প্রায় ৩ লাখ মানুষের শহর Ljubljana। সবুজ এক নদীর পাশ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যান, পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকে পুরোনো এক দুর্গ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে শান্ত আর নিরাপদ রাজধানীগুলোর একটি এটি। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে দেশটি প্রায় অচেনাই রয়ে গেছে, কারণ এ নিয়ে যা কিছু লেখা আছে তার বেশিরভাগই বছরের পর বছর ধরে হালনাগাদ হয়নি।
২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে Slovenia স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে খোঁজখবর করলে সবার আগে একটা কথা জানা দরকার — বাংলাদেশে বসে Slovenia আপনার শিক্ষার্থী আবেদনের সিদ্ধান্ত নেয় না। নিতে পারে না। বাংলাদেশে Slovenia-র কোনো দূতাবাস নেই, আর যে ভিসা সেন্টারের কথা হয়তো আপনাকে বলা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের ভিসা দেখে। এই একটি তথ্যই আপনার সময়সূচি, বাজেট আর বিমানের টিকিট — তিনটিই বদলে দেয়। তাই শুরুটা এখান থেকেই।
বাংলাদেশে Slovenia-র দূতাবাস নেই। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করেন New Delhi-র Slovenian দূতাবাসে, যেটি বাংলাদেশের দায়িত্বে আছে এবং শুধু ই-মেইলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেয়। দূতাবাসে প্রথম পারমিটের আবেদন ফি ১০২ ইউরো, আর মাসে দেখাতে হয় প্রায় ৫০৭.৪৩ ইউরো। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি অনুষদভেদে বছরে ৩,৪০০ থেকে ১৪,৭০০ ইউরো পর্যন্ত।
শেনজেন ট্যুরিস্ট ভিসার সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
ডিগ্রির জন্য Slovenia আসলে আপনাকে কোনো ভিসাই দেয় না — দেয় অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিট, আর দেশে ঢোকার আগেই সেটি হাতে থাকতে হয়। Slovenia-র Foreigners Act তিন মাসের বেশি যেকোনো অবস্থানকে ভ্রমণ নয়, বসবাস হিসেবে দেখে। দুই সপ্তাহের ছুটিতে যে শেনজেন "C" স্টিকার পাওয়া যায়, সেটি দেশে পৌঁছে পড়াশোনার অনুমতিতে বদলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আরেকটি পার্থক্য আছে, যেটি বিশেষভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে খাটে — অথচ আমরা যত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পাতা পড়েছি, একটিতেও এর উল্লেখ নেই। Slovenia-র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেই লিখে রেখেছে, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় ঢুকতেও ভিসা লাগে — অর্থাৎ A ক্যাটাগরির এয়ারপোর্ট ট্রানজিট ভিসা। রেসিডেন্স পারমিট হাতে পাওয়ার আগে যদি আপনার রুট কোনো শেনজেন বিমানবন্দর হয়ে যায়, তবে শুধু ট্রানজিট লাউঞ্জে বসার জন্যও A ভিসা লাগতে পারে। টিকিট কাটার আগেই এটি মাথায় রাখুন, পরে নয়।
বাংলাদেশে Slovenia-র প্রতিনিধিত্ব করে ঢাকার Swedish দূতাবাস — তবে শুধু স্বল্পমেয়াদি শেনজেন (C) ভিসার জন্য। সেখানে কোনো শিক্ষার্থী ফাইলের সিদ্ধান্ত হয় না। কোনো এজেন্ট যদি বলেন আপনার Slovenia শিক্ষার্থী আবেদন ঢাকাতেই শেষ করা যাবে, তাঁকে জিজ্ঞেস করুন রেসিডেন্স পারমিটটা তাহলে কোন অফিস দেয়। উত্তর — New Delhi।
আবেদন তাহলে কোথায় করবেন?
আবেদন করতে হয় New Delhi-তে অবস্থিত Embassy of the Republic of Slovenia-তে, ঠিকানা Block C-36, Anand Niketan, 110021। এই দূতাবাসের এখতিয়ারে আছে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে ঢোকার সুযোগ নেই, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য VFS-এর কোনো পথও নেই — ভারতের VFS Global কেন্দ্রগুলো ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয় শুধু ই-মেইলে। [email protected] ঠিকানায় লিখতে হয় পাঁচটি তথ্য — নাম, পদবি, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর আর আপনি কোন সেবা চাইছেন। কনস্যুলার শাখা খোলা থাকে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বাড়তি সময়ও আছে।
দুটি ছোট বিষয়ে অনেকে হোঁচট খান। এক, কনস্যুলার ও ভিসা অফিস কাজ করে শুধু Slovene, English, Hindi আর Tamil ভাষায় — বাংলায় কোনো কাগজ থাকলে তার অনুবাদ আপনাকেই নিতে হবে। দুই, দূতাবাসে নগদ টাকার কোনো লেনদেন হয় না। ফি দিতে হয় UPI-তে (শুধু ভারতীয় রুপি) কিংবা ব্যাংক ট্রান্সফারে, ইউরো বা রুপিতে। খামভর্তি নগদ টাকা নিয়ে দিল্লি পৌঁছানো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ফিরে আসতে হবে।
আরেকটি পথ আছে, যেটি খরচে কম। Slovenia-র নিয়মে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন দেশটির ভেতরে Administrative Unit-এ জমা দেওয়া যায় — দূতাবাস নিজেই খোলাখুলি এই পথে উৎসাহ দেয় এবং বলে, পারমিটের আবেদন যেন Slovenia-তে থাকা অনুমোদিত কেউ সরাসরি Administrative Unit-এ জমা দেন। তবে এ পথ তাঁদের জন্যই খোলা যাঁরা আগে বৈধভাবে দেশটিতে ঢুকতে পারেন, আর ভিসা ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই সেটি পারেন না। তবু আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা সেখানে থাকা কোনো আত্মীয় যদি আপনার হয়ে কাজটি করতে পারেন, খরচের পার্থক্যটা সত্যিই বড়।
| খরচ | New Delhi | Slovenia-র ভেতরে |
|---|---|---|
| পারমিট আবেদন | ১০২.০০ € | ৫০.০০ € |
| প্রশাসনিক ফি | — | ৪.৫০ € |
| পারমিট কার্ড | ১৫.০০ € | ১৫.৪৭ € |
| ইউরোপের বাইরে পাঠানো | ১৩.০০ € | — |
| মোট | ≈ ১৩০ € | ≈ ৭০ € |
| যাতায়াত | দিল্লিতে সশরীরে | আগে থেকেই দেশটিতে থাকতে হবে |
১ ইউরো প্রায় ১৪২ টাকা ধরলে শুধু সরকারি ফি বাবদই দিল্লির পথে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১৮,৫০০ টাকা — এর সঙ্গে দিল্লির বিমান ভাড়া, ভারতীয় ভিসা আর সেখানে থাকার খরচ যোগ হবে।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি আসলে কত?
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য লেখা বেশিরভাগ গাইড ঠিক এখানেই ভুল করে, আর সত্যি উত্তরটা এখানেই সবচেয়ে কাজে লাগে। Slovenia-কে প্রায়ই "ফ্রি" বা "প্রায় ফ্রি" বলে বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এর কোনোটাই সত্যি নয় — তবু দেশটি সস্তা হতে পারে, আর সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনি কোন বিষয় পড়ছেন তার উপর।
University of Ljubljana টিউশন মওকুফ করে Slovene, EU/EEA ও Swiss নাগরিকদের, আর যে পাঁচটি দেশের সঙ্গে Slovenia-র দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আছে তাঁদের — Bosnia and Herzegovina, North Macedonia, Montenegro, Kosovo ও Serbia। বাংলাদেশ সেই তালিকায় নেই। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা প্রকাশিত নন-ইইউ হারেই ফি দেন।

আর সেই হার একটিমাত্র সংখ্যা নয়। প্রতিটি অনুষদ আলাদা করে ঠিক করে, প্রতি বছর PDF তালিকা আকারে প্রকাশ করে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ছবিটা এমন:
| বিষয় | স্তর | বছরে | আনুমানিক টাকা |
|---|---|---|---|
| ব্যবসা ও অর্থনীতি | স্নাতক | ৩,৪০০ € | ৪.৮ লাখ |
| সমাজবিজ্ঞান | স্নাতক | ৪,০০০ € | ৫.৭ লাখ |
| অর্থনীতি | স্নাতকোত্তর | ৪,৭০০ € | ৬.৭ লাখ |
| কম্পিউটার সায়েন্স | স্নাতক | ১১,০০০ € | ১৫.৬ লাখ |
| কম্পিউটার সায়েন্স | স্নাতকোত্তর | ১৪,৭০০ € | ২০.৯ লাখ |
আরেকবার দেখুন — একই প্রতিষ্ঠানে, একই বছরে, কম্পিউটার সায়েন্সের খরচ ব্যবসা শিক্ষার তিন গুণেরও বেশি। কোনো এজেন্ট যদি বলেন "Slovenia-তে টিউশন ৪ হাজার ইউরোর মতো", তিনি সস্তা প্রান্তের সংখ্যাটি বলছেন — এবং আশা করছেন আপনি নিজের বিষয়ের কথা জিজ্ঞেস করবেন না।
ওই ফি-তালিকাগুলোর ভাষার ঘরটা দেখলে একটা ধরন চোখে পড়ে — কম খরচের স্নাতক প্রোগ্রামগুলো বেশিরভাগই পড়ানো হয় Slovene ভাষায়। ইংরেজিতে পড়ার সুযোগ মূলত স্নাতকোত্তর আর গুটিকয়েক যৌথ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ Slovenia-র সবচেয়ে সস্তা ডিগ্রিটি প্রায়ই এমন ডিগ্রি, যে ক্লাসে আপনি বসতেই পারবেন না। কোনো সংখ্যার প্রেমে পড়ার আগে নিজের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামটির ভাষা সরকারি তালিকায় মিলিয়ে নিন।
বাংলাদেশ থেকে Slovenia স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কত টাকা দেখাতে হয়?
Slovenia থোক অঙ্কের বদলে মাসিক হিসাব চায়। University of Ljubljana-র প্রকাশিত হিসাবে ২০২৬ সালের জন্য অঙ্কটি মাসে ৫০৭.৪৩ ইউরো — টাকায় প্রায় ৭২ হাজার। বারো মাসের শিক্ষাবর্ষে সেটি দাঁড়ায় প্রায় ৬,০৮৯ ইউরো, অর্থাৎ ৮.৬৫ লাখ টাকার কাছাকাছি।
Slovenia-কে আলাদা করে দেয় এবং মধ্যবিত্ত বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সুবিধাজনক করে তোলে প্রমাণের ধরনটি। বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকের লিখিত ঘোষণাপত্র, যেখানে তাঁরা বলবেন শিক্ষাবর্ষজুড়ে মাসে অন্তত ওই পরিমাণ অর্থ দেবেন — সেটিই গ্রহণযোগ্য। একজন অভিভাবকের সইই যথেষ্ট। এর জন্য আলাদা নোটারি লাগে না, শুধু ইংরেজি বা Slovene ভাষায় লেখা হতে হবে। ব্যাংক ব্যালেন্স, বৃত্তি, সম্পত্তি থেকে আয় কিংবা বিদেশের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ — সবই বিকল্প প্রমাণ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
যেসব দেশে ব্লকড অ্যাকাউন্ট কিংবা ছয় মাসের পুরোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট বাধ্যতামূলক, তাদের পাশে রাখলে Slovenia-র আর্থিক শর্ত ইউরোপের সবচেয়ে হালকাগুলোর একটি। এটি সত্যিকারের সুবিধা, আর দেশটিকে বাদ দেওয়ার আগে এটুকু জানা দরকার।
কী কী কাগজপত্র লাগে?
মূল তালিকা ছোট, তবে দুটি বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য আলাদা করে ভাবতে হয়।
- সই করা আবেদন ফরম ও আলাদা স্বাক্ষর ফরম
- অবস্থানের মেয়াদ ছাড়িয়ে বৈধ পাসপোর্ট, সঙ্গে সত্যায়িত ফটোকপি
- বায়োমেট্রিক ছবি, ৩৫ × ৪৫ মিলিমিটার
- দূতাবাস বা Administrative Unit-এ দেওয়া দুটি আঙুলের ছাপ
- Slovenia-র প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির প্রমাণপত্র
- দেশটিতে বৈধ স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ
- তিন মাসের কম পুরোনো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, Slovene ভাষায় সরকারি অনুবাদসহ
- অর্থের প্রমাণ — অভিভাবকের ঘোষণাপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা বৃত্তিপত্র
University of Ljubljana-র নিজস্ব তালিকাতেই লেখা আছে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট Slovene ভাষায় অনুবাদ করতে হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল বা সত্যায়িত হতে হবে। বাংলাদেশের জন্য Apostille Convention কার্যকর হয়েছে ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে, আর বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে যেসব দেশ আপত্তি জানিয়েছে Slovenia তাদের মধ্যে নেই। অর্থাৎ এখানে এক ধাপের অ্যাপোস্টিল আপনার জন্য খোলা — Austria, Greece, France, Germany বা Lithuania-র মতো নয়, যেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এখনো পুরো কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের ঝক্কি পোহাতে হয়।
আরও দুটি বিষয় নীরবে আবেদন বাতিলের কারণ হয়। এক, পাসপোর্টের মেয়াদ প্রতি বছর যাচাই হয় — শিক্ষার্থী পারমিট সাধারণত পরের বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হয় বলে পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হয় মোটামুটি সেই পরের বছরের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত। দুই, ইউরোপীয় ইউনিয়নের Entry/Exit System চালু হওয়ার পর পাসপোর্টে সিল দেওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অথচ দেশে ঢোকার তারিখ পারমিটের জন্য এখনো জরুরি। ছবি ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর যে স্লিপটি পাবেন সেটি এবং বোর্ডিং পাস যত্ন করে রাখুন।
পড়ার পাশাপাশি কাজ করা যায়?
Slovenia-তে শিক্ষার্থীদের কাজের একটি সুগঠিত ব্যবস্থা আছে, নাম študentsko delo, চলে Student Services নামের এজেন্সির মাধ্যমে। আগে একটি রেফারেল ফরম নিতে হয়, যাকে বলে napotnica — কাজের আইনি ভিত্তি সেটিই। এজেন্সিতে নাম লেখাতে লাগে পরিচয়পত্র, Slovenia-র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সেখানকার ট্যাক্স নম্বর আর ভর্তির প্রমাণপত্র।
এবার যেটি আমরা বাড়িয়ে বলব না। সরকারি Study in Slovenia পোর্টাল বিদেশি শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার কথা বলেছে "আন্তর্জাতিক বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটিতে থাকা" শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে। ডিগ্রি করতে আসা নন-ইইউ শিক্ষার্থীর অবস্থান সেখানে স্পষ্ট নয়। প্রকাশিত লেখা থেকে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি, তাই আয়ের উপর ভরসা করার আগে নিজের অনুষদের আন্তর্জাতিক দপ্তর থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন।
Student Service-এর মাধ্যমে কাজ করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পেমেন্ট থেকে আয়করের অগ্রিম হিসেবে কাটা হয় ২২.৫%, সঙ্গে পেনশন ও প্রতিবন্ধী বিমার জন্য আরও ১৫.৫%। ওই ২২.৫% ফেরত পাওয়া যায় — তবে শুধু সেসব দেশের শিক্ষার্থীরাই পান যাদের সঙ্গে Slovenia-র দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি আছে। বাংলাদেশের প্রকাশিত প্রায় ৩৬টি দেশের তালিকায় Slovenia নেই, আবার Slovenia-র তালিকাতেও বাংলাদেশ নেই। দেখে মনে হয়, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ওই ২২.৫% ফেরত পাবেন না। খণ্ডকালীন আয় ধরে বাজেট করার আগে Slovenia-র Financial Administration থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে নিন।
ভরসা করার আগে যাচাই করুন: সরকারি পোর্টালে এখনো শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ৭.২১ ইউরো (গ্রস) লেখা আছে। অঙ্কটি পুরোনো নির্দেশনার, আর প্রায় নিশ্চিতভাবেই এর মধ্যে বেড়েছে। আমরা এটিকে বর্তমান মজুরি হিসেবে বলছি না। পৌঁছে Student Service এজেন্সির কাছ থেকে তখনকার হার জেনে নিন।
পাস করার পর কী হয়?
Slovenia ৯ মাস মেয়াদের একটি চাকরি খোঁজার রেসিডেন্স পারমিট দেয়। দেশটির প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা এর জন্য আবেদন করতে পারেন, যদি আবেদনের সময় তাঁদের রেসিডেন্স পারমিট বহাল থাকে এবং পড়াশোনা শেষ হওয়ার দুই বছরের মধ্যে হয়। এটি একবারই দেওয়া হয়, ৯ মাসের জন্য, মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ নেই।
যুক্তরাজ্যের Graduate Route কিংবা Spain-এর দুই বছরের সুযোগের তুলনায় ৯ মাস কম, আর এটি নিজে কোনো কাজের অনুমতি নয় — এ সময়ের মধ্যে এমন নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হয় যিনি পরে একক রেসিডেন্স ও ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা করবেন। অবশ্য Slovenia-র বিদেশি কর্মসংস্থান আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনীতে প্রথম একক পারমিটের মেয়াদ এক বছর থেকে বেড়ে দুই বছর হয়েছে এবং নবায়ন তিন বছর পর্যন্ত সম্ভব, তাই চাকরি পাওয়ার পরের পথটা সত্যিই সহজ হয়েছে। তবু ৯ মাস মানে কঠিন এক সময়সীমা — যাঁরা শেষ সেমিস্টার থেকেই চাকরি খোঁজা শুরু করেন, তাঁরা পাস করার পর শুরু করা শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক ভালো করেন।
সময় নিয়ে বাংলাদেশিরা কোথায় ভুল করেন?
তাঁরা ধরে নেন, সেপ্টেম্বরে ভর্তি হয়ে অক্টোবরেই ক্লাস শুরু করা যাবে। University of Ljubljana উল্টোটা বলে, আর বেশ স্পষ্ট করেই বলে — ভিসা লাগলে যাত্রার তিন থেকে ছয় মাস আগে আবেদন করা উচিত, আর যেহেতু ভর্তিই হয় সেপ্টেম্বরে, তাই অক্টোবরে পড়াশোনা শুরু করা সম্ভবত যাবে না। সেমিস্টার চলতে থাকবে, আর আপনি তখনো দূতাবাসের মাধ্যমে পারমিটের অপেক্ষায়।
বাস্তবে এর মানে, ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষ লক্ষ্য করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উচিত ২০২৭ সালের বসন্তে দিল্লির অ্যাপয়েন্টমেন্ট ধরে পেছন থেকে পরিকল্পনা সাজানো — আগস্টে দৌড়ঝাঁপ শুরু করা নয়। মনে রাখুন, পারমিটের মেয়াদ সাধারণত পরের বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আর নবায়নের আবেদন করতে হয় মেয়াদ শেষের আগেই — তারিখ পার হলে নবায়ন নয়, পুরো প্রথমবারের প্রক্রিয়া আবার নতুন করে শুরু করতে হয়।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি তা হলো, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেসব গন্তব্যে একটা ইনটেক হারান সেগুলো সাধারণত কঠিন দেশ নয়। বরং এমন দেশ, যেখানে একটিমাত্র প্রশাসনিক ধাপ অন্য একটি দেশে পড়ে থাকে আর কেউ সময়মতো সেটি ধরিয়ে দেয় না। Slovenia ঠিক সেই ধরনের গন্তব্য — শর্ত মাঝারি, টাকার চাপ কম, আর যে জিনিসটা শিক্ষার্থীর একটা বছর কেড়ে নেয় সেটি হলো দুই মাস দেরিতে নেওয়া দিল্লির অ্যাপয়েন্টমেন্ট।
তথ্য দ্রুত পুরোনো হয়, কিছু ইতিমধ্যেই হয়েছে। উপরের প্রতিটি অঙ্ক নেওয়া হয়েছে Slovenia সরকার বা University of Ljubljana-র ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হালনাগাদ থাকা পাতা থেকে। ফি, মাসিক অর্থের অঙ্ক আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম আগাম ঘোষণা ছাড়াই বদলায়। এখানকার কিছুর ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে New Delhi-র Slovenian দূতাবাস আর আপনার নির্বাচিত অনুষদ থেকে সরাসরি নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রতিযোগী তথ্য কতটা পুরোনো তার একটা নমুনা — ঢাকার সুপরিচিত এক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের Slovenia পাতায় এখনো Borut Pahor-কে প্রেসিডেন্ট আর Janez Janša-কে প্রধানমন্ত্রী লেখা আছে, আর বলা আছে তথ্যগুলো "৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত কার্যকর"।
এই লেখাটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা, Eduvisa এখন Slovenia-র আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে — এমন ঘোষণা নয়। আমরা যেসব দেশ নিয়ে কাজ করি তার তালিকা সেবার পাতায় আছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Austria স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ · বাংলাদেশ থেকে Croatia স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭
সরকারি সূত্র: Visa information, Embassy of Slovenia in New Delhi (gov.si) · Temporary residence permit for studies, University of Ljubljana
আপনার বিষয় আর বাজেটে Slovenia আদৌ মানায় তো?
আসল প্রশ্নটা এটিই, আর কোনো ব্লগ লেখা আপনার হয়ে এর উত্তর দিতে পারে না। Slovenia আপনার জন্য কাজ করবে কি না তা নির্ভর করে আপনার নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের উপর, সেটি ইংরেজিতে পড়ানো হয় কি না, আপনার পরিবার কী কী কাগজে দেখাতে পারে আর দিল্লির অ্যাপয়েন্টমেন্টের সঙ্গে আপনার সময়সূচি মেলে কি না তার উপর। একবার আমাদের সঙ্গে বসুন, কাগজগুলো ভালো করে দেখে দিই — কোনো ফি নেই, চাপ নেই, আর উত্তরটা "অন্য কোথাও দেখুন" হলেও সেটাই সোজাসুজি বলব।
ফ্রি পরামর্শের জন্য বুক করুন →