার্থী স্ট্যাটাস ৯০ দিন স্থগিত থাকা
সোজা কথায়, শিক্ষার্থী সত্যিই পড়ছেন কি না আর সত্যিই দেশে আছেন কি না — Georgia এখন তা আনুষ্ঠানিকভাবে নজরে রাখছে, আর বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীর স্ট্যাটাস বদলালে অভিবাসন সংস্থাকে জানাতে হবে। অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায়, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর যাঁদের স্ট্যাটাস স্থগিত ছিল, তাঁরা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় পাবেন তা ফিরিয়ে আনার, আর আদালতে আপিলের সময় মাত্র ১০ দিন।
এটি ভালোভাবে যাচাই করুন। পাস হওয়া আইনের মূল পাঠ কেবল জর্জিয়ান ভাষায় প্রকাশিত, আর আমাদের পড়াটা নির্ভর করছে ওই বিলের আইনি বিশ্লেষণের ওপর, সরকারি ইংরেজি সংস্করণের ওপর নয়। পরিবর্তনের ঝোঁক নিয়ে সংশয় নেই, তবে ক্রেডিট আর অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট সীমা দুটি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিস থেকে নিশ্চিত করে নিন।
বাংলাদেশি কাগজে কি apostille লাগবে, না দূতাবাসের সত্যায়ন?
এখানে খবরটা ভালো, আর এটা জেনে রাখা দরকার — কারণ আমাদের সাম্প্রতিক গবেষণার বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। ১৯৬১ সালের Hague Apostille Convention বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ। বাংলাদেশের যোগদানে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে বারোটি দেশ — যার মধ্যে আছে Germany, Czech Republic, Estonia, Greece, Lithuania সহ আরও কয়েকটি — অর্থাৎ ওই দেশগুলোতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের এখনও পূর্ণ কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন লাগে। Georgia আপত্তিকারীদের তালিকায় নেই, তাই আপনার সনদে বাংলাদেশি apostille গ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা — যা পুরোনো সত্যায়নের শিকলের চেয়ে দ্রুত আর সাশ্রয়ী।
- বিশ্ববিদ্যালয়টি বেসরকারি কি না আর ২০২৭-এ নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী নিতে পারে কি না, নিশ্চিত করুন
- প্রোগ্রামটি সত্যিই ইংরেজি মাধ্যম কি না আর স্বীকৃতির আদেশে আছে কি না, দেখে নিন
- বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সনদে apostille করান
- তিন মাসের পরিষ্কার, ব্যাখ্যাযোগ্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরি করুন
- থাকার প্রমাণ জমা দেওয়ার আগেই জোগাড় করুন, পরে নয়
- পার্ট-টাইম আয় ধরে বাজেট করবেন না
- পৌঁছেই রেসিডেন্স পারমিটের আবেদনের পরিকল্পনা রাখুন
বাংলাদেশের এজেন্সির পাতাগুলো কোথায় ভুল করছে?
এই গাইড লেখার সময় আমরা বাংলাদেশি কনসালটেন্সিগুলোর চালু Georgia পাতাগুলো দেখেছি। ভুলগুলো এতটাই একরকম যে তালিকা করে দেওয়াই ভালো, কারণ প্রতিটিই আপনার টাকা খরচ করাতে পারে: এমন রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচার যেগুলো আর নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী নিতে পারবে না; পার্ট-টাইম কাজকে শিক্ষার্থীর স্বীকৃত অধিকার হিসেবে দেখানো; ১০,০০০ ডলার ন্যূনতম ব্যালান্সের কথা বলা, যা Georgia সরকারের কোথাও প্রকাশিত নেই; আর ঢাকার অনারারি কনসুলেট আবেদন প্রক্রিয়া করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া। আরেকটি ফাঁদ Georgia-র e-Visa। এটি স্বল্পমেয়াদি পর্যটন ও ব্যবসার ভিসা, পড়াশোনার পথ কখনোই নয় — আর Georgia-র নিজস্ব e-Visa দেশ-তালিকায় বাংলাদেশ আছে সবচেয়ে সীমাবদ্ধ শ্রেণিতে, অর্থাৎ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী এতে যোগ্য হন কেবল তখনই, যখন তাঁর হাতে বৈধ Schengen ভিসা, বৈধ OECD দেশের ভিসা, কিংবা Schengen বা OECD রেসিডেন্স পারমিট আছে। "Georgia-র e-visa বাংলাদেশিদের জন্য সহজ" — বহুল প্রচারিত এই কথাটি স্রেফ ভুল।
রওনা হওয়ার আগেই জেনে রাখা ভালো: Tbilisi-তে বাংলাদেশের কোনো মিশন নেই। Georgia-র দায়িত্বে আছে তুরস্কের Ankara-য় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। পাসপোর্ট হারালে বা কনস্যুলার সহায়তা লাগলে তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হবে, Georgia-র কোনো অফিসে নয়। শিক্ষার্থীরা সাধারণত এটা জানতে পারেন ঠিক সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তে।
২০২৭-এ Georgia কি তবু বিবেচনার যোগ্য?
সৎ মূল্যায়ন: হ্যাঁ, উপযুক্ত শিক্ষার্থীর জন্য। টিউশন কম, আবেদন অনলাইনে জমা পড়ে বলে New Delhi যেতে হয় না, ইংরেজি মাধ্যমের প্রোগ্রাম আছে, আর apostille-এর পথটাও খোলা। যেটা আর নেই, সেটা হলো বিজ্ঞাপনে এখনও বিক্রি হতে থাকা "সস্তা ডিগ্রি + পার্ট-টাইম চাকরি + রাষ্ট্রীয় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়" প্যাকেজটি। আপনার পরিবার যদি আপনার রোজগারের হিসাব না ধরে পড়াশোনার খরচ চালাতে পারে, আর আপনি যদি ঠিকভাবে স্বীকৃত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেছে নেন, তবে আমাদের গবেষণার তালিকায় Georgia এখনও তুলনামূলক সহজলভ্য গন্তব্যগুলোর একটি। আর আপনার পরিকল্পনা যদি টিকে থাকার জন্য কাজের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে ২০২৭-এ এই দেশ আপনার জন্য নয় — আর সেটা আমরা ডিপোজিট দেওয়ার পরে নয়, এখনই বলে দিতে চাই।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Estonia স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ · বাংলাদেশ থেকে Bulgaria স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭
ব্যবহৃত সরকারি উৎস: New Delhi-র Embassy of Georgia (বাংলাদেশের কাছে অনুমোদন) এবং Georgian e-Visa পোর্টাল (অর্থের প্রমাণ ও ফি)।
একটি কথা: এই গাইডটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা, Eduvisa এখন Georgia-র আবেদন প্রক্রিয়া করে — এমন ঘোষণা নয়। এখানকার তথ্য ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যাচাই করা, আর তা যেকোনো সময় বদলাতে পারে; পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দূতাবাস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
Georgia আপনার জন্য মানানসই কি না, বুঝতে পারছেন না?
প্রতিটি ফাইলই আলাদা — আপনার ফল, টাকার জোগান, পরিবারের অবস্থা আর সামনের পরিকল্পনা, সবকিছুই উত্তরটা বদলে দেয়। আমাদের কাছে এসে বসুন; আমরা আপনার কাগজপত্র খোলামেলাভাবে দেখে ঝুঁকিগুলো কোথায় বলে দেব, আর Georgia না অন্য কোনো দেশ আপনার জন্য বেশি মানানসই, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করব।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →