প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেউ না কেউ আমাদের অফিসে আসেন Chevening-এর আবেদন ফরমের প্রিন্ট হাতে নিয়ে — জিজ্ঞেস করেন, এখনো কি সময় আছে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাকে না। ২০২৭-২৮ সেশনের আবেদন এক মঙ্গলবার সকাল ১১টা UTC-তে বন্ধ হয়ে গেছে, আর কোনো আন্তরিকতাই সেই দরজা আবার খোলে না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কতজন scholarship পাবেন, সেটা যত না নির্ভর করে essay-র ওপর, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে ওই একটা তারিখের ওপর।
২০২৭ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য UK scholarship-এর তিনটি বড় পথ খোলা আছে: Chevening (পুরো খরচসহ এক বছরের স্নাতকোত্তর, আবেদন শেষ ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ UTC), GREAT Scholarships (টিউশন ফি থেকে সর্বনিম্ন £১০,০০০ ছাড়, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজের তারিখ ঠিক করে) এবং Commonwealth Scholarship (পুরো টিউশন, বিমান ভাড়া ও মাসে £১,৩৭৮)। তিনটিই স্নাতকোত্তর পর্যায়ের, স্নাতকের জন্য নয়।
২০২৭ সালে একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আসলে কোন কোন UK scholarship পেতে পারেন?
যুক্তরাজ্য সরকারের তিনটি বড় scholarship-এর সবগুলোতেই বাংলাদেশ যোগ্য দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত, আর এটা সত্যিই কম দেশের ভাগ্যে জোটে। তবে একটা শর্ত সবগুলোর ক্ষেত্রেই এক — এগুলো স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অর্থায়ন। আপনি যদি HSC শেষ করে পুরো খরচের UK undergraduate scholarship খুঁজে থাকেন, তাহলে এই তিনটির কোনোটিই আপনার জন্য নয়। কেউ যদি উল্টোটা বলে, বুঝবেন তিনি কিছু একটা বিক্রি করছেন।
প্রথমটি Chevening, যার অর্থায়ন করে যুক্তরাজ্যের Foreign, Commonwealth & Development Office। দ্বিতীয়টি GREAT Scholarships, যেখানে যুক্তরাজ্য সরকারের GREAT Britain Campaign, British Council এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় মিলে টাকা দেয়। তৃতীয়টি Commonwealth Scholarship, পরিচালনা করে যুক্তরাজ্যের Commonwealth Scholarship Commission। তিনটির মালিক আলাদা, শেষ তারিখ আলাদা, আর কাকে টাকাটা দেওয়া উচিত — সেই সংজ্ঞাটাও পুরোপুরি আলাদা।
Chevening খোঁজে ভবিষ্যতের নেতা, যার কাজের রেকর্ড আছে — এটা মূলত leadership award, ডিগ্রির খরচটা সেখানে বাড়তি পাওনা। GREAT খোঁজে নির্দিষ্ট একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহী স্নাতকোত্তর প্রার্থী, আর মূল্যায়নটাও করে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ই। Commonwealth খোঁজে এমন কাউকে, যার পড়াশোনা বাংলাদেশের উন্নয়নে স্পষ্টভাবে কাজে লাগবে এবং যিনি নিজের টাকায় যুক্তরাজ্যে পড়তে পারতেন না।
Chevening ২০২৭-২৮ কবে বন্ধ হচ্ছে, আর তারপর কী হয়?
২০২৭-২৮ সেশনের Chevening আবেদন শুরু হয়েছে ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে, আর শেষ হবে ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ UTC-তে। Chevening নিজেদের timeline পাতায় পরিষ্কার লিখে রেখেছে, ওই সময়ের পর online application system-এ আর ঢোকা যাবে না। বাংলাদেশ সময় UTC-র চেয়ে ছয় ঘণ্টা এগিয়ে, তাই ঢাকায় ধরে নিন বিকেলের দিকেই দরজা বন্ধ — রাত ১২টা নয়। আর শেষ দিনের ভিড় এড়াতে কয়েক দিন আগেই জমা দিয়ে দিন।
এরপর শুরু হয় লম্বা, নিঃশব্দ একটা বছর:
- অক্টোবর ২০২৬ থেকে — যোগ্যতার শর্ত ধরে আবেদন যাচাই হয়। অযোগ্য আবেদন এখানেই বাদ পড়ে, আপনার essay কেউ পড়ার আগেই।
- অক্টোবর ২০২৬-এর মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি ২০২৭ — স্বাধীন reading committee প্রতিটি যোগ্য আবেদন মূল্যায়ন করে।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মাঝামাঝি — British embassy ও high commission ইন্টারভিউয়ের shortlist তৈরি করে।
- মার্চ থেকে এপ্রিল ২০২৭ — British embassy ও high commission-এ ইন্টারভিউ হয়। ইন্টারভিউয়ের অন্তত সাত কার্যদিবস আগে সব কাগজ system-এ আপলোড করতে হবে।
- জুন ২০২৭-এর মাঝামাঝি — ফল ঘোষণা।
- ৮ জুলাই ২০২৭, বিকেল ৫টা BST — অন্তত একটি unconditional offer জমা দেওয়ার শেষ সময়।
- সেপ্টেম্বর/অক্টোবর ২০২৭ — যুক্তরাজ্যে ক্লাস শুরু।
৮ জুলাই ২০২৭-এর ওই offer জমা দেওয়ার ধাপটাই চুপচাপ অনেক নির্বাচিত প্রার্থীকে ছিটকে দেয়। Unconditional offer মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শর্ত — আপনার English test-সহ — আগেই পূরণ হয়ে গেছে। জুলাই থেকে পেছনের দিকে হিসাব করলে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন আর IELTS দুটোই ফল আসার অনেক আগে শেষ করে রাখতে হবে।
আপনি কি সত্যিই Chevening-এর যোগ্য?
Chevening তাদের শর্ত খুব নির্দিষ্ট করে লিখে রেখেছে, আর বাতিলের প্রক্রিয়াটাও প্রায় যান্ত্রিক। আপনাকে যোগ্য দেশের নাগরিক হতে হবে, scholarship শেষে অন্তত দুই বছর বাংলাদেশে ফিরে আসার অঙ্গীকার করতে হবে, এবং এমন একটি স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে যা যুক্তরাজ্যের স্নাতকোত্তরে ভর্তির যোগ্যতা দেয়।
বাংলাদেশি আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি আটকান কাজের অভিজ্ঞতার শর্তে: স্নাতক শেষ করার পর অর্জিত অন্তত ২,৮০০ ঘণ্টা, এবং সেটা কমপক্ষে দুই বছর ধরে জমা হতে হবে। চলতি সেশনের জন্য Chevening নিজেই লিখেছে, এর মানে হলো আপনার স্নাতক অক্টোবর ২০২৪-এর মধ্যে শেষ হয়ে থাকতে হবে। পূর্ণকালীন চাকরি, খণ্ডকালীন চাকরি, স্বেচ্ছাসেবী কাজ, বেতনসহ বা বেতন ছাড়া internship — সবই গণনায় আসে, আর মোট হিসাব মেলাতে সর্বোচ্চ পনেরোটি আলাদা কাজের মেয়াদ যোগ করা যায়।

এর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের তিনটি আলাদা যোগ্য কোর্সে আবেদন করতে হবে, আর জুলাইয়ের সময়সীমার মধ্যে অন্তত একটি থেকে unconditional offer হাতে থাকতে হবে। বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই, আর আগে থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলেও আবেদন করতে বাধা নেই।
যাঁদের British বা দ্বৈত British নাগরিকত্ব আছে; যাঁরা আবেদনের সময় যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন; যাঁরা আগে যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে সেখানে পড়েছেন; কিংবা যাঁরা কোনো সরকারি দপ্তর, British Council বা Chevening-এর অংশীদার কোনো UK বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী, গত দুই বছরের মধ্যে সাবেক কর্মী, অথবা কর্মীর নিকটাত্মীয়। Chevening নিকটাত্মীয় বলতে বোঝায় বাবা-মা বা সৎ বাবা-মা, ভাইবোন বা সৎ ভাইবোন, সন্তান বা সৎ সন্তান, স্বামী-স্ত্রী বা civil partner।
GREAT Scholarship-এ কত টাকা, আর বাংলাদেশের জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে?
একটি GREAT Scholarship-এর মূল্য টিউশন ফি থেকে সর্বনিম্ন £১০,০০০ — ১৯ আগস্ট ২০২৬-এর হারে যা প্রায় ১৬.৫ লাখ টাকা — এক বছরের taught স্নাতকোত্তর কোর্সের জন্য। এটা জীবনযাত্রার খরচের scholarship নয়, থাকার খরচ বা ভিসা ফিও এতে আসে না। ফলে UK Student visa-র জন্য maintenance fund দেখানোর দায়িত্ব আপনার ওপরেই থাকে, ঠিক যেমন নিজের খরচে পড়তে যাওয়া যেকোনো শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে থাকে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে British Council Bangladesh-এর পাতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি স্নাতকোত্তর scholarship-এর কথা বলা আছে — Cranfield University, Leeds Arts University, University of Manchester, Ulster University, University of East Anglia, University of Glasgow ও University of Portsmouth-এ। মজার ব্যাপার হলো, British Council-এরই Study UK সাইটে বাংলাদেশের তালিকাটি আরও লম্বা, সেখানে Keele University আর University of Hull-ও যুক্ত আছে।
British Council-এর দুটি অফিশিয়াল পাতায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেখা যাচ্ছে। এটা scheme-টিকে অবিশ্বাস করার কারণ নয়, বরং মনে করিয়ে দেয় — সবসময় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব scholarship পাতা খুলে দেখে নিন সেখানে বাংলাদেশের নাম আছে কি না, আপনার কোর্সটি তালিকায় আছে কি না, আর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের শেষ তারিখ কবে। GREAT-এর একক কোনো deadline নেই; প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজেরটা ঠিক করে।
বিবেচিত হতে হলে আপনাকে বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ও স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের English language শর্ত পূরণ করতে হবে, এবং যুক্তরাজ্যে GREAT scholar-দের networking event-এ যোগ দিতে ও পরে scheme-এর ambassador হিসেবে কাজ করতে রাজি থাকতে হবে। টাকা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়, আর দেয় আপনার registration সম্পন্ন হওয়ার পর — তার আগে নয়, এবং কখনোই কারও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নয়।
Commonwealth Scholarship বাংলাদেশের জন্য কীভাবে কাজ করে, আর মনোনয়ন দেয় কে?
এখানেই বেশিরভাগ গাইড অস্পষ্ট হয়ে যায়, অথচ বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কাজের তথ্যটা এখানেই। agency-মনোনীত Commonwealth Master's Scholarship-এ Commission সরাসরি আবেদন নেয় না। আপনাকে একজন nominator-এর মাধ্যমে যেতে হবে — আর বাংলাদেশের জন্য Commonwealth Scholarship Commission-এর তালিকায় থাকা national nominating agency হলো উপসচিব (বৃত্তি), শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেকশন ১৯, ভবন নম্বর ৬, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। যোগাযোগ +৮৮০ ২ ৯৫৪৫০৩২ এবং [email protected], ওয়েবসাইট shed.gov.bd।
অর্থাৎ আবেদন একটি নয়, দুটি: একটি CSC-র online system-এ, আরেকটি nominating agency-তে — যারা নিজেদের বাছাই প্রক্রিয়া চালায়, বাড়তি শর্ত জুড়তে পারে এবং নিজেদের শেষ তারিখ ঠিক করে। agency-র সময়সূচি হাতছাড়া হলে নিখুঁত CSC আবেদনও কোথাও পৌঁছাবে না।
মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি বাদ দিয়ে আরেকটি পথও আছে। Commonwealth Shared Scholarship কম আয়ের Commonwealth দেশগুলোর প্রার্থীদের জন্য, আর এতে আবেদন করতে হয় সরাসরি Commission-এর নিজস্ব system CSC Central-এ — পাশাপাশি প্রকাশিত তালিকার কোনো একটি স্নাতকোত্তর কোর্সে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই জানালা নভেম্বরের মাঝামাঝি খুলে ডিসেম্বরের শুরুতে বন্ধ হয়েছে, তবে সঠিক তারিখ প্রতি বছর আলাদা করে ঘোষণা করা হয়।
CSC নিজের আবেদনের জন্য IELTS চায় না — যদিও আপনার বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় নিশ্চিতভাবেই চাইবে। CSC-র online system-এ আবেদন করতে কোনো ফি লাগে না, তাই Commonwealth আবেদন "প্রসেস" করার নামে কেউ টাকা চাইলে তাকে বিশ্বাস করবেন না। আর CSC-র আবেদনে বয়সের কোনো সীমা নেই।
Commonwealth Scholarship আসলে কত টাকা দেয়?
বেশিরভাগ মানুষ যা ভাবেন, তার চেয়ে বেশি। এই award সত্যিকার অর্থেই পূর্ণ — টিউশন ফির কোনো অংশ আপনাকে দিতে হয় না, আর জীবনযাত্রার ভাতাটাও দরকষাকষির বিষয় নয়, প্রকাশিত হারে দেওয়া হয়।
| খাত | পরিমাণ | আনুমানিক টাকা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| টিউশন ফি | পুরোটাই | — | নিশ্চিত |
| বিমান ভাড়া | যাওয়া-আসা | — | নিশ্চিত |
| মাসিক ভাতা (London-এর বাইরে) | £১,৩৭৮ | ২.২৮ লাখ | নিশ্চিত |
| মাসিক ভাতা (London এলাকা) | £১,৬৯০ | ২.৭৯ লাখ | নিশ্চিত |
| প্রথম সন্তানের ভাতা | £৫৯০ / মাস | ৯৭,৬০০ | একক অভিভাবক |
| শীতের পোশাক ভাতা | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে | — | ক্ষেত্রভেদে |
| MBA ডিগ্রি | দেওয়া হয় না | — | বাদ |
হারগুলো Commission-এর প্রকাশিত ও বর্তমান স্তরের। টাকার অঙ্ক ১৯ আগস্ট ২০২৬-এর £১ = ১৬৫.৩৬ টাকা হিসাবে, আর এই হার প্রতিদিন বদলায়। সন্তানের ভাতা প্রযোজ্য যখন scholar বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত বা একক অভিভাবক — প্রথম সন্তানের জন্য £৫৯০ এবং ১৬ বছরের কম বয়সী দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তানের জন্য মাসে £১৪৬, যদি তারা যুক্তরাজ্যে একই ঠিকানায় থাকে।
আপনার কোনটির পেছনে ছোটা উচিত?
ভালো প্রার্থীদের বেশিরভাগেরই একাধিক scholarship-এ আবেদন করা উচিত, কারণ যোগ্যতার শর্তগুলো প্রায় মেলেই না। তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতাসহ ২৬ বছরের একজন NGO programme officer Chevening-এর প্রার্থী। প্রথম শ্রেণির ফল নিয়ে সদ্য পাস করা, কাজের অভিজ্ঞতাহীন একজন শিক্ষার্থী নন — তবে নির্দিষ্ট কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি GREAT-এর শক্তিশালী প্রার্থী হতে পারেন।
| Scheme | কী কভার করে | অভিজ্ঞতা | শেষ তারিখ |
|---|---|---|---|
| Chevening | ফি, থাকা-খাওয়া, বিমান | ২,৮০০ ঘণ্টা | ৬ অক্টোবর ২০২৬ |
| GREAT | টিউশনের £১০,০০০ | উল্লেখ নেই | বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করে |
| Commonwealth Master's | ফি, থাকা-খাওয়া, বিমান | উল্লেখ নেই | মন্ত্রণালয় ঠিক করে |
| Commonwealth Shared | ফি, থাকা-খাওয়া, বিমান | উল্লেখ নেই | প্রতি বছর ঘোষণা |
- একটি essay লেখার আগে স্নাতক শেষ করার তারিখটা Chevening-এর সেশন-সীমার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- কাজের ঘণ্টা সৎভাবে হিসাব করুন — সপ্তাহ গুণ সাপ্তাহিক ঘণ্টা, শুধু স্নাতকের পরের সময়টুকু।
- যুক্তরাজ্যের তিনটি যোগ্য কোর্স বেছে নিন, আর প্রতিটির নিজস্ব ভর্তির শেষ তারিখ দেখে নিন।
- Transcript পুরোপুরি স্ক্যান করান; একটি পাতা বাদ পড়লেই CSC আবেদন সরাসরি অযোগ্য হয়ে যায়।
- দুই-তিনজন referee আগেভাগে ঠিক করুন — letterhead-এ, PDF ফরম্যাটে।
- Commonwealth Master's-এর সময়সূচি জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৃত্তি শাখায় যোগাযোগ করুন; এটা CSC-র সাইটে থাকে না।
- GREAT-এর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাতা আলাদাভাবে দেখে নিজের নিজের শেষ তারিখ মিলিয়ে নিন।
- IELTS এমন সময়ে দিন যাতে conditional নয়, unconditional offer হাতে আসে।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের হাত থেকে এসব scholarship চুপচাপ ফসকে যায় কেন?
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি, তাতে সমস্যা খুব কমই দুর্বল প্রার্থী। সমস্যা হলো শক্তিশালী প্রার্থী, যাঁর হাতে সময় ফুরিয়ে গেছে। সবচেয়ে পরিচিত ছবিটা হলো — সেপ্টেম্বরে এসে Chevening নিয়ে ভাবা শুরু, বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনো একটিও আবেদন জমা পড়েনি, ফলে পরের জুলাইয়ের মধ্যে unconditional offer পাওয়ার বাস্তব কোনো পথই থাকে না। দ্বিতীয় পরিচিত ছবিটা হলো, Commonwealth-এর প্রার্থী ধরে নিয়েছিলেন CSC-র deadline-ই একমাত্র deadline, আর nominating agency-র সঙ্গে কখনো যোগাযোগই করেননি।
এছাড়া থাকে কিছু এড়ানো যেত এমন কারিগরি ভুল — transcript-এর সব পাতা আপলোড না করা, reference PDF হিসেবে system-এ না দিয়ে ইমেইলে পাঠানো, স্নাতকের আগের কাজের অভিজ্ঞতা হিসাবে ধরা। এগুলোর কোনোটিই বিচার-বিবেচনার বিষয় নয়, নিছক checklist-এর ভুল। আর checklist ঠিক আছে কি না, সেটা এমন কারও সঙ্গে বসে মিলিয়ে নেওয়াই ভালো, যিনি আগে কয়েকটা সেশন কাছ থেকে দেখেছেন।
কাজে লাগানোর আগে যাচাই করুন। উপরের প্রতিটি তারিখ ও অঙ্ক ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে chevening.org, britishcouncil.org.bd, study-uk.britishcouncil.org এবং cscuk.fcdo.gov.uk থেকে নেওয়া। Scholarship-এর নিয়ম, ভাতার হার আর অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা সেশনভেদে বদলায়, আর CSC-র কিছু পাতায় এখনো আগের সেশনের লেখা রয়ে গেছে। এই লেখা তৈরির সময় বাংলাদেশের জন্য GREAT ২০২৭-২৮ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয় তালিকা প্রকাশিত হয়নি — বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তখনো scheme-এ যুক্ত হওয়ার আবেদন করছিল। কোনো সিদ্ধান্তের আগে অফিশিয়াল পাতায় মিলিয়ে নিন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৭ এবং UK student visa-র শর্ত ও কাগজপত্রের তালিকা ২০২৭। £১০,০০০-এর award-এ আপনার পুরো ঘাটতি মিটে যাবে ধরে নেওয়ার আগে যুক্তরাজ্যে থাকার বাস্তব খরচ দেখে নিন, আর ডিগ্রির পরের ভাবনা থাকলে Graduate Route পড়ুন।
অফিশিয়াল সূত্র: Chevening application timeline ও Commonwealth Master's Scholarships।
কোনটির জন্য আপনি আসলে যোগ্য, বুঝতে পারছেন না?
Transcript, CV আর স্নাতক শেষ করার তারিখ নিয়ে আমাদের অফিসে আসুন — এক বসাতেই তিনটি scheme-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখিয়ে দেব। কাজের ঘণ্টার হিসাব, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ধরলে সময়মতো unconditional offer পাওয়ার বাস্তব সুযোগ থাকে, আর এই সেশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পথটা ধরার মানে আছে কি না — সবই। Eduvisa-র শিক্ষার্থীরা আমাদের খোঁজ পান দেশে পৌঁছানোর অনেক পরেও, শুধু ভিসার সিল পড়া পর্যন্ত নয়।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →


