মঙ্গলবার সকালে Heathrow-এ নামলেন। হাতে দুটো সুটকেস, ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক নেই, আর পকেটে বাংলাদেশি ডেবিট কার্ড — যা দিয়ে প্রতিবার কিছু কিনলেই বাড়তি চার্জ কাটবে। শুক্রবার নাগাদ accommodation অফিস ডিপোজিটের জন্য একটা UK অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইছে, পার্ট-টাইম কাজের আবেদনে sort code লাগছে, আর দেশে পরিবার জানতে চাইছে — টাকা পাঠাবে কীভাবে, যাতে অর্ধেকটা চার্জেই না চলে যায়। ভিসা হয়ে গেলেই কাগজপত্রের ঝামেলা শেষ হয়ে যায় না, এ কথাটা কেউ আগে বলে দেয়নি।
২০২৭ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে UK-তে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে তিনটি জিনিস লাগবে: পরিচয়ের প্রমাণ (আপনার পাসপোর্ট), ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ (UKVI অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আপনার eVisa), আর UK-র ঠিকানার প্রমাণ — সই করা tenancy agreement বা বিশ্ববিদ্যালয়ের accommodation চিঠি। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যেই basic বা international student অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে UK-তে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কীভাবে খুলবেন?
আপনি কে, UK-তে থাকার অনুমতি আপনার আছে কি না, আর UK-তে কোথায় থাকেন — এই তিনটির প্রমাণ লাগবে। প্রথম দুটি নিয়েই আপনি প্লেনে উঠছেন। আসল দেরিটা হয় তৃতীয়টিতে। যাঁরা প্রথম সপ্তাহেই থাকার কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেন, তাঁদের অ্যাকাউন্ট দ্বিতীয় সপ্তাহে হয়ে যায়; আর যাঁরা অস্থায়ী হোস্টেলে থাকেন, তাঁরা ষষ্ঠ সপ্তাহেও অপেক্ষা করছেন।
UK-র ব্যাংকগুলো ইচ্ছে করে কড়াকড়ি করছে না। Home Office-এর নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নতুন current account আবেদনকারীর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ব্যাংক ও building society-কে যাচাই করতেই হয়, এবং যাঁর UK-তে থাকার অনুমতি দরকার কিন্তু নেই, তাঁর নামে current account খোলা তাদের জন্য নিষিদ্ধ। বিদ্যমান গ্রাহকদের স্ট্যাটাসও তাদের পরীক্ষা করতে হয় — কারও অনুমতি শেষ হয়ে গেছে মনে হলে Home Office-কে জানাতে হয়, আর তারপর Home Office অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে বা আদালতে গিয়ে টাকা freeze করাতে পারে। ভদ্রভাবে "আরেকটা কাগজ লাগবে" বলার পেছনে এই আইনি যন্ত্রটাই কাজ করছে।
দেশ ছাড়ার আগেই UKVI অ্যাকাউন্ট চালু করুন
আপনার ইমিগ্রেশন অনুমতি এখন পুরোপুরি ডিজিটাল। UKVI অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারলে ব্যাংক, বাড়িওয়ালা বা চাকরিদাতা — কাউকেই কিছু দেখাতে পারবেন না।
একটা বাস্তব UK ঠিকানা নিশ্চিত করুন
দুই পক্ষের সই করা tenancy agreement, নয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের accommodation অফিসের চিঠি যেখানে আপনার নাম ও ঠিকানা আছে। হোটেল নয়, বন্ধুর সোফাও নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ব্যাংক-চিঠি চান
বেশিরভাগ international office student status letter বা ব্যাংকের নামে আলাদা চিঠি দেয়। প্রথম সপ্তাহেই আবেদন করুন — কোনো অফিসে কয়েক দিন লেগে যায়।
অ্যাকাউন্টের ধরন মিলিয়ে দেখে appointment নিন
কিছু ব্যাংকে অনলাইনে শুরু করে শাখায় শেষ করা যায়, কিছু ব্যাংকে নতুন বিদেশি গ্রাহকের জন্য শুধু শাখা। freshers-এর সময় স্লট দ্রুত শেষ হয়, তাই আগেই বুক করুন।
ফটোকপি নয়, মূল কাগজ নিয়ে যান
পাসপোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি, বাসার কাগজ, আর UKVI অ্যাকাউন্টে লগ-ইনের ফোন নম্বর বা ইমেইলে অ্যাকসেস।
২০২৭ সালে UK-র ব্যাংক আসলে কোন কাগজ চায়?
প্রতিটি ব্যাংকের নিজের তালিকা আছে, আর তালিকাগুলো সত্যিই আলাদা — তাই "আমার কাজিনের ব্যাংক তো এটা নিয়েছে" কথাটা কোনো পরামর্শ নয়। সব ব্যাংকে যা এক, সেটা গঠনটা: পরিচয়ের একটা কাগজ, স্ট্যাটাসের একটা কাগজ, ঠিকানার একটা কাগজ।
- বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা vignette পাতা থাকলে সেটিসহ
- UKVI অ্যাকাউন্টে অ্যাকসেস — লগ-ইনের তথ্য এবং কোড আসে যে ফোন বা ইমেইলে
- সই করা tenancy agreement বা accommodation নিশ্চিতকরণ চিঠি, যেখানে আপনার নাম ও UK ঠিকানা আছে
- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাডে student status letter বা letter of introduction
- আপনার CAS নম্বর এবং কোর্স শুরু-শেষের তারিখ, ব্যাংক চাইলে দেখানোর জন্য
- সচল একটি UK মোবাইল নম্বর — SIM কিনুন ব্যাংকের appointment-এর আগে, পরে নয়
ব্যাংকগুলোকে anti-money-laundering আইন মানতে হয়, ফলে আপনি যে সত্যিই আপনি — তার স্বাধীন নিশ্চয়তা তারা চাইতে পারে। UK-র ব্যাংক compliance কর্মীরা যে সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলেন, সেই Joint Money Laundering Steering Group ঠিক এ পরিস্থিতির জন্য একটি letter of introduction-এর নমুনা প্রকাশ করে রেখেছে, আর আপনার বিশ্ববিদ্যালয় সেটি দিতে রাজি হতে পারে। ব্যাংক আপনার ফাইল নিয়ে দ্বিধায় থাকলে অন্য ব্যাংকে দৌড়ানোর চেয়ে international office-এ গিয়ে এই নির্দিষ্ট চিঠিটা চাওয়া অনেক সময় দ্রুত কাজ দেয়।
eVisa share code কী, আর ব্যাংকের কি সেটা দরকার?
Share code হলো UKVI অ্যাকাউন্ট থেকে তৈরি একটি সাময়িক কোড, যা দিয়ে অন্য কেউ অনলাইনে আপনার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের সীমিত একটা রূপ দেখতে পারে। GOV.UK স্পষ্ট করেই বলেছে এটা কাদের জন্য — "চাকরিদাতা বা বাড়িওয়ালার মতো মানুষ, কিংবা ভ্রমণের সময়"। একটি কোড ৯০ দিন কাজ করে, ওই সময়ের মধ্যে যতবার দরকার ব্যবহার করা যায়, আর প্রয়োজনে নতুন কোড নেওয়া যায়। যাকে কোড দিচ্ছেন, তার আপনার জন্মতারিখও লাগবে।
এখানেই সূক্ষ্ম জায়গাটা, যেটা বেশিরভাগ study-abroad ব্লগ ভুল লেখে। GOV.UK যাদের জন্য এই সেবাটি বানিয়েছে বলে জানায়, সেই তালিকায় ব্যাংক নেই — এবং right to work ও right to rent প্রমাণের জন্য আলাদা সেবা আছে। ব্যাংক নিজের চ্যানেলে Home Office-এর কাছে স্ট্যাটাস যাচাই করে। বাস্তবে UK-র অনেক ব্যাংকই বিদেশি শিক্ষার্থীর কাছে share code চায় বা স্ক্রিনে eVisa দেখতে চায় — কিন্তু কিছু ব্যাংক অন্য কিছু চায়। তাই appointment-এর আগেই আপনার ব্যাংককে জিজ্ঞেস করে নিন তারা স্ট্যাটাসের কোন প্রমাণ নেয়, share code-ই যথেষ্ট ধরে নিয়ে বসে থাকবেন না।
কোড তৈরি করতে UKVI অ্যাকাউন্টে ঢুকতে হয় পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ biometric residence card, মেয়াদোত্তীর্ণ biometric residence permit কিংবা UKVI customer number দিয়ে — আর ওই অ্যাকাউন্টে নিবন্ধিত ফোন নম্বর বা ইমেইলে অ্যাকসেস থাকতে হয়। এখানে এসে যাঁরা বাংলাদেশি SIM বদলে ফেলে ওই নম্বরের অ্যাকসেস হারান, তাঁরা নিজের জন্য বড় ঝামেলা তৈরি করেন। পুরোনো নম্বর বন্ধ করার আগেই UKVI অ্যাকাউন্টে যোগাযোগের তথ্য বদলে নিন।
UK ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কী চলে, কী চলে না?
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর প্রথম ব্যাংক appointment ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ এটাই। ব্যাংক সাধারণত নেয় — আপনি ও বাড়িওয়ালা দুজনের সই করা tenancy agreement, আপনার নামে utility bill, Council Tax-এর চিঠি, বা বিশ্ববিদ্যালয়ের accommodation অফিসের চিঠি। আর সাধারণত নেয় না — হোটেল বুকিং, হোস্টেলের রসিদ, Airbnb-র কনফার্মেশন, কাগজবিহীন বন্ধুর ঠিকানা, কিংবা placeholder হিসেবে বসানো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের ডাক ঠিকানা।
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি, তা প্রায় ছকে বাঁধা: September intake-এ থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে যাওয়া শিক্ষার্থী তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহ অস্থায়ী বাসায় কাটান, অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন না, পার্ট-টাইম কাজের বেতন তুলতে পারেন না, আর ঠিক যে সময়ে ডিপোজিট দিতে হচ্ছে তখনই সঙ্গে আনা নগদ শেষ হতে থাকে। যাঁরা এটা এড়াতে পারেন তাঁরা বেশি ভাগ্যবান নন — তাঁরা শুধু প্লেনে ওঠার আগেই লিখিতভাবে বাসা নিশ্চিত করে নিয়েছিলেন।
| অ্যাকাউন্টের ধরন | Overdraft | মাসিক ফি | ২য় সপ্তাহে সম্ভব? |
|---|---|---|---|
| Basic bank account | না | সাধারণত নেই | হ্যাঁ |
| International student account | কখনো সীমিত | সাধারণত নেই | হ্যাঁ |
| Standard current account | অনুমোদন পেলে | ব্যাংকভেদে আলাদা | স্ট্যাটাস যাচাইয়ের ওপর |
| App-only digital account | সাধারণত না | প্রায়ই নেই | দ্রুত, তবে কারা নেয় দেখুন |
| Sharia-compliant account | সুদ নেই কোনো দিকেই | ভিন্ন | হ্যাঁ, নির্দিষ্ট ব্যাংকে |
সুদ নেওয়া বা দেওয়া নিয়ে আপনার আপত্তি থাকলে অ্যাকাউন্ট খোলার পরে নয়, appointment-এই বলুন। UK-র বেশ কয়েকটি high-street ব্যাংক শরিয়াহ নীতি অনুসারী অ্যাকাউন্ট ও সেবা দেয়, আর গুটিকয় বিশেষায়িত ব্যাংক পুরোপুরি সেই ভিত্তিতেই চলে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ এ প্রশ্নটা নিয়ে ভাবেন, অথচ সাধারণ student guide-গুলোতে এর উল্লেখই থাকে না।
বাংলাদেশ থেকে UK-তে বৈধভাবে টাকা পাঠাবেন কীভাবে?
এই অংশে আপনার UK-র বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সাহায্য করতে পারে না, আর এখানেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুল পরামর্শের মুখে পড়েন। শিক্ষার টাকা দেশের বাইরে পাঠানো হয় authorised dealer ব্যাংকে খোলা Student File-এর মাধ্যমে — টাকাকে বিদেশের টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচে রূপান্তরের নিয়ন্ত্রিত পথ এটাই। offer letter হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি খুলুন, দেশ ছাড়ার পরে নয়।
উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের একটি বড় ব্যাংকের প্রকাশিত শর্ত ধরা যাক (৩০ জুলাই ২০২৬-এ যাচাই করা — প্রতিটি ব্যাংকের ফি ও শর্ত আলাদা, তাই নিজের ব্যাংকে মিলিয়ে নিন):
- এক সময়ে একটিই Student File রাখা যায়, একটি কোর্সের জন্য। বর্তমান ব্যাংকের ছাড়পত্র নিয়ে অন্য ব্যাংকে সরানো যায়, তবে দুটি একসঙ্গে চালানো যায় না।
- খোলার তারিখ থেকে প্রতি বছর নবায়ন করতে হয় — সেজন্য লাগে চলতি enrolment certificate, transcript বা progress report, আর ওই বছরের ফি-র estimate বা invoice।
- এর মাধ্যমে পাঠানো টাকা যেতে পারে শুধু প্রতিষ্ঠানে, নয়তো বিদেশে আপনার নিজের অ্যাকাউন্টে জীবনযাত্রার খরচ হিসেবে। বন্ধুর অ্যাকাউন্টে নয়, আত্মীয়ের নয়, এজেন্টের নয়।
- খুলতে সাধারণত লাগে প্রতিষ্ঠানের admission letter, তাদের refund policy, শিক্ষাগত সনদ, sponsor-এর তথ্য, NID, মূল পাসপোর্ট, ভিসার কপি আর ছবি।
- ওই ব্যাংকের প্রকাশিত চার্জ: বার্ষিক ফাইল ফি ৫,০০০ টাকা এবং ৭৫০ টাকা VAT, প্রতিবার পাঠানোর জন্য ৫০০ টাকা ও VAT, আর এক লাখ পর্যন্ত পাঠালে ১১৫ টাকা থেকে শুরু করে দশ লাখের বেশি হলে ৫৭৫ টাকা পর্যন্ত স্তরভিত্তিক outward transfer চার্জ।
ক্রেডিট কার্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি নিয়মে অনিবাসীর নামে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা যায় না — বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীও এর মধ্যে পড়েন। ব্যাংকগুলো যে পথ বলে, সেটি হলো sponsor-এর অ্যাকাউন্টে একটি supplementary card, যা বার্ষিক travel quota-র বিপরীতে লোড করা হয়। নিজের নামের ক্রেডিট কার্ড ধরে প্রথম মাসের পরিকল্পনা সাজাবেন না।
আপনার টাকার অ্যাকাউন্ট। অনিবাসী হয়ে গেলে টাকা অ্যাকাউন্টে বিধিনিষেধ আসে। ব্যাংকগুলো সাধারণত পরামর্শ দেয়, দেশে থাকা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে Student File ট্যাগ করে রাখুন, যাতে আপনি বাইরে থাকলেও লেনদেন চলতে থাকে।
প্রথম সপ্তাহে কোন UK SIM নেবেন?
প্রথম দিনেই একটা pay-as-you-go SIM বা eSIM নিন, অন্য কিছু করার আগে। UK-তে মাসিক contract নিতে সাধারণত একটা UK ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর UK credit history লাগে — নেমেই আপনার দুটোই নেই, তাই বিজ্ঞাপনে দেখা সস্তা প্যাকেজগুলো প্রথম কয়েক মাস আপনার জন্য নয়। pay-as-you-go আর PAYG eSIM-এ credit check লাগে না, তাই শুরুটা ওখান থেকেই বাস্তবসম্মত।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি চলে giffgaff (O2 নেটওয়ার্কে), আর Lycamobile ও Lebara — শেষ দুটির জনপ্রিয়তার কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় কম খরচে কল করা যায়। শুরুর PAYG বান্ডিলের দাম সাধারণত মাসে ২.৫০ থেকে ৪ পাউন্ডের আশপাশে বিজ্ঞাপিত হয়, কয়েক গিগাবাইট ডেটা আর UK মিনিট-টেক্সটসহ — এগুলোকে নির্দিষ্ট রেট নয়, বরং প্রতিনিয়ত বদলানো বিজ্ঞাপনী দাম হিসেবে দেখুন। হ্যান্ডসেটে সাপোর্ট থাকলে eSIM ভেবে দেখতে পারেন, কারণ নামার আগেই সেটি চালু করে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই যোগাযোগে থাকা যায়।
এখানে ব্র্যান্ডের চেয়ে ক্রমটা জরুরি: আগে SIM, তারপর ঠিকানার কাগজ, তারপর ব্যাংক। UK মোবাইল নম্বর ব্যাংক, GP surgery, বাড়িওয়ালা, চাকরিদাতা — সবাই চায়, আর তালিকার এই একটা কাজই আপনি নামার এক ঘণ্টার মধ্যে সেরে ফেলতে পারেন।
GP-তে নিবন্ধন কীভাবে করবেন, আর আসল খরচ কত?
এবার সেই তথ্যটা, যা আপনি পড়া প্রায় সব study-abroad চেকলিস্টের — এমনকি কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখা নির্দেশনার — উল্টো। NHS-এর ভাষায়, England-এ GP surgery-তে নিবন্ধনের জন্য "আপনার ID, ঠিকানার প্রমাণ বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ কোনোটিই লাগবে না"। আপনি শুধু নাম, জন্মতারিখ আর ঠিকানা দেবেন। স্থায়ী ঠিকানা এখনো না থাকলে অস্থায়ী ঠিকানা, এমনকি surgery-র নিজের ঠিকানা দিয়েও নিবন্ধন করা যায়। England-এ সবার জন্য এটি বিনামূল্যে, বেশিরভাগ surgery-তে অনলাইনে পনেরো মিনিটেই হয়ে যায়, আর সাধারণত পাঁচ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।
তাই ডাক্তার দেখানোর জন্য tenancy agreement-এর অপেক্ষা করবেন না। কোনো surgery নিবন্ধন নিতে অস্বীকার করলে ১৪ দিনের মধ্যে তাদের লিখিতভাবে কারণ জানাতে হয়, আর আপনি স্থানীয় Integrated Care Board-এ যেতে পারেন। তিন মাস পর্যন্ত temporary patient হিসেবেও নিবন্ধন করা যায়।
এর বড় অংশের টাকা আপনি আগেই দিয়ে ফেলেছেন। শিক্ষার্থীরা ভিসার প্রতি বছরের জন্য Immigration Health Surcharge দেন £৭৭৬ — প্রতি পাউন্ড ১৬৪.৬০ টাকা ধরে প্রায় ১,২৭,৭০০ টাকা (৩০ জুলাই ২০২৬-এর হার, যা প্রতিদিন বদলায়)। হিসাবটা অনেককে অবাক করে: ১৮ মাস বা তার কম ভিসার জন্য এক বছর আর তার অর্ধেক দিতে হয়, আর ১৮ মাসের বেশি কিন্তু দুই বছরের কম হলে পুরো দুই বছরের টাকা দিতে হয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী dependant-দেরও সাধারণত সমান টাকা দিতে হয়।
Surcharge দিয়ে NHS-এর বেশিরভাগ চিকিৎসা মেলে, সবটা নয়। England-এ প্রেসক্রিপশনের প্রতিটি আইটেমে টাকা লাগে — ২০২৬–২৭ সালের জন্য নানা সূত্রে £৯.৯০ বলা হচ্ছে, প্রায় ১,৬৩০ টাকা — অন্যদিকে Scotland, Wales ও Northern Ireland-এ প্রেসক্রিপশন বিনামূল্যে। সাধারণ দাঁতের ও চোখের চিকিৎসাতেও খরচ আছে। নিয়মিত ওষুধ লাগলে ফার্মেসিতে prescription prepayment certificate-এর কথা জিজ্ঞেস করুন, যা নির্দিষ্ট সময়ের খরচ বেঁধে দেয়।
UK-তে শিক্ষার্থীদের কি সত্যিই Council Tax দিতে হয় না?
যে বাসার সবাই full-time শিক্ষার্থী, সেখানে Council Tax দিতে হয় না; আর বিল এলে ছাড়ের জন্য আবেদন করা যায়। GOV.UK বলছে, full-time শিক্ষার্থী গণ্য হতে কোর্সটি অন্তত এক বছরের হতে হবে এবং সপ্তাহে অন্তত ২১ ঘণ্টা পড়াশোনা থাকতে হবে। A-level পর্যন্ত পড়া ২০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে মাপকাঠি তিন মাস আর সপ্তাহে ১২ ঘণ্টা।
ফাঁদটা লুকিয়ে আছে "সবাই" শব্দে। বাসার একজনও full-time শিক্ষার্থী না হলে — চাকরি করা স্বামী বা স্ত্রী, জুনে পাস করে যাওয়া ফ্ল্যাটমেট, পার্ট-টাইম কোর্স করা কোনো কাজিন — পুরো বাসায় বিল আসবে, যদিও ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। যাঁরা dependant নিয়ে যান তাঁরাই সবচেয়ে বেশি এতে আটকান, আর যে বছরটাকে ছাড়ের বছর ভেবেছিলেন সেটির Council Tax বিল মার্চ মাসে হাতে আসা সত্যিই কষ্টের।
| কখন | কাজ | কীসের ওপর নির্ভর করে |
|---|---|---|
| ১ম দিন | PAYG SIM কেনা বা eSIM চালু করা | কিছুরই নয় — আগে এটাই |
| ১–৩ দিন | ঠিকানা লিখিতভাবে নিশ্চিত করা | বাড়িওয়ালা বা accommodation অফিস |
| ১ম সপ্তাহ | GP surgery-তে নিবন্ধন | কিছুরই নয় — ID লাগে না |
| ১ম সপ্তাহ | বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাংক-চিঠি চাওয়া | international office-এর সময় |
| ১–২ সপ্তাহ | eVisa দেখা, share code তৈরি | UKVI অ্যাকাউন্টে অ্যাকসেস |
| ২য় সপ্তাহ | ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা | UK ঠিকানার প্রমাণ |
| ২–৩ সপ্তাহ | Council Tax ছাড়ের আবেদন | বিশ্ববিদ্যালয়ের student certificate |
| ২–৪ সপ্তাহ | National Insurance নম্বরের আবেদন | কাজ করলে তবেই |
| ৩–৪ সপ্তাহ | Student File-এ টাকা পাঠানো শুরু | দেশে আগে ফাইল খোলা |
প্রথম মাসে কী কী ভুল হয়, আর এড়াবেন কীভাবে?
তিনটি ভুল বারবার ঘটে, আর তিনটিই এড়ানো সম্ভব।
ঠিকানার শূন্যতা। বাসা নিশ্চিত না থাকলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হয় না, ফলে বেতন তোলা যায় না, টাকা রাখার নিরাপদ জায়গাও থাকে না। প্লেনে ওঠার আগেই বাসাটা ঠিক করে ফেলুন।
ঘুমিয়ে পড়া অ্যাকাউন্ট। UKCISA স্পষ্ট করেই সতর্ক করে — গরমের ছুটির মতো লম্বা সময়ের জন্য UK ছাড়লে ব্যাংককে জানিয়ে রাখুন, নইলে অ্যাকাউন্টটি dormant ধরে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। সেপ্টেম্বরে ফিরে অনেকে দেখেন অ্যাকাউন্ট আটকে আছে আর standing order ফেরত গেছে। জুন মাসে একটা ইমেইল করলেই এটা ঠেকানো যায়।
টাকার ভুল গন্তব্য। নিজের অ্যাকাউন্টের বদলে বন্ধুর বা এজেন্টের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো Student File-এর নিয়মের বাইরে, আর এ ধরনের অনিয়ম পরে সহজে ঠিক করা যায় না। প্রথম লেনদেন থেকেই কাগজের হিসাব পরিষ্কার রাখুন।
বেশিরভাগ কনসালটেন্সি ভিসা হয়ে গেলেই আপনার ফাইল বন্ধ করে দেয়। আমরা করি না, কারণ নামার পরের প্রথম ত্রিশ দিনেই শিক্ষার্থীরা আসলে টাকা হারান। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের এমন থাকার কাগজপত্র গোছাতে সাহায্য করি যা ব্যাংক নেয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকারি চিঠিগুলো তৈরি করে দিই, দেশ ছাড়ার আগেই Student File খুলিয়ে রাখি যাতে নামার পরই টাকা পাঠানো শুরু করা যায়, আর ব্যাংক না বললে এবং কেউ কারণ ব্যাখ্যা করতে না পারলে আমরা ফোনের নাগালেই থাকি।
কাজ করার আগে যাচাই করুন। ব্যাংকের কাগজের শর্ত প্রতিটি ব্যাংক নিজে ঠিক করে এবং আগে না জানিয়েই বদলায় — যে শাখায় যাবেন, সেখানেই মিলিয়ে নিন। ওপরের Immigration Health Surcharge-এর পরিমাণ, Council Tax-এর নিয়ম, eVisa share code-এর শর্ত ও GP নিবন্ধনের নিয়ম ৩০ জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত GOV.UK ও NHS পাতা থেকে নেওয়া। £৯.৯০ প্রেসক্রিপশন চার্জ, মোবাইল নেটওয়ার্কের দাম আর বাংলাদেশি ব্যাংকের Student File ফি secondary বা একটি ব্যাংকের সূত্র থেকে — এগুলোর ওপর ভরসা করার আগে আবার যাচাই করুন। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা টাকার সঙ্গে জড়িত যেকোনো বিষয় ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কাছে সরাসরি যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
আরও পড়ুন: UK-তে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার খরচ এবং UK student visa-তে পার্ট-টাইম কাজের নিয়ম। এখানে ব্যবহৃত সরকারি সূত্র: GOV.UK — eVisa ও share code এবং NHS — GP surgery-তে নিবন্ধন।
২০২৭ সালে UK-তে যাচ্ছেন?
আপনার offer letter আর থাকার সম্ভাব্য জায়গাগুলো নিয়ে আসুন — আমরা প্রথম ত্রিশ দিনের পুরো ছকটা ঠিকভাবে সাজিয়ে দেব: ব্যাংকের কাগজ, Student File-এর সময়, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কী কী নিতে হবে। আজকের একটা আলাপ পরে এক মাসের অপেক্ষা বাঁচিয়ে দেয়।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →


